যুক্তরাজ্য জুড়ে

বৃটিশ রাজনীতিকদের যৌন কেলেঙ্কারি: মুখ খুললেন নাইজেল ফারাজের এক দশকের রক্ষিতা আনাবেলে ফুলার

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: এক সময়ের স্পিচ রাইটার ও বিশ্বস্ত উপদেষ্টা আনাবেলে ফুলারকে এক দশকেরও বেশি রক্ষিতা বানিয়ে রেখেছিলেন বৃটেনের এ সময়ের আলোচিত, সাবেক ইউকিপ নেতা নাইজেল ফারাজে। ২০০৪ সালে আনাবেলে ফুলারের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। তারপর তাদের সেই সম্পর্ক অব্যাহত থাকে গত বছর অক্টোবর পর্যন্ত।

ই সম্পর্কের কথা যেকোনো মূল্যে গোপন রাখতে বলেন আনাবেলে ফুলারকে। ওদিকে যৌন কেলেঙ্কারিতে বৃটিশ রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। এরই মধ্যে দোষ স্বীকার করে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যার মাইকেল ফ্যালন।

মন্ত্রী সহ ৩৬ জন এমপি’র বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ ফাঁস হয়ে গেছে। বৃটিশ পত্রিকাগুলো খুললেই তাতে সয়লাব এসব কাহিনীতে। এটাকে তাই মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নিয়েছেন আনাবেলে ফুলার। ব্রাসেলসে তিনি নাইজেল ফারাজের সঙ্গে কাজ করতেন।

সেখানেই গত বছর ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট অফিসে তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন আনাবেলে ফুলার। বলেছেন, এসব সম্পর্ক তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। তার ভেতর ক্ষয়ে যাচ্ছিল। এক সময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এ খবর প্রকাশ করেছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, বিপন্ন করে রাখা সাবেক একজন সহকর্মীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক নিয়ে এতদিন মিথ্যাচার করেছেন নাইজেল ফারাজে। তাদের এ সম্পর্ক এক দশকেরও বেশি সময় টিকে ছিল।

কিন্তু তা প্রকাশ হলে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ জন্য যেকোনো মূল্যে তা গোপন রাখতে বলেন ফারাজে। তবে তা আর গোপন রাখেন নি আনাবেলে ফুলার। তিনি ডেইলি মেইলকে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নাইজেল ফারাজে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের একজন সদস্য।

তিনি বৃটিশ সমাজ ব্যবস্থায় পারিবারিক মূল্যবোধের বিষয়ে প্রতারণা করেছেন। এসব বলতে গিয়ে তাকে লেখা ফারাজের একটি গোপন প্রেমপত্রও প্রকাশ করে দিয়েছেন আনাবেলে ফুলার। তাতে আনাবেলে ফুলারকে উদ্দেশ্য করে ফারাজে লিখেছেন, হার্ট অ্যান্ড বডি।

এতে জড়িত ফারাজে ও তার স্ত্রী কিস্টেনও, যার সঙ্গে এখন সম্পর্ক টিকে আছে নামমাত্র। তারা বরাবরই ফুলারের সঙ্গে ফারাজের সম্পর্ককে গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সর্বশেষ যে অভিযোগ করেছেন ফুলার, তাকে বিদ্বেষপরায়ণ ও কাপুরুষোচিত বলে আখ্যায়িত করেছেন ফারাজে।

তবে তার দলের ভেতরে এই সম্পর্কের কথা ছিল ওপেন সিক্রেট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের একজন সদস্য বলেছেন, এটা শুধু একবার বা এক রাতের ঘটনা নয়। আনাবেলে ফুলারের জন্য নিজের স্ত্রীকে ফেলে আসার কথা ভাবছিলেন ফারাজে। অতীতে আমি তাদের সম্পর্কের বিষয়ে ফারাজের সঙ্গে কথা বলেছি।

এবং জেনেছি যে, গত বছরের শেষ নাগাদও আনাবেলে ফুলারের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন নাইজেল ফারাজে। দলের সবাই জানতেন তাদের মধ্যে এমন সম্পর্ক চলছে। এ বিষয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন আনাবেলে ফুলার।

তিনি আত্মহত্যার পথেও গিয়েছিলেন। কিন্তু থেরাপি নিয়ে এখন কিছুটা ধাতস্থ হয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তার জীবনে যা ঘটে গেছে তা প্রকাশ করে দিলেই তিনি এখন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। আনাবেলে ফুলার বলেন, শুরু থেকেই আমরা কৌশল অবলম্বন করি। সিদ্ধান্ত নেই আমাদের এই সম্পর্কের বিষয়ে মিথ্যা কথা বলবো। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে। গত কয়েকটি বছরও তাই হয়েছে।

কিন্তু ফারাজে আমাকে বলেছেন, একদম চুপ থাকতে। জবাবে আমি তাকে বলেছি, তুমি কি বুঝতে পারো আমার মধ্যে কি বেদনা কাজ করছে? জবাবে ফারাজে বলেছিল- হ্যাঁ। বুঝতে পারি। আমরা দু’জনেই জানতাম ব্রেক্সিট প্রক্রিয়াকে রক্ষা করতে হবে।

তাই দু’জনেই মিথ্যে বলেছি। কপটতা করেছি। আমাদের এই যৌন সম্পর্ক ছিল সম্মতির ভিত্তিতে। তবে আমার বিশ্বাস নাইজেল ফারাজে তার কৃতকর্মের জন্য অনেক বেশি দায়ী।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close