যুক্তরাজ্য জুড়ে

বৃটিশ রাজনীতিকদের যৌন কেলেঙ্কারি: সহকর্মীর স্ত্রীদেরও রেহাই দেননি প্রধানমন্ত্রী হেনরি অ্যাসকুইথ

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: মন্ত্রীসহ ৩৬ বৃটিশ এমপির বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির প্রথম শিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন। তিনি একজন নারী সাংবাদিক জুলিয়া হার্টলে ব্রুয়ারের উরু স্পর্শ করার অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন। বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন সব রসালো কাহিনী। তাতে অনেক এমপি জড়িত। এ নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টরে এখন ঝড়ো বাতাস। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে কাউকে ছাড় দেবেন না- এমন আভাস দিয়েছেন।

তবে অতীতেও যৌন কেলেঙ্কারি বৃটেনে ছিল। সেসব কেলেঙ্কারি ছিল এর চেয়েও ভয়াবহ। ডোমিনিক স্যান্ডব্রুক প্রশ্ন রেখেছেন, যদি ভিক্টোরিয়ার সময়ের লর্ড পালমারস্টোনের যৌন কেলেঙ্কারির কাহিনীর মতো কোনো ঘটনা এখন প্রকাশ পেতো তাহলে ওয়েস্টমিনস্টর প্রেস কোর সে বিষয়ে কি করতো, তা ভেবেই আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। ওই লর্ড পালমারস্টোনতো তার ৫০-এর কোটায় যখন বয়স, তখন তিনি উইন্ডসোর রাজপ্রাসাদে অবস্থান করতেন রানীর সঙ্গে। রানীর সেবা করার জন্য যেসব নারী বা যুবতী ছিলেন একদিন তাদের বেডরুমে প্রবেশ করেন লর্ড পালমারস্টোন। সেখান থেকে তখনই তিনি বেরিয়ে আসেন, যখন ওই যুবতী সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। বিষয়টিতে সজাগ হয়েছিলেন পালমারস্টোন। তবে তা তাকে তার পথ থেকে ফেরাতে পারেনি। তিনি নিজে এসব নিয়ে ডায়েরি লিখেছেন। তাতে তিনি নারী সঙ্গ ভোগ করা নিয়ে লিখেছেন, ‘এ ফাইন নাইট ইন দ্য গার্ডেন উইথ ই’।

অর্থাৎ ‘ই’-এর সঙ্গে বাগানে চমৎকার একটি রাত কাটালাম। এখানে উল্লেখ্য, তিনি ইংরেজি ‘ই’ অক্ষর দিয়ে তার রক্ষিতা বা মিস্ট্রেট ইমিলি কোপারকে বুঝিয়েছেন। পরের বছরগুলোতে তিনি পরিচিতি পান ‘লর্ড কিউপিড’ নামে। কিউপিড হলেন রোমান পুরাণে বর্ণিত প্রেমের দেবতা। রিপোর্ট আছে, তার বয়স যখন ৮০ বছর, তখন তিনি বিলিয়ার্ড টেবিলের ওপর এক নারী গৃহকর্মীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময়ে মারা যান। আর বর্তমান সময়ে নির্লজ্জ যৌন শিকারীরাও অসহায় নারীদের তাদের শিকারে পরিণত করেন। বাস্তবতা হলো, রাজনীতি ও বোধহীনতা সব সময় হাতে হাত ধরে চলেছে। বৃটিশ মিডিয়ায় এমনটাই লেখা হচ্ছে। তাতে বলা হচ্ছে, কনজারভেটিভ দলের সাবেক এমপি ম্যাথিউ প্যারিস একটি স্মৃতিকথা লিখেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, রাজনীতিবিদদের হতে হয় প্রিয়জন। সবাইকে ভালোবাসতে হয়। পরিবারের আপন হতে হয়। কিন্তু বাস্তবে তারা ঝুঁকি নেন।

সাংবাদিক ডোমিনিক লিখেছেন, আমি মনে করি তিনি ঠিকই লিখেছেন। তাই আমি ওই সব পুরুষের দিকে চোখ ফেরাবো, যারা বিংশ শতাব্দীর প্রথম দুই দশকে বৃটেনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯০৮ সালের পর আটবছর বৃটেনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন লিবারেল প্রধানমন্ত্রী হারবার্ট হেনরি অ্যাসকুইথ। তিনি এখনকার এই পরিবেশ হলে একসপ্তাহের বেশি হয়তো ক্ষমতায় টিকতেন না। তিনি বিয়ে করেছিলেন মারগোটকে। তার সঙ্গে হেনরির ছিল চমৎকার দাম্পত্য। ৫টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মারগোট। একবার তাকে একজন চিকিৎসক পরামর্শ দিলেন।

বললেন, তার স্বাস্থ্য ভালো নেই। তাই তিনি যেন আলাদা বেডরুমে ঘুমান। এর ফলে ওয়াল্ড-ক্লাস যৌন নিপীড়ক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে শুরু করেন হেনরি অ্যাসকুইথ। তার এমন আচরণে নিজের সহকর্মীদের স্ত্রীরা পর্যন্ত রেহাই পাননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের স্ত্রী ক্লেমি অভিযোগ করেছেন, হেনরি অ্যাসকুইথ সব সময়ই তার পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করতেন। বিশিষ্ট নাগরিক লেডি অটোলিন মোরেল একবার রিপোর্ট করেন।

তিনি বলেন যে, কোনো নারী তার সঙ্গে সোফায় বসলে হেনরি তার হাতখানা নিজের হাতে নিয়ে নিতেন। ট্রাউজারের ভেতরে উত্তেজিত শারীরিক অবস্থা অনুভব করাতেন ওই নারীকে। তবে সবকিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন হেনরি অ্যাসকুইথ। তিনি নিজের মেয়ের বান্ধবী ভেনেটিয়া স্ট্যানলির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। স্ট্যানলি তার চেয়ে ৩৫ বছরের ছোট। তাকে প্রেমপত্র লিখতেন হেনরি অ্যাসকুইথ। এমন কি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন বৃটেনের সামরিক বাহিনীর করণীয় নিয়ে পরিকল্পনা করতেন তখনো মন্ত্রিসভার বৈঠক চলার সময় তিনি রগরগে নোট লিখতেন ভেনিটিয়া স্ট্যানলিকে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close