যুক্তরাজ্য জুড়ে

সৌদি সেনাদের গোপনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেনে সৌদি আরব মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে এমন অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাজ্য। অথচ তাদের সেনাবাহিনীই গোপনে সৌদি সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। রবিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেইল অনলাইনের এক খবরে বিষয়টি জানা গেছে।

মেইল অনলাইন জানায়, প্রায় ৫০ জন ব্রিটিশ সেনা সদস্য সৌদি সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভুল করে ছবি ও তথ্য প্রকাশের পর ‘অপারেশন ক্রসওয়ে’ নামে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি সবার নজরে আসে।

ইয়েমেনের এমন সংকটে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা যুক্তরাজ্যের ‘লজ্জাজনক কুকর্মে সহযোগিতা’র অংশ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও সাবেক উন্নয়নমন্ত্রী অ্যান্ড্রু মিচেল। ইয়েমেনে সৌদি অভিযানে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা জনগণকে জানাতে সরকারের কাছে তিনি দাবি করেছেন।

অ্যান্ড্রু মিচেল বলেন, ‘সৌদি আরব ইয়েমেনে জেনেভা কনভেনশন ভঙ্গ করেছে। তারপরও যুক্তরাজ্য তাদের সব অন্যায়কে লজ্জাজনকভাবে সহযোগিতা করছে। সেখানকার মানবিক বিপর্যয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পার্লামেন্ট এই প্রশিক্ষণের ব্যাপারে অবশ্যই ব্যাখ্যা চাইবে।’

‘অপারেশন ক্রসওয়ে’র আওতায় স্কটল্যান্ডের রয়্যাল রেজিমেন্টের সদস্যরা সৌদি সেনা কর্মকর্তাদের ‘অনিয়মিত যুদ্ধ’ কৌশল শেখাচ্ছে। সাধারণত বিভিন্ন সন্ত্রাসী দলকে প্রতিহত করতে সেনাবাহিনী এসব কৌশল ব্যবহার করে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের কর্মকর্তারা রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা নিস্ক্রিয় করার ব্যাপারে প্রাশিক্ষণ দিচ্ছেন। ইয়েমেনে সৌদি অভিযানের ব্যাপারে জনগণের সংবেদনশীলতার কারণে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করেনি।

তবে এ মাসের শুরুতে সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে অসাবধানতাবশত ওই প্রশিক্ষণের ছবি ও তথ্য প্রকাশ হয়ে যায়। এতে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। প্রকাশিত একটি ছবিতে একজন ব্রিটিশ প্রশিক্ষক মানচিত্রে ইয়েমেন ও আশেপাশের এলাকায় সম্ভাব্য হামলার স্থানগুলো দেখাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিষয়টি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আনলে তারা বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করে।

এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ২০ মিনিটের মধ্যে ফেসবুক থেকে এসব ছবি ও তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়।

যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান লর্ড ওয়েস্ট এ প্রশিক্ষণের বিষয়টিতে স্বচ্ছতা আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব ও ইয়েমেনে স্পর্শকাতর পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্য সেখানে যা করছে তা স্পষ্ট করা উচিত। আশা করি, আমাদের প্রশিক্ষণ সেখানে জীবন বাঁচাবে।’ নাম প্রকাশ না করে একজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা বলেন, ইয়েমেনে সংবেদনশীল পরিস্থিতির পরও প্রশিক্ষণের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়।

তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, যুক্তরাজ্য সৌদি আরবের সেনাদের কোনও নতুন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়নি। হামলা প্রতিহত করার ব্যাপারে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করায় অনেক দিন ধরেই যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করা হচ্ছে। আর যুক্তরাজ্যের তৈরি করা এসব অস্ত্র ও বোমা ইয়েমেনে ব্যবহার করছে সৌদি আরব।

সৌদি বিমান হামলায় ইয়েমেনে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ মারা গেছেন। এছাড়া প্রায় ১০ লাখ শিশু অনাহার ও ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ একে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট অ্যাখ্যা দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close