অন্য পত্রিকা থেকে

খালেদা জিয়াকে নিয়ে যেসব হিসাব কষছে আওয়ামীলীগ

পাভেল হায়দার চৌধুরী: এতিমদের অর্থ আত্মসাতের মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হবে-এমনটাই ভাবনা ক্ষমতাসীন দলের। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই মামলার রায় আগামী বছরের শুরুর দিকে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর এ কারণেই বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলার রায় পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের নীতি- নির্ধারণী মহলে।

দুদকের দায়ের করা এতিমের টাকা আত্মসাত মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার পর বিএনপির প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সে অনুযায়ী তা মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে সরকার। বিএনপির প্রতিক্রিয়া বক্তব্য-বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগ নেতারাও বক্তব্য-বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে।

আর বিএনপি যদি ধ্বংসাত্মক পথে এগোয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে তাদের মোকাবিলা করা হবে। প্রয়োজনে পুরনো মামলাগুলো ফের চাঙ্গা করে বিএনপি নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনাও রয়েছে ক্ষমতাসীনদের।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্র ও সরকারের একজন মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ক্ষমতাসীন দলের সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে বিএনপি নেতাদের নামে থাকা মামলাগুলো আবারও চাঙ্গা করার কথা ভাবছে সরকার। সরকারের পরিকল্পনা হলো- আগামী নির্বাচনের আগে যাতে কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।

পুরনো মামলা চাঙ্গা করার মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে চায় ক্ষমতাসীনরা, যাতে রায় ঘোষণার পরে বিএনপি সরকারবিরোধী বড় ধরনের আন্দোলন জমাতে না পারে। সূত্রগুলোর মতে, রায় পরবর্তী পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে মোকাবিলারও প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও ভাবছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা। সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে বিএনপি তা প্রতিহত করতে দেশের ভেতরে সর্বোচ্চ কী ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে,সে বিষয়েও গভীর পর্যালোচনা চলছে সরকারি মহলে।

বিএনপির চেয়ারপারসন সাজাপ্রাপ্ত হলে নির্বাচনের জন্য তিনি অযোগ্য হবেন। সেক্ষেত্রে তাকে বাইরে রেখে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা, এসব অনেক প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই নিশ্চিত হতে চায় ক্ষমতাসীনরা। বিএনপির পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা থাকলে আওয়ামী লীগের জন্যে রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।

তাই অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা ক্ষমতাসীনদের জন্যে জরুরি হয়ে উঠেছে। খালেদার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি ধ্বংসাত্মক হলে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর মনোভাব দেখাবে। আর তা বাস্তবায়ন করবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে।

সূত্রগুলো বলছে, এতিমদের অর্থ আত্মসাতের মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হবে-এটা ধরেই নেওয়া হয়েছে। মামলার রায় আগামী বছরের শুরুর দিকে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলার রায় পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরে।

আগামী বছর যেহেতু নির্বাচনের বছর তাই এই রায়কে ঘিরে বিএনপি কোনোভাবেই যাতে মাঠ গরম করতে না পারে, সেদিকে বেশি নজর আওয়ামী লীগের। ফলে রায় পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরেও চলছে হিসাব-নিকাশ। বিএনপি কী করতে পারে তার পূর্ব ধারণা নিয়ে রাখতে চায় ক্ষমতাসীনরা। বিএনপির পরিকল্পনা জানতে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেমন ব্যস্ত রয়েছে, তেমনি বিএনপির নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সখ্য থাকা আওয়ামী লীগ নেতারাও দলটির পরিকল্পনা জানার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা মনে করেন,যুদ্ধাপরাধী সাঈদী, মুজাহিদীর দণ্ড কার্যকর করার আগে দেশে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, বিএনপি সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না। ফলে স্বস্তিও আছে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরে। তারা বলছে, জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব মোকাবিলা করে সরকার যেহেতু এখনও পর্যন্ত টিকে আছে, সেখানে বিএনপি আর কত দূর যাবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘এতিমের টাকা আত্মসাত মামলায় খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হলে দল হিসেবে বিএনপি তো রি-অ্যাকশন দেখাবেই। কিন্তু সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে তা মোকাবিলা করবে।’ তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার কোনও আগ্রহ আওয়ামী লীগের নেই।’

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলা আদালতে চলমান। আদালত এ ব্যাপারে কী রায় দেবেন, সেটা আদালতের ব্যাপার। তবে রায় নিয়ে বিএনপির রি-অ্যাকশন ধ্বংসাত্মক হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোকাবিলা করবে।’ তিনি বলেন, ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চক্রান্ত মেনে নেওয়া হবে না।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘আদালতে কী রায় হয়- সেটা আমরা নিশ্চিত না। তবে রায়কে ঘিরে কোনও অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা সহ্য করা হবে না। সরকার নিশ্চয়ই বিএনপিকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পর দল হিসেবে বিএনপি নিশ্চয়ই প্রতিক্রিয়া দেখাবে। সেটা মাথায় রেখেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। তিনি আরও বলেন, সরকার রাজনৈতিক অস্থিরতা ফেস করেই এ পর্যন্ত টিকে আছে। বিএনপির প্রতিক্রিয়া নিশ্চয়ই এরচেয়ে বেশি কিছু হবে না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close