যুক্তরাজ্য জুড়ে

ব্রেক্সিটকে প্রভাবিত করতে ৪৫ হাজার ভুয়া টুইট করে রাশিয়া

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: সোয়ানসি ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলির বিজ্ঞানীরা ব্রেক্সিটের সময় রাশিয়ার টুইটের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের গবেষণায় বিস্ময়কর কিছু তথ্য উঠে এসছে।

গবেষকরা লক্ষ্য করেন যে, ইউক্রেনের সংঘাতময় পরিস্থিতির সময় কিছু টুইটার একাউন্ট রাশান ভাষায় টুইট করত। ওই টুইটার একাউন্টগুলোই ২০১৬ সালের জুন মাসে ইংরেজিতে টুইট করা শুরু করে। এরপর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই টুইটার একাউন্টগুলো থেকে ৪৫ হাজার টুইট করা হয়।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আমেরিকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগের তদন্ত চলছে। এর মধ্যেই নতুন আরেক অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।

আর তা হলো, ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহার করে ব্রেক্সিট ভোটকে প্রভাবিত করেছিল দেশটি।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে অভিযোগ করেন, রাশিয়া পশ্চিমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে।

যুক্তরাজ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছেড়ে যাবে কিনা তা নিয়ে ২০১৬ সালের ২৩ জুন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে গণভোটের এক মাস আগে থেকে এক মাস পর পর্যন্ত ১ লাখ ৫৬ হাজারেরও বেশি টুইটার একাউন্ট ব্রেক্সিট গণভোট নিয়ে সরব ছিল।

গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়, ভোটের কিছুদিন আগে রাশিয়ার সাথে সম্পর্কিত বিপুল সংখ্যক একাউন্ট ব্রেক্সিট নিয়ে টুইট করা শুরু করে। এগুলোর পরিমাণ ভোট চলাকালীন সময় ও ফলাফল প্রকাশের সময় পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ছিল। এরপর এগুলো একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়।

এসব টুইটার একাউন্ট সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অথবা সীমিত আকারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হতো। আমেরিকার নির্বাচনের সময় বিভিন্ন টুইট ট্রাম্পের ডানপন্থী মতাদর্শকে উৎসাহিত করেছিল। একইভাবে, এই টুইটগুলো যুক্তরাজ্যের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়াকে উৎসাহিত করে।

গবেষকরা কয়েকটি টুইটার একাউন্ট খুঁজে পান যেগুলো যুক্তরাজ্যকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগ না করতে উৎসাহিত করছিল। এসব একাউন্ট দেখে গবেষকরা ধারণা করছেন যে, যুক্তরাজ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছেড়ে না গেলেও রাশিয়ার কোনো সমস্যা ছিল না। সম্ভবত বিভেদ তৈরি করাই ছিল রাশিয়ার উদ্দেশ্য।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close