বিনোদন

প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারিতে তারকারা

বিনোদন ডেস্ক: বিনোদন জগতের একগুচ্ছ নাম। এর মধ্যে আছেন দুনিয়া কাঁপানো অভিনেত্রী, গায়িকা ম্যাডোনা, গায়ক-অভিনেতা জাস্টিন টিম্বারলেক, অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান, কলম্বিয়ার বেলি-ড্যান্সার সংগীতশিল্পী শাকিরা, আরো আছেন সম্প্রতি যৌন কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত প্রযোজক হারভে উইন্সটেন। অপসোর কোম্পানিতে এদের সবার বিনিয়োগ আছে। এ কথা ফাঁস করেছে প্যারাডাইস পেপারস। বিশেষত অপসোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার অর্থ বোঝায় কর ফাঁকি দেয়া। একে অর্থনীতি বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

এর আগে এমনই এক কেলেঙ্কারিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাতে হয়েছে নওয়াজ শরীফকে। বিনোদন জগতের এসব শীর্ষ স্থানীয় তারকারা রয়েছেন এবারের তালিকায়। এর মধ্যে বারমুডাভিত্তিক অধুনালুপ্ত সায়েন্টিয়া হেলথ গ্রুপ লিমিটেডে বিনিয়োগ করেছিলেন হারভে উইন্সটেন। ২০০১ সালের নভেম্বরে ওই কোম্পানির ২০০০ শেয়ার কিনেছিলেন তিনি।

তবে কন্টাক্টের জন্য নিজের নামের পরিবর্তে তিনি নাম দিয়েছিলেন রিচার্ড কোয়েনিগসবার্গ-এর। উইন্সটেন কোম্পানিতে অন্যতম একজন পরিচালক ছিলেন। গত মাসে হলিউড মুঘল হারভে উইন্সটেনের বিরুদ্ধে অভিনেত্রীসহ অর্ধ শতাধিক নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ করার পর হারভে উইন্সটেনকে বরখাস্ত করেন রিচার্ড কোয়েনিগসবার্গ।

তবে সায়েন্টিয়ার শেয়ারগুলো উইন্সটেন বিক্রি করে দিয়েছেন কিনা তা জানা যায় নি। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো উত্তর দেন নি। এই অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন লাইফস্টাইল গুরু বলে পরিচিত মার্থা স্টিওয়ার্ট। তিনিও সায়েন্টিয়া’য় বিনিয়োগ করেছিলেন। এই সায়েন্টিয়া কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সামুয়েল ওয়াকসাল।

ওই সময়ে তিনি ছিলেন আইঅ্যামক্লোন-এর প্রধান নির্বাহী। ওয়াকসালের কোম্পানি থেকে শেয়ার কিনেছিলেন মার্থা স্টিওয়ার্ট। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে ‘আইঅ্যাম ক্লোন’ কোম্পানির কাছে তিনি ২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রতিকূল একটি রুল দেয়ার ঠিক একদিন আগে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। নিজের লেনদেনে ভীষণ গরমিল থাকার কারণে মার্থা স্টিওয়ার্ট ও সামুয়েল ওয়াকসাল দু’জনকেই জেলে যেতে হয়।

তবে ঐতিহাসিক বারমুডা বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান স্টিওয়ার্ট। নীল পর্দায় কোটি কোটি দর্শক, শ্রোতার মন এখনও কেড়ে নেন যে ‘ম্যাটেরিয়াল গার্ল’ সেই ম্যাডোনাও এ কাজে জড়িত। ৭০ লাখ ডকুমেন্টের ৩১ নম্বর পৃষ্ঠায় তার সম্পর্কে তথ্য রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, তার নামের শেষাংশ প্রথমে এবং প্রথম অংশ শেষে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এতে তার পরিচয় হলো- সিক্কোনি, ম্যাডোনা। এর ফলে প্রথম দফায় ধরে নেয়া হয়, এই নামটি হলো ম্যাডোনা লুইস সিক্কোনি। এত্ত বড় নামে নয়, তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলেন ম্যাডোনা নামে।

এতে সিক্কোনি, ম্যাডোনার যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে তা সন্দেহকে আরো বাড়িয়ে দেয়। সেই ঠিকানা হলো ম্যানহাটানে ‘প্রোভিডেন্ট ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট’। এখান থেকেই ম্যাডোনার সব সফর ও গানের পারফরমেন্সের ব্যবস্থাপনা করা হয়। এ অফিসটি ‘কুইন অব পপ’ ম্যাডোনার জন্য এতদিন কাজ করছে।

