অন্য পত্রিকা থেকে

আমেরিকানদের অদ্ভুত জীবনচক্র

আরমান ইবনে সোলাইমান: অ্যামেরিকানরা জাতি হিসেবে বি-শা-ল অদ্ভুত। এদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে জীবন তা আসলে রঙিন কাগজে মোড়া এক ঠোঙা কাঁচা ‘গু’ ছাড়া আর কিছুই না। এদের জন্ম থেকে শুরু করি– একটা শিশু জন্মের সাথে সাথে মায়ের বুক জাপ্টে ধরে ঘুমুতে পারবে না। তার জন্য তৈরি হবে আলাদা বিছানা, আলাদা ঘর। সেখানে সে কাঁদুক বা গলা ফাটিয়ে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর করে মারা যাক, তাতে মা-বাবার তেমন বিশেষ কোনো বিকার থাকবে না। ঘড়ি দেখে কয়েকবার খাইয়ে, কানে বালিশ চাপা দিয়ে এরা ঘুমাতে যাবে।

শিশুটা একটু বড় হয়। যে বয়সটাতে আমাদের মা-রা আমাদের পেছনে খাবারে বাটি নিয়ে ঘরময় ছুটোছুটি করে কাটায়, সে বয়সটাতে আমেরিকান শিশুরা বড় হতে থাকে ডে-কেয়ার সেন্টারে। মায়ের চাইতে বেবি সিটাররাই এদের কাছে অধিক ভালোবাসার। একটু পরে এই শিশুটা স্কুলে যাওয়া শুরু করে; খুব বড় সম্ভাবনা রয়েছে এসময়টাতে তাদের বাবা-মা আলাদা হয়ে যাবেন। এখানে একজন নারীর এক্সপায়ারি ডেইট তার যৌবন থাকা পর্যন্ত। পুরোনো হয়ে যাওয়া গাড়ি আর পুরানো হয়ে যাওয়া স্ত্রীর মাঝে তেমন বিশেষ কোন ফারাক এদের কাছে নেই। এই জাতি একজন নারীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাবা তো দূর কি বাদ একজন পাইলট হিসেবেই মেনে নিতে পারে না। পাইলট নারী হলে সেটা বেমালুম চেপে যাওয়া হয়। পুরুষ হলেই কেবল ঘোষণা। নারীর স্বাধীনতার বুলি কেবল নগ্ন হওয়াতেই সীমাবদ্ধ। একটা হাইস্কুলগামী মেয়ের জীবনের মূল লক্ষ থাকে শর্টস্কার্ট পড়ে চিয়ার লিডার হওয়া। আর অন্য মেয়েদের চাইতে যত বেশি পারা যায় নিজেকে আবেদনময়ী করে জাতির সামনে তুলে ধরা। এই সামান্য বয়সটাতেই তাকে নামতে জীবনসঙ্গী খোঁজার এক ভয়াবহ প্রতিযোগিতায়। একের পর এক পুরুষ বদল হতে থাকে, আর এতেই তারা খুঁজে পায় প্রকৃত স্বাধীনতা।

এদের পুরো জীবনটা কেটে যায় একরকম ভয়াবহ অস্থিরতায়। কর্মস্থল পরিবর্তন হয় ঘনঘন। এদের বেশিভাগ কাজই পার্মানেন্ট নয়। এক স্টেট ছেড়ে আরেক স্টেটে এরা ছুটতে থাকে। ছুটতে থাকে বেটার লিভিং, আরও বেটার জীবনের তাড়নায়। এই ইঁদুর দৌড় আর শেষ হয় না কোনোদিন। দুঃখ ভুলতে পুরো সপ্তাহ গাধার খাঁটুনি খেটে, সপ্তাহন্তরে গলা অবধি মদ ঢেলে কোনো নৈশক্লাবে বা পাব এ পড়ে থাকাই এদের জীবনের বিনোদন।

বৃদ্ধকাল। এ বয়সে আমাদের বাবাদের মতো পত্রিকা হাতে আলসে শীতের সকাল এরা কাটাতে পারে না। ছেলেমেয়েরা তো সেই ১৮ বছরে বয়সেই তল্পিতল্পা সব গুছিয়ে নিয়ে সম্পর্কের ল্যাঠা চুকিয়েছে। এদের দেখার সময় কই? তাই সচরাচরই দেখা যায় সকল সম্পত্তি কুকুর বা বিড়ালের নামে লিখে এরা কবরে চলে যাচ্ছে। আহ! মানবতার কি ভয়ানক অপমান।

বস্তুবাদিতা এদের একের পর এক সর্বনাশ ডেকে আনছে। প্রথমে পরিবারগুলো ভেঙেছে। এরপর ভেঙেছে নৈতিকতা, যা ভাঙ্গার সাথে সাথেই সব শেষ।আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে বাস্টার্ড চাইল্ড, সমকামিতা, এইচআইভি এর মতো ভয়ানক অসুখগুলো। কর্মহীনতা বাড়ছে হু হু করে। সেই সাথে বাড়ছে গৃহহীনের সংখ্যা। বহু মিলিনিওয়ার শেষ বয়সে হোমলেস লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষা খোঁজে। এদের সব চাইতে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধ এন্টি ডিপ্রেসন গ্রুপের ড্রাগসগুলো। সব শেষ হয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এখন এই দেশটা।

শাসকেরা হচ্ছে একটা জাতির অধিকাংশ মানুষের চরিত্রের দর্পন স্বরুপ। এমন বস্তুবাদি, সেক্সিস্ট, রেসিস্ট, ডিপ্রেসড, চরিত্রহীন মানুষদের নেতা বুশ,ট্রাম্প, ক্লিন্টন, ওবামা বা হিলারির মতো কেউ না হওয়াটাই আশ্চর্যজনক ঘটনা। এ জাতির ধ্বংস অনিবার্য। যারা এখনও ভাবতে পারেন, চোখটা খুলে সত্য বুঝতে পারেন, তারা দেখতে পারছেন ঠিকই। বাকিরা মত্ত হলিউডি রুপকথার সৌন্দর্য আর নিজ দেহের জিনে লুকিয়ে থাকা সাদা চামড়ার গোলামীর অভ্যাসে। এই জিল্লতির জীবন আমরা চাই না। এই জীবন থেকে, এমন দেশে যাওয়ার স্বপ্ন লালন করে যারা বেচে আছেন, তাদের চিন্তা-চেতনা থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close