লন্ডন থেকে

জামানুরের হত্যাকারী চারজন দোষি সাব্যস্ত

শীর্ষবিন্দু নিউজ: মাইল্যান্ডের ওয়াগনার স্ট্রিটে নিজ ঘরের সামনে ছুরিকাঘাতে নিহত সৈয়দ জামানুর ইসলাম হত্যার দায়ে ১৬ বছরের এক কিশোরকে দোষি সাব্যস্ত করেছে আদালত।

তবে সে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় আইনী কারনে উক্ত কিশোরের নাম প্রকাশ করা হয়নি। ইনার লন্ডন ক্রাউট আদালত জানিয়েছে, এই হত্যা কান্ডের সূত্রপাত হয় ডিম ছুঁড়াকে কেন্দ্র করে।

আদালত জানায়, এ ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামীদের মধ্যে মাইল্যান্ডের বার্ডেট রোড়ে বসবাসকারী নাঈম চৌধুরী ১৮ ও বেথনালগ্রীনের সাইপ্রাস রোড়ে বসবাসকারী সামিউর রহমান নিহতের ভাইকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে মারলে তা গিয়ে পড়ে তাদের ঘরের দরজার সামনে।

এর আগে একই মামলায় আরো তিনজনকে দোষি সাব্যস্ত করা হয়। তার বয়স ১৮ বছর। সে টাওয়ার হ্যামলেটসের বার্ডেট রোডের বাসিন্দা। শারীরিকভাবে আঘাতের ষড়যন্ত্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে দোষি সাব্যস্ত করা হয়েছে।

বয়স ১৮ বছর এবং সে ই থ্রি এলাকার বাসিন্দা। তাকে শারীরিক ভাবে আঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং বিপজ্জনক অস্ত্র রাখার অভিযোগে দোষি সাব্যস্ত করা হয়েছে। সাইপ্রাস স্ট্রিটের বাসিন্দা। শারীরিক আঘাত এবং বিচার কাজকে ভিন্নখাতে নেওয়ার যড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে দোষি সাব্যস্ত করা হয়েছে। আগামী ২২ শে ডিসেম্বর একই আদালতে তাদের সাজার মেয়াদ ঘোষণা করা হবে।

আদালত সুত্রে জানা গেছে, নিহত জামানুরের ছোট্র ভাইকে ব্যঙ্গ করে তাদের ঘরের সামনে ডিম নিক্ষেপের ঘটনার সুত্রপাত ধরেই জামানুরকে ছুরিকাহত করা হয়। ডিম নিক্ষেপের ঘটনার সঙ্গে নাইম চৌধুরী এবং সামিউর রহমান জড়িত বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।

১১ এপ্রিলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এই তিনজন একটি ফর্ড ফিয়েস্তা গাড়িতে ছড়ে ওয়েজার স্ট্রীটে এসে জামানুরের ছোট ভাইকে খোঁজে। তাদের সঙ্গে ছুরি এবং বেসবল ব্যাট ছিল। আর গাড়িটি হায়ার করা ছিল সামিউরের নামে।

জামানুরের ছোট ভাইকে না পেয়ে তারা চলে যাচ্ছিল। এসময় জামানুর তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তাদের গাড়ির কাছে চলে আসে। গাড়ির পাশে দাড়িঁয়ে নাইমের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল জানানুরের। এক পর্যায়ে বেসবল ব্যাট দিয়ে জামানুরকে আঘাত করে ইসমাইল। তাদের মারামারির মাঝেই ১৬ বছরের ওই কিশোর জামানুরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তাকে গুরুতর জখম অবস্থায় রেখে বো কমন লেনের দিকে চলে যাই সন্দেহভাজনরা।

পুলিশ সিসিটিভি দেখে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি জ্যাকেটও উদ্ধার করে। জ্যাকেটের পকেটে নাঈম চৌধুরীর ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির চাবি পাওয়া যায় বলেও আদালতকে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নাঈম চৌধুরীর জ্যাকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ীর চাবি উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ৪ অপরাধী নর্থ লন্ডনে পালিয়ে যায়। পরে তাদের আটক করে বিচারের সম্মুখিন করা হয়। এর মধ্যে ১৬ বছর বয়সী কিশোরের রায় প্রকাশ করা হয় শুক্রবার। বাকীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ২২ ডিসেম্বর একই আদালতে তাদের কারাদন্ড দেয়া হবে।

তদন্তকর্মকতা টনি লিন্স বলেন, সৈয়দ জামিনুরকে নিষ্ঠুরভাবে আক্রমাণ করা হয়েছিল যিনি তার ভাইয়ের জন্য এই ঘটনার স্বীকার হন।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল, মঙ্গলবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মাইলএন্ডের ওয়েজার স্ট্রীটে তার ঘরের সামনেই ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল ২০ বছর বয়সী সৈয়দ জামানুর ইসলামকে। এম্বুলেন্স এসে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রায় সাড়ে পাঁচটার দিকে সে মৃত্যুবরন করে। এম্বুলেন্স আসার পূর্ব পর্যন্ত ছুরিকাহত রক্তাক্ত জামানুর তার মায়ের কুলেই শুয়েছিল।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close