ফলে কারো আর বুঝতে বাকি থাকে নি, এই সিক্কোনি, ম্যাডোনা হলেন অভিনেত্রী, সংগীতশিল্পী ম্যাডোনাই। ফাঁস হওয়া ফাইলে দেখা যায়, ১৯৯৮ সালে সেফ গার্ড মেডিকেল লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির ২০০০ শেয়ার কিনেছিলেন ম্যাডোনা। কোম্পানিটি বারমুডাভিত্তিক। গানের মানুষ, অভিনয়ের মানুষ ম্যাডোনা। তিনি কেন একটি ওষুধ উৎপাদনের কারখানায় বিনিয়োগ করতে গেলেন? এই প্রশ্নেই তার কর ফাঁকি দেয়ার সন্দেহ ঘনীভূত হয়।

ওই কোম্পানিটি ২০১৩ সালে বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু তার আগেই ম্যাডোনা কি তার শেয়ার বিক্রি করেছিলেন কিনা তা জানা যায় নি। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ম্যাডোনা। অন্যদিকে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা জাস্টিন টিম্বারলেক। তিনি ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দেলাওয়ারে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। তার রেকর্ড লেবেল টেনম্যান রেকর্ডস-এর মতো একটি নাম দেন তার। প্যারাডাইজ পেপারসে দেখা যায়, টিম্বারলেক ওই কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং মূল সদস্য। আর এতে তার লস অ্যানজেলসভিত্তিক অ্যাকাউন্টেন্ট মাইকেল ড্রেয়ার দায়িত্ব পালন করতে থাকেন ম্যানেজার হিসেবে। এই কোম্পানিটির উদ্দেশ্য ছিল বাহামায় রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা করা। কোম্পানি প্রতিষ্ঠার চার মাসের মাথায় জাস্টিন টিম্বারলেক তার কোম্পানিকে বাহামার একটি বিদেশি কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত করান। তিনি কেন বাহামায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করতে গেলেন এ বিষয়টি পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে জাস্টিন চিম্বারলেক মুখ খুলতে রাজি নন।

ওদিকে অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান ও তার সংগীতশিল্পী স্বামী কিথ আরবান তাদের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি লিমিটেড কোম্পানিকে বাহামার একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখান ২০১৫ সালের মার্চে। এর মাধ্যমে তারা আয়কর ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করেছেন। যদি তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভিতরে এই কাজ করতেন তাহলে তাদেরকে শতকরা ৩৯.৬ ভাগ হারে আয়কর দিতে হতো। পশ্চিমা দুনিয়ার এ সময়ের ভীষণ জনপ্রিয় গায়িকা হলেন কলম্বিয়ার শাকিরা। প্যারাডাইস পেপারসে তার নামও আছে। তাতে তার পুরো নামই লেখা। তা হলো শাকিরা ইসাবেল মেবারেক রিপোল। মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রথম গানের অ্যালবাম বের করেছিলেন শাকিরা।

আর তিনি এরই মধ্যে অভিজাত গ্রামি অ্যাওয়ার্ডও জিতেছেন। প্যারাডাইস পেপারসে তাকে দেখা গেছে তিনি বাহামার অধিবাসী, যদিও তিনি বসবাস করেন বার্সেলোনায়। মাল্টাভিত্তিক কোম্পানি টার্নেসল লিমিটেডের একমাত্র শেয়ারহোল্ডার হলেন শাকিরা। এ কোম্পানিটির শেয়ার মূলধন রয়েছে ৩০ লাখ ইউরো। একক শেয়ারহোল্ডার হওয়ার অর্থ হলো কোম্পানিটির একমাত্র মালিক শাকিরাই। মাল্টা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। অভিযোগ আছে, এই দেশটিকে আয়কর ফাঁকি দেয়ার এক স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলা হয়েছে।

প্যারাডাইস পেপারস বলছে, ২০০৯ সালের জুনে শাকিরা তার সংগীত বিষয়ক সম্পদ, সম্পত্তির অধিকার ও ট্রেডমার্ক স্থানান্তর করেন টার্নেসোল কোম্পানিতে। বিভিন্ন সময়ে এতে অর্থ যোগ করে বিশাল অঙ্কের অর্থের পাহাড় সেখানে গড়েছেন শাকিরা। শাকিরা বসবাস করেন বার্সেলোনায় তাহলে ওই ডকুমেন্টে তার ঠিকানা কেন বাহামা লেখা? এমন প্রশ্নের জবাবে তার আইনজীবী বলেছেন, শাকিরা একজন খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী। তাকে বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতে হয়। তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে আইন মেনে চলেছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close