আরববিশ্ব জুড়ে

যেকোন মুহূর্তে সৌদি-লেবানন যুদ্ধ: ভয়াবহ বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সৌদি এবং লেবাননের মধ্যেকার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির পদত্যাগের পর থেকেই এই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। ফলে যেকোন মুহূর্তে যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনি৷

তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধলে তা এখন ভয়াবহ আকার নিতে পারে। সৌদি আরব, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে৷ সেক্ষেত্রে এখানে যাতে কোনওভাবেই যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়৷ সেই বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন৷

এদের মধ্যে একটি ছিল ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হিজবুল্লা গোষ্ঠী, অন্যটি সৌদি আরবের সমর্থন পাওয়া হারিরির সুন্নিপন্থী দল। এখন হিজবুল্লাই গোটা লেবাননের দখল নিয়ে বসে আছে বলে ইস্তফা দেওয়ার দিন সুর চড়িয়েছিলেন লেবাননের প্রাইম মিনিস্টার হারিরি। কূটনৈতিক মহলের দাবি, এর পরই সৌদির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। তবে, যদি সত্যিই যুদ্ধ বাঁধে সৌদি-ইরানের, তাতে লেবাননকেই ভুগতে হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

সৌদি-লেবানন সঙ্কটের মধ্যে হঠাৎ রিয়াদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট!

সৌদি আরব এবং লেবাননের মধ্যে সঙ্কট ঘনীভূত হবার প্রেক্ষাপটে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই রিয়াদ সফরে গিয়েছেন।

এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সফর এসেছে রিয়াদে অবস্থানকালে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সা’দ হারিরির পদত্যাগের কয়েক দিন পরেই। পদত্যাগের কারণ হিসেবে সা’দ হারিরি বলেন যে তার জীবনের ওপর হুমকি রয়েছে। খবর বিবিসির।

লেবাননের ইরানপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বলেছে, সৌদি আরবের চাপের মুখেই সা’দ হারিরি পদত্যাগ করেছেন। লেবাননের সাথে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত লেবানন ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। রিয়াদ যাবার আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন যে সকল লেবানিস নেতার স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।

‘যারা কোন নেতার জীবনের প্রতি হুমকি হতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে,’ বলেন তিনি। সা’দ হারিরির কথিত ‘জীবননাশের ষড়যন্ত্র’ নিয়ে কোন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হারিরির বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তাকে রিয়াদে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলেও গুজব রয়েছে।

এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন তার সাথে হারিরির অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে, তবে কোন বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি। অন্যদিকে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, হারিরি স্বাধীনভাবে ঘোরা-ফেরা করতে পারছেন। এরই মধ্যে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন সা’দ হারিরিকে দেশে ফেরত দেবার দাবী জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

লেবাননের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বলেছে প্রেসিডেন্ট আউন লেবাননে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে হারিরির পদত্যাগের প্রেক্ষাপট গ্রহণযোগ্য নয়। শনিবার একটি ভিডিও বার্তায় সা’দ হারিরি হিজবুল্লাহ এবং ইরানকে সমালোচনা করেন।

অনেকে আশংকা করছেন, সুন্নি-প্রধান সৌদি আরব এবং শিয়া-প্রধান ইরানের মধ্যে চলমান বিবাদে লেবাননও জড়িয়ে যেতে পারে। সৌদি আরব ইতোমধ্যেই লেবানন থেকে তার সকল নাগরিককে চলে যাবার নির্দেশ দিয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, সৌদি আরবের কাছ থেকে ইরান সম্পর্কে বেশ কঠোর মতামত তিনি শুনেছেন, যার সাথে তার নিজস্ব মতামত মেলে না।

এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইরানের সাথে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির বড় সমর্থক, যেটা সৌদি আরব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে। সা’দ হারিরির পদত্যাগের পর থেকে ইরান, সৌদি আরব এবং লেবাননের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত শনিবার ইয়েমেন থেকে রিয়াদের বিমান বন্দর লক্ষ্য করে দূর-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের অভিযোগ তোলে। সৌদি আরব বলছে, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করে, যেটা ইরান সরবরাহ করেছিল।

ইরান সৌদিদের এই অভিযোগ বানোয়াট এবং বিপজ্জনক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close