অন্য পত্রিকা থেকে

হাছন রাজার বাড়িতে একদিন

নিউজ ডেস্ক: ‘কান্দে হাছন রাজার মন’, ‘মন মনিয়ারে’, ‘লোকে বলে বলেরে, ঘরবাড়ি ভালো না আমার’, ‘কেন যে আসিলাম ভবে’- বিখ্যাত এই গানগুলোর রচয়িতা হচ্ছেন লোককবি হাছন রাজা।

দেশবিখ্যাত দুই মরমি সাধক হচ্ছেন হাছন রাজা ও শাহ আবদুল করিম। দুজনেরই জন্মস্থান সুনামগঞ্জ। অনেক দিনের শখ লোকপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করা এ দুই কবির জন্মস্থান ঘুরে দেখা। অবশেষে চাকরির পদোন্নতির বদৌলতে ২০১৫ সালের অক্টোবরে পোস্টিং হল সিলেটে।

হাছন রাজার জন্মভূমি দেখার ইচ্ছা পূরণ হল এক ছুটির দিনে। হাছন রাজার বাড়িটি এখন ‘হাছন রাজা মিউজিয়াম’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে সিলেটের মালনীছড়ায় হাছন রাজার জন্ম। আর ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যু।

হাছন রাজার বহু গান এখনও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। তিনি ছিলেন মূলত জমিদার।এখানে তার নমুনাও দেখা যায়।

মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে জমিসংক্রান্ত বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ। হাছন রাজার ব্যবহৃত আলখেল্লা, গ্রামফোন, লাঠি, কলম, আলমারি, টেবিল, চেয়ার, গেঞ্জি, ডুগি, তবলা, বাক্স, পশুরিপাগড়ি, খড়ম, কোর্তা, পাঞ্জাবি, ঢাল, তরবারি, বাসন-কোসন ইত্যাদি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত। এ ছাড়া তার এই সংরক্ষিত মিউজিয়ামে দেখা যায় হাতের লেখা বিভিন্ন গান ও কবিতার পাণ্ডুলিপি, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ ও বিমোহিত করে।

ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হবে। সুনামগঞ্জ পৌ্রসভার তেঘরিয়ার সুরমা নদীর তীরঘেঁষে হাছন রাজার মিউজিয়াম তথা হাছন রাজার জন্মভিটা। সুরমা নদীর অপূর্ব দৃশ্য আপনার মন ভরিয়ে দেবে। দুচোখ ভরে দেখতে ও ছবি তুলতে মন চাইবে। কী অভূতপূর্ব দৃশ্য! না দেখলে কল্পনা করা যায় না।

সুনামগঞ্জ পৌ্রসভার গাজীর দরগা নামক পারিবারিক কবরস্থানে প্রিয়তম মায়ের পাশে শায়িত আছেন লোককবি ও মরমি কবি হাছন রাজা। প্রতিদিনই ইতিহাসের সাক্ষী হতে প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় জমান এখানে।

পার্শ্ববর্তী দর্শনীয় স্পট: সুনামগঞ্জে অবস্থান করে দেখতে পারেন আরেক মরমি কবি শাহ আবদুল করিমের জন্মভিটা ‘দিরাই’ ও দেশের বৃহত্তম ‘টাঙ্গুয়ার হাওর’।

কীভাবে যাবেন: হাছন রাজার বাড়িতে যেতে হলে আপনাকে প্রথমেই যেতে হবে সিলেটে। এর পর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে যেতে হবে সুনামগঞ্জ নতুন বাস টার্মিনালে।এর পর অটোরিকশায় ট্রাফিক পয়েন্ট। রিকশা বা হেঁটে তেঘরিয়া। এর পর পৌছেঁ যাবেন সুরমার তীরঘেঁষা হাছন রাজার বাড়ি বা মিউজিয়ামে। এ মিউজিয়ামের প্রবেশ ফি ১০ টাকা।

সুনামগঞ্জ শহরে থাকা-খাওয়ার প্রচুর হোটেল রয়েছে।আপনার বাজেট অনুসারে পছন্দমতো স্থানে অবস্থান করতে পারেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close