দুনিয়া জুড়ে

অ্যাসাঞ্জকে রাষ্ট্রদূত বানাতে ট্রাম্পের সঙ্গে আঁতাতের চেষ্টা করেছিল উইকিলিকস

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করার আহ্বান জানান, সেই চেষ্টা করেছিল উইকিলিকস।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র থেকে ফাঁস হওয়া নথিকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সাময়িকী আটলান্টিক এই দাবি করেছে। অ্যাসাঞ্জ এই দাবি অস্বীকার না করলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সম্পর্কে টুইটার বার্তায় তিনি বলেছেন: এতে বাস্তবতার পরিপূর্ণ চিত্র ধরা দেয়নি। আরেক টুইটে তিনি যোগাযোগের কারণ হিসেবে হিলারি ক্লিনটন সংক্রান্ত ইমেইলের কথা তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের সময় প্রেসিডেন্টের ছেলে ট্রাম্প জুনিয়র ব্যক্তিগত টুইটারের মাধ্যমে উইকিলিকসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। সম্প্রতি ট্রাম্প জুনিয়রের আইনজীবীরা মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্তকাজের জন্য ট্রাম্প জুনিয়র আর উইকিলিকসের মধ্যকার টুইটার যোগাযোগের নথি মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তর করে । সেখান থেকেই নথিগুলো মার্কিন সংবাদমাধ্যম আটলান্টিক-এর হাতে আসে। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরে ট্রাম্প জুনিয়র নিজেই উইকিলিকসের সঙ্গে তার কথোপকথনের অনুলিপি টুইটারে পোস্ট করেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন যে, এই নথিগুলোতে এমন কী আছে যাকে ফাঁস বলা যায়।

ওই নথির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, উইকিলিকস-এর পক্ষ থেকে বেশকিছু মেইল করা হলেও ট্রাম্প জুনিয়র জবাব দিয়েছেন খুবই কম। মঙ্গলবার নিজস্ব টুইটার একাউন্ট থেকে উইকিলিকসের টুইটের বিপরীতে নিজের সরবরাহকৃত ৩টি উত্তরের অনুলিপি প্রকাশ করেন ট্রাম্প জুনিয়র।। তার দাবি, উইকিলিকস এর সঙ্গে ওইটুকুই যোগাযোগ হয়েছে তার।

নথি সূত্রে আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, নির্বাচনের রুশ সংযোগের বিষয়টিও ট্রাম্প জুনিয়রকে উড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয় উইকিলিকস। কেননা বেশিরভাগ যোগাযোগই একপাক্ষিক ছিলো। তবে সেটা খুবই স্পর্শকাতর সময়ে হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র একমাস আগে থেকে এই যোগযোগ শুরু হয়। সেসময় ডেমোক্রেটিক নেতাদের ইমেইল ফাঁস হচ্ছিলো।

বিবিসি জানায়, উইকিলিকস ও ট্রাম্প জুনিয়র একে অপরের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছিলো। একটা সময় উইকিলিকস ট্রাম্প জুনিয়রকে পরামর্শ দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়লাভ করলে অ্যাসাঞ্জকে যেন যুক্তরাষ্ট্রে অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আর নথির সূত্রে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের একমাস পর ১৬ ডিসেম্বর উইকিলিকস এই অনুরোধ করে ট্রাম্প জুনিয়রকে।

আদানপ্রদানকৃত ওই টুইটার বার্তাগেুলোর একটিতে উইকিলিকসের পক্ষ থেকে ট্রাম্প জুনিয়রকে বলা হয়, ‘হ্যালো ডন, আশা করি ভালো আছেন। ওবামা ও ক্লিনটন সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া মাধ্যমে অ্যাসাঞ্জের ওপর অবৈধভাবে চাপ প্রয়োগ করেছে। আপনি আপনার বাবাকে যদি পরামর্শ দেন অ্যাসাঞ্জকে যেন অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূত করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয় সেটা খুব ভালো হতো।’

উইকিলিকস এর পক্ষ থেকে ট্রাম্প জুনিয়রকে জানানো হয়, ‘তিনি সবচেয়ে বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়ান এবং শক্ত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ।’ বার্তায় আরও বলা হয়, ‘অস্ট্রেলিয়া হয়তো কাজটি করবে না। কিন্তু তাদের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে যাবে। তারা হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করবে।’

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করে, রুশ সরকারের মাধ্যমে ট্রাম্প জুনিয়র আর উইকিলিকসের মধ্যকার যোগাযোগের তথ্য ফাঁস হয়। কিন্তু এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন অ্যাসাঞ্জ। এক টুইট বার্তায় আটলান্টিকের প্রতিবেদনটিকে অসম্পূর্ণ আখ্যা দেন অ্যাসাঞ্জ। তিনি বলেন, এতে বাস্তবতার পরিপূর্ণ চিত্র ধরা পড়েনি।

আরেকটি টু্ইটের মাধ্যমে অ্যাসাঞ্জ জানান, হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগতক ইমেইল ফাঁসের ব্যাপারে ট্রাম্প জুনিয়ারের সঙ্গে আলাপ হওয়ার কথা রুশ আইনজীবীকে জানিয়েছিলেন তিনি। কেননা এর মধ্য দিয়ে হিলারির নির্বাচনী প্রচারণা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ ছিল।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close