আফ্রিকা জুড়ে

দেশ ছেড়েছেন ফার্স্টলেডি গ্রেসি মুগাবে: আটকে রাখা হয়েছে প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সেনাবাহিনী ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর যেন ধারালো ছুরির ওপর দিয়ে হাঁটছে জিম্বাবুয়ে।

একে সেনাবাহিনী সামরিক অভ্যুত্থান বলতে অস্বীকৃতি জানালেও আফ্রিকান ইউনিয়ন বলছে, দৃশ্যত এটি সামরিক অভ্যুত্থান। প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ও তার পরিবার নিরাপদে আছেন সেনাবাহিনীর তরফ থেকে এ কথা জানানো হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে মুগাবে বলেছেন, তিনি সুস্থ আছেন।

তবে তাকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। জ্যাকব জুমা টেলিফোনে কথা বললে এমনটা জানিয়েছেন মুগাবে। ওদিকে, সেনাবাহিনী অনুমতি দেয়ার পর বুধবার রাতে দেশ ছেড়ে গেছেন ফার্স্টলেডি গ্রেসি মুগাবে।

তিনি গেছেন পাশের দেশ নামিবিয়ায়। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে যে ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন মনাঙ্গাগওয়াকে বরখাস্ত করেছিলেন, তিনি নির্বাসন থেকে ফিরেছেন দেশে। এ অবস্থায় জিম্বাবুয়ের সামনের দিনগুলো কেমন হবে, কোনদিকে অগ্রসর হবে তা সময়ই বলে দেবে। বরখাস্ত হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল।

এখন রবার্ট মুগাবেকে দিয়ে যদি তাকে ফের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ করায় সেনাবাহিনী অথবা তার কাছে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য করে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, তারা এই ‘সামরিক অভ্যুত্থানকে’ অভ্যুত্থান বলতে নারাজ। তাদের এ পদক্ষেপকে তারা ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ বলে আখ্যায়িত করছে।

তারা বলছে, রক্তপাতহীন এক সংশোধনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ওদিকে জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের ও বৃটেনের নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঘরের বাইরে যেতে বারণ করা হয়েছে। জিম্বাবুয়ের এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, রবার্ট মুগাবে দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে দেশটি শাসন করে আসছেন। এখন তার বয়স ৯৩ বছর। বয়সের কারণে তিনি হয়তো ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। আর তাই ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসনকে বরখাস্ত করে সেই পদে নিজের স্ত্রী গ্রেসি মুগাবেকে বসানোর পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে তার পরেই গ্রেসি হতে পারেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট।

কিন্তু সেনাবাহিনী তা সহজভাবে নেয় নি। তাই তারা ‘ক্রিমিনাল’দের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সে সাংবাদিক ক্রিস চিনাকা লিখেছেন, মুগাবের স্ত্রী গ্রেসিকে (যিনি প্রেসিডেন্টের চেয়ে ৪১ বছরের ছোট) ক্ষমতায় আনার যে পরিকল্পনা করেছিলেন তা থামিয়ে দেয়াই সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে।

স্থানীয় মিডিয়ায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদেরকে জিম্বাবুয়ে সফরের অনুমতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। তারা বুধবার রাতেই হারারে পৌঁছেছেন। প্রেসিডেন্ট মুগাবে ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের সাক্ষাত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তাদের মূল লক্ষ্য কি তা স্পষ্ট জানা যায় নি।

ওদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের শান্তি ও স্থিতিশীলতা খর্ব হয় এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে তিনি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close