স্বদেশ জুড়ে

ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: উখিয়া উপজেলার পালংখালী আন্জুমান পাড়া দিয়ে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নেমেছে। গত রাত অর্থাৎ ১ নভেম্বর রাত থেকে থেকে প্রায় ৫ হাজারের বেশী রোহিঙ্গা এই পয়েন্ট প্রবেশ করেছে।

কিন্তু তাঁরা একদিন নোম্যান্স ল্যান্ডের নাফ নদীর বেড়ী বাঁধে অবস্থান করছেন। এ রিপোর্ট লেখা অবধি নতুন রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ৩৪ বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক মেজর ইকবাল জানিয়েছেন অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গারা সংখ্যা আড়াই থেকে ৩ হাজার। তাদেরকে নো ম্যান্স ল্যান্ডে রাখার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তাদের তল্লাশি শেষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাঠানো হবে।

স্থানীয় মেম্বার সুলতান আহমেদ জানান অনুপ্রবেশকৃত ৩ হাজার রোহিঙ্গারা বেড়ীবাঁধে অবস্থান করছেন।

এছাড়া শাহপরীরদ্বীপের কয়েকটি পয়েন্ট থেকে ভোর রোহিঙ্গা নারী পুরুষ এপারে ঢুকেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা আরো জানান, তাদের নাম ঠিকানা তালিকাভুক্ত করছেন প্রশাসন। শাহপরীর দ্বীপে দায়িত্ব প্রাপ্ত এসআই নাজমুল আলম জানান, সকাল থেকে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা নারী পুরুষ শাহপরীর দ্বীপ হয়ে এপারে ঢুকেছে।

রাখাইনের বুচিডং মনিবিল এলাকার কালা মিয়ার ছেলে হোছন ও জাফর আলম জানান, তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছেন এগারো দিন পূর্বে। নদী নালা, খাল বিল ও পাহার – পর্বত পার করে বুধবার রাতে বাংলাদেশে ঢুকেন। তারা জানান, মিয়ানমার সেনা ও পুলিশ তাঁদের এনভিসি কার্ড দিচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁরা বলছেন রোহিঙ্গাদের কোন সম্পদ দাবী করতে পারবেনা । সেনারা যেখানে নিয়ে যান, রোহিঙ্গাদের সেখানে যেতে হবে।

এ কার্ড ছাড়া বাহির হলে রোহিঙ্গাদের চলে অমানবিক অত্যাচার। একই এলাকার মোঃ খলিল জানান, প্রত্যেক পরিবার হতে প্রতি সপ্তাহে তিন দিন করে বিনা পয়সা মিয়ানমার পুলিশ ও সেনাদের কুলি বা শ্রম ব্যায় করতে হয়। অনিহা প্রকাশ করলে ভয়াবহ অত্যাচার চালায়। তাই তারা নিরপদ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন। মনিবিলের ফজল আহমদের মেয়ে ছবুরা খাতুন (৭৫) জানান, বৃদ্ধা বয়সে সুখ- শান্তির জন্য অর্ধমাস কষ্ট করে এপারে চলে আসেন।

পালিয়ে আসা একাধিক রোহিঙ্গারা জানান, মিয়ানমার সেনাবাহনী এখনো তাঁদের ধরণ পরিবর্তন করে নির্যাতন চালাচ্ছে। তারা আরো জানান, মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গাদের বাধ্য করে এনভিসি (ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড) কার্ড দিতে বাধ্য করছেন। এ কার্ড নিতে অনিহা করলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়েদেন সেনারা।

বিজিবির মেজর ইকবাল রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে বলেন, ওপারে রোহিঙ্গাদের জিবন যাপন বেশ দুরূহ হয়ে উঠেছে। তাদের স্বাধিন মতো বিন্দুমাত্র কোন কিছুই করতে পারছেন না। এ পারে ভালো জীবন যাপনের খবর পেয়ে এপারে চলে এসেছেন। তিনি আরো বলেন, ওপারের সীমান্তে রোহিঙ্গাদের অবস্থান নেই। তবে রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, এপারে আরো আসার অপেক্ষা করছেন।

এদিকে গত তিন দিন থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়া রোহিঙ্গাদের মানবেতর দিন কেটেছে বলে জানান রোহিঙ্গারা। সবচেয়ে পয়:নিষ্কাশনে ভোগান্তিতে পড়েছেন আশ্রিত রোহিঙ্গারা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close