অন্য পত্রিকা থেকে

এরাও কারাগারে ছিল

অর্ণব সান্যাল: আইন করা হয় অবাধ্য নাগরিককে বাধ্য করার জন্য। মূলত সমাজের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্যই নাগরিককে শায়েস্তা করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু পশুপাখি অবাধ্য হয়ে গেলে বা অপরাধী হলে?

আইন কি তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে? কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিন্তু পশুপাখির বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন প্রয়োগ হতে দেখা গেছে। শুধু প্রয়োগ নয়, আইন অনুযায়ী তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারেও ঢোকানো হয়েছে! আসুন জেনে নিই এমনই কিছু ঘটনা:

এমনই একটি কবুতরকেই গুপ্তচর ভেবে তুলকালাম শুরু হয়েছিল ভারতে।

১. চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার কবুতর

ভারতে ২০১৫ সালে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক কবুতরকে গ্রেপ্তার করা হয়। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই কবুতরের গায়ে আংশিক উর্দু ভাষায় কিছু বার্তা লেখা ছিল। উর্দু পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা।

পরে জানা যায়, কবুতরটির গায়ে একটি মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী ভারতীয় একটি গ্রামে নেমেছিল কবুতরটি। গ্রামটির অবস্থান বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় চরচর করে উঠে যায় উত্তেজনার পারদ।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ১৪ বছরের একটি ছেলে প্রথম কবুতরটি খুঁজে পায় এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়। পরে কবুতরটির এক্স-রে করা হয়। কিছু পাওয়া না যাওয়ার পরও কবুতরটি পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। থানার কাগজপত্রে একে ‘সন্দেহভাজন চর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এ ঘটনায় পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য রসিকতার তুফান বয়ে গিয়েছিল। রীতিমতো ট্রল করা শুরু হয়ে যায় ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ওই দেশে।

ব্রাজিলে কারাগার থেকে বন্দীদের পালানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে এই বিড়ালকে আটক করা হয়েছিল। ছবিটি দ্য টেলিগ্রাফের ভিডিওচিত্র থেকে নেওয়া।

২. ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আটক বিড়াল

ব্রাজিলে কারাগার থেকে বন্দীদের পালানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে এক বিড়ালকে আটক করা হয়েছিল। ২০১৩ সালের ঘটনা এটি। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর আরাপিরাকাতে একটি কারাগার আছে। সেটির নিরাপত্তাব্যবস্থা মাঝারি ধরনের। বছরের শুরুর দিনই কারারক্ষীরা দেখেন, একটি বিড়াল কারাগারের মূল ফটকের বাইরে ইতস্তত ঘোরাফেরা করছে। বিড়ালটি ধরার পর দেখা যায়, এর গায়ে টেপ দিয়ে প্লাস্টিক মোড়ানো। আর তাতে ছিল বিভিন্ন ছোট করাত, ছিদ্র করার যন্ত্র, ইয়ারফোন, মেমোরি কার্ড, ব্যাটারি ও ফোনের চার্জার।

কারাগারের কর্মকর্তা লুই ডি ওলিভেরা সুজা ওই সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাঁদের ধারণা, কারাগার থেকে পালানোর পরিকল্পনা থেকেই বিড়ালটিকে কাজে লাগানো হচ্ছিল। ওই বিড়ালকে নাকি কারাগারে থাকা বন্দীরাই লালন-পালন করেন। তবে কোন বন্দী বিড়ালটিকে দিয়ে এসব জিনিস আনিয়েছিলেন, তা খুঁজে বের করা যায়নি।

ওই বিড়ালকে অল্প সময়ের জন্য ‘আটক’ করে রেখেছিলেন কারারক্ষীরা এবং পরে পশুপাখিদের স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে তাকে পাঠানো হয়।

পশ্চিম জার্মানির বটট্রোপ শহরে এক নারীকে ‘উত্ত্যক্ত’ করেছিল এই কাঠবিড়ালি। ছবিটি জার্মান পুলিশের সৌজন্যে।

