যুক্তরাজ্য জুড়ে

ব্যাপক সমালাচনার পর পদত্যাগ করলেন প্রীতি প্যাটেল: বৃটিশ রাজনীতিতে বইছে ঝড়

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বৃটিশ রাজনীতিতে তোলপাড়। একের পর এক আঘাতে দৃশ্যত অনেকটাই বিব্রতকর অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। একদিকে এমপি, মন্ত্রীদের যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ।

আর সেই অভিযোগে পদত্যাগও করে ফেলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যার মাইকেল ফ্যালন। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পাড় না হতেই আরেক ধাক্কা। এবার পদত্যাগ করেছেন তার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল।

দিনভর নাটকীয়তার পর অবশেষে সরে দাঁড়ালেন ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার এই প্রভাবশালী মন্ত্রী। ইসরাইলি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের খবর গোপন করার অভিযোগ মাথায় নিয়ে বুধবার (৮ নভেম্বর) লন্ডন সময় সন্ধ্যায় তিনি পদত্যাগ করেন।

জানা গেছে, সরকারি সফরে আফ্রিকায় ছিলেন প্রীতি প্যাটেল। সেখান থেকে তাকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরত আসতে বলা হয়। দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তাকে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে ডেকে পাঠান। এর পরপরই তিনি ব্রিটেনের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকের কথা গোপন করেন। আর এ কারনে তাঁর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে ব্রিটেনের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে।

গত সপ্তাহে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রীতি দাবি করেন, ব্রিটেনের ফরেন অফিস বৈঠকগুলোর বিষয়ে জানত। কিন্তু ফরেন অফিস জানায়, তারা এসব বৈঠকের বিষয়ে অবগত ছিল না। ইসরায়েলে নিযুক্ত ব্রিটেনের দূতাবাসকেও এসব বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়নি। প্যাটেল নিজের ভুল স্বীকার করে গত মঙ্গলবার ক্ষমা চেয়েছেন। এতে বিতর্ক আরও জোরালো হয়।

এরপরই ক্রমশ চাপ বাড়ছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের পদত্যাগের। এ ছাড়া বৃটেনে সন্ত্রাসী হামলার রয়েছে বড় ঝুঁকি। সবকিছু মিলিয়ে জেরবার প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। বৃটিশ মিডিয়া রিপোর্ট দিচ্ছে, এরই মধ্যে সরকার ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিযেছে। প্রীতি প্যাটেল পদত্যাগ করেছেন সরকারের অগোচরে ইসরাইলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা নিয়ে। বিতর্কিত গোলান উপত্যকা সফর করেছেন তিনি।

ইসরাইলের সেনাবাহিনীকে বৃটেনের আর্থিক সহায়তা দেয়া উচিত বলেও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি গোপন আলোচনা করেছেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইসরাইল সফরে গিয়ে তিনি সেখানকার রাজনৈতিক নেতা ও লবিস্টদের সঙ্গে সাক্ষাতে এসব কথা বলেছেন। একই রকম অভিযোগ আছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরুদ্ধে। বরিস জনসনের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনও অটল আছেন। ঝরে গেছেন প্রীতি প্যাটেল।

তবে তিনি ঝরে গেছেন মানে তিনি শেষ হয়ে যান নি। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’কে সতর্ক করে দিয়েছেন। বলেছেন, তিনি ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ায় তার জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়াবেন। এ ঘটনায় প্রীতি প্যাটেলের আফ্রিকা সফর বাতিলের নির্দেশ দেন তেরেসা মে। তার প্রেক্ষিতে তিনি বুধবার দিবাগত রাতে পদত্যাগ করেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াুহুর সঙ্গে তার যে সাক্ষাত হয়েছিল তা জানতেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা। তবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট এ বিষয়টি স্বীকার করছে না।

ব্রিটেনের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রীতি প্যাটেলের পদত্যাগ থেরেসা মে’র সরকারকে আরও একদফা বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে।

