জাতীয়

এসকে সিনহার পদত্যাগ: পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা পদত্যাগ করেছেন। শনিবার দুপুরে বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানানো হয়। প্রধান বিচারপতির এস কে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। শনিবার (১১ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, শনিবার এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে এসেছে। শুক্রবার সিঙ্গাপুর থেকে কানাডা রওনা হওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রেসিডেন্ট বরাবরে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। হাইকমিশনের মাধ্যমে এটি বঙ্গভবনে পৌঁছায়। এর আগে চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে গত সোমবার রাতে সিঙ্গাপুরে পৌঁছান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনও প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা এটাই প্রথম। শুক্রবার ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এসকে সিনহার ফেরা না ফেরা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এরই মধ্যে সরকারের তরফে জানিয়ে দেয়া হয় তিনি না ফেরা পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।

এর আগে গত ২রা অক্টোবর এক মাস ছুটির কথা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বরাবর চিঠি পাঠান প্রধান বিচারপতি। এর মেয়াদ ছিল ১লা নভেম্বর পর্যন্ত। ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রধান বিচারপতির ১৩ই অক্টোবর বা কাছাকাছি সময়ে বিদেশে যাওয়ার এবং ১০ই নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে থাকার ইচ্ছা পোষণের বিষয়টি অবহিত করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মাধ্যমে চিঠি পাঠান। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় ১২ই অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে।

গত ১৩ই অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় যান বিচারপতি সিনহা। সেখানে তার বড় মেয়ে সুচনা সিংহা থাকেন। যাওয়ার আগে নিজের সরকারি বাসভবনের সামনে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি সম্পূর্ন সুস্থ আছেন। ছুটি শেষে দেশে ফিরে আসবেন। এসম বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এসকে সিনহা অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কয়েক দিন পর তার স্ত্রী সেখানে যান।

এদিকে কানাডায় এসকে সিনহার ছোট মেয়ে থাকেন। তিনি তার বাসাতেই উঠবেন বলে তার ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ২০১৫ সালের ১৭ই জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাওয়া বিচারপতি এসকে সিনহার চাকরির মেয়াদ ছিল আগামী ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সরকারি দলের সমালোচনার মুখে পড়েন এসকে সিনহা। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জাতীয় সংসদে প্রধান বিচারপতির তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন এমপিরা। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তুলেন তারা। আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়ায় নতুন আলোচনা শুরু হয়। অসুস্থতার কারণে ছুটি নিলেও বিদেশ যাওয়ার আগে নিজেকে সুস্থ দাবি করে দেয়া এসকে সিনহার বক্তব্য ঘিরেও ছিল নানা প্রশ্ন।

এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমি আপনাদের কাছ থেকে শুনেছি। আমি এখনও নিজে এ সম্পর্কে কিছু জানি না। এজন্য কোনও মন্তব্য করতে পারছি না।

প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা হয়তো সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ সম্পর্কে অবগত আছেন। ৯৭ অনুচ্ছেদে আছে যে, প্রধান বিচারপতি যদি অনুপস্থিত, অসুস্থ বা অন্য কোনও কারণে তার কার্যভার পালন করতে না পারেন সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত পদত্যাগপত্রের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি থাকবেন।

শুক্রবার (১০ নভেম্বর) মধ্যরাতে একটি বেসরকারি চ্যানেলের খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এসকে সিনহা। এ ব্যাপারে জানার জন্য ফোন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি এখনও এ বিষয়ে কিছু জানি না।

আর এ ব্যাপারে জানার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার পরিবারের একজন সদস্য জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল অসুস্থ। তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না।

প্রধান বিচারপতি সিনহার এক মাসের ছুটি শুক্রবার শেষ হয়েছে। ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর তিনি অস্ট্রেলিয়া যান।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close