এর আগে, কথিত যৌন কেলেঙ্কারির জের ধরে গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন। এরও আগে একই অভিযোগে দু’জন এমপিকে দল থেকে বরখাস্ত করে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। এছাড়া, যৌন হয়রানির অভিযোগে তদন্ত চলছে উপ-প্রধানমন্ত্রী ডোমিয়ান গ্রিনসহ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী ও এমপির বিরুদ্ধে। এমন প্রতিকূল সময়ে আরেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র নেতৃত্বকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে ইসরাইলে যান প্রীতি। ওই সময় দুই দিনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে মোট ১২টি বৈঠক করেন তিনি। সেখান থেকে ফিরে প্রীতি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর জন্য যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সাহায্যের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেন।

গত সপ্তাহে প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রীতি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতর ইসরায়েলে তার অংশ নেওয়া বৈঠকগুলোর বিষয়ে জানত। তবে পররাষ্ট্র দফতর জানায়, তারা এসব বৈঠকের বিষয়ে অবগত ছিল না। ইসরাইলে যুক্তরাজ্যের দূতাবাসকেও এসব বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়নি। নিজের ভুল স্বীকার করে প্রীতি গত মঙ্গলবার ক্ষমা চাইলে বিতর্ক আরও জোরালো হয়। আচরণবিধির চরম লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে বিষয়টিতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও প্রীতির পদত্যাগের দাবি তোলে বিরোধী দল লেবার পার্টিও।

বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, গত আগস্ট মাসে ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে ইসরায়েলে যান প্রীতি প্যাটেল। ওই সময়ে দুই দিনে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে মোট ১২টি বৈঠক করেন। ওই সব বৈঠক থেকে ফিরে প্রীতি ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর জন্য যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সাহায্যের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেন। গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি সেনাদের পরিচালিত মানবিক সেবা কার্যক্রমের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিজ দপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন। ১৯৮১ সালে সিরিয়ান ভূখন্ড গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরায়েল। দখলকৃত এই ভূমিকে ইসরায়েলের বলে স্বীকার করে না যুক্তরাজ্য। প্রীতির সুপারিশ ওই সব গোপন বৈঠকের প্রভাব বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকগুলোতে প্যাটেলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঘোর ইসরায়েলপন্থী হিসেবে পরিচিত কনজারভেটিভ পার্টির প্রভাবশালী রাজনীতিক লর্ড পোলক। প্রীতি প্যাটেলও ইসরায়েল রাষ্ট্রের একজন গোঁড়া সমর্থক। কনজারভেটিভ দলের তহবিলের বড় জোগানদাতা ‘কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল’ এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন প্রীতি।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সঙ্গে মাত্র ৬ মিনিট কথা হয়। এরপরই প্রীতি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এতে তিনি লিখেছেন, একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে যেমনটা আশা করা যায়, তার কার্যক্রম সেই মানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

ভারতীয়-উগান্ডান বংশোদ্ভূত প্রীতি প্যাটেল ২০১০ সালে লন্ডনের কাছের উইথ্যাম এলাকা থেকে এমপি নির্বাচিত হন। বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তিত্ব দিয়ে তিনি দ্রুত মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই করে নেন। ২০১৬ সালে থেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকে ডিএফআইডি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। এ বিভাগ বৈদেশিক সাহায্য তহবিলের দেখভাল করে। ব্রিটেন বছরে জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বিভিন্ন দেশের মানবিক সেবায় সাহায্য হিসেবে দিয়ে থাকে। চলতি বছর এই সাহায্য তহবিলের পরিমাণ প্রায় ১৪ বিলয়ন পাউন্ড।

যৌন কেলেঙ্কারির জের ধরে গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন। একই অভিযোগে দুজন এমপিকে দল থেকে বরখাস্ত করেছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল। যৌন হয়রানির অভিযোগে তদন্ত চলছে উপপ্রধানমন্ত্রী ডোমিয়ান গ্রিনসহ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী ও এমপির বিরুদ্ধে। এমন অস্থির সময়ে ডিএফআইডি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আচরণ ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের নড়বড়ে নেতৃত্বকে আরও ঝুঁকিতে ফেলল।

আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন দাবি করে বিষয়টিতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত দাবি করেছে লেবার পার্টি। প্যাটেলকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দল বলছে, তিনি যা করেছেন তাতে পদত্যাগ করাটাই হবে যৌক্তিক পরিণতি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close