৩. কাঠবিড়ালি যখন উত্ত্যক্তকারী

পশ্চিম জার্মানির বটট্রোপ শহরে ঘটেছিল এই অদ্ভুত ঘটনা। ২০১৫ সালে এক জার্মান নারী পুলিশের কাছে অভিযোগ করে বলেন, রাস্তায় লাল রঙের একটি ছোট্ট কাঠবিড়ালি তাঁকে উত্ত্যক্ত করেছে। কোনোভাবেই তার কাছ থেকে উদ্ধার না পেয়ে শেষে পুলিশের সাহায্য চান তিনি। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ ওই কাঠবিড়ালিকে ধরতে পেরেছিল এবং কার্যত গ্রেপ্তার করেছিল। থানায় নেওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা প্রাণীটিকে পরীক্ষা করে দেখেন, অবসাদে ভুগেই এমন পাগলাটে আচরণ করছিল সে। পরে তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

৪. গালি দিয়ে চৌদ্দ শিকে তোতা

ভারতের মহারাষ্ট্রে ২০১৫ সালে এক তোতাপাখিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পাখিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সে তার মালিকের সৎমায়ের উদ্দেশে অপমানজনক কথা বলত! দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, জানাবাঈ নামের ওই বয়স্ক নারীর সৎছেলে সুরেশ সাখারকারের কাছ থেকে কিছু বাজে গালি শিখেছিল তোতাপাখিটি। জানাবাঈয়ের অভিযোগ ছিল, ইচ্ছে করেই সুরেশ হরিয়াল নামের ওই পাখিকে গালি শেখানো হয়েছিল। কারণ, সুরেশের সঙ্গে জমি নিয়ে জানাবাঈয়ের বিরোধ ছিল। আর তাই যখনই সুরেশের বাড়ির পাশ দিয়ে যেতেন তিনি, তখনই শেখানো বুলি উগরে দিত হরিয়াল।

এই নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন জানাবাঈ। পুলিশ পরে পাখিটিকে হেফাজতে নিয়ে নেয় এবং একপর্যায়ে সেটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভারতের মহারাষ্ট্রে ২০১৫ সালে এই তোতাপাখিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ছবিটি টুইটার থেকে নেওয়া।

৫. গাধার তাণ্ডব

২০০৮ সালের মে মাসের ঘটনা। মেক্সিকো শহরের চিয়াপাস শহরে পাগলাটে আচরণ শুরু করল ব্ল্যাকি। সে মানুষ নয়, একটা গাধা। হুট করেই রাস্তায় বেরিয়ে এক লোকের বুকে কামড়ে দেয় সে। ওই লোককে বাঁচাতে গিয়ে আরেক ব্যক্তি খান গাধার লাথি। এই ঘটনা কানে গেলে রেগে যায় পুলিশ। একেবারে ধরে এনে ঢুকিয়ে দেয় লকআপে। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই লকআপে মূলত মাতাল ও গুন্ডাদের রাখা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা সিনার গোমেজ বলেছিলেন, পুলিশ হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব অপরাধীকে বন্দী করে রাখা, সে যে-ই হোক না কেন!

প্রায় তিন দিন কারাগারে ছিল ওই গাধা। পরে তার মালিক এসে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

৬. বিড়াল মেরে কুকুরের যাবজ্জীবন!

১৯২৪ সালের ঘটনা এটি। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে একটি বিড়ালকে হত্যার ঘটনায় এক কুকুরের যাবজ্জীবন দণ্ড হয়েছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হয়েছিল। কুকুরটির নাম ছিল পেপ। ফিলাডেলফিয়ার গভর্নর পিনশোর কুকুর ছিল এটি। তাঁর স্ত্রী কর্নেলিয়া পিনশোর পোষা বিড়ালকে খুন করার দায়ে পেপকে অজামিনযোগ্য যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মেন্টাল ফ্লসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই খবর নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন উঠেছিল।

পেপ ছিল ল্যাব্রাডোর জাতের কুকুর। পরে অবশ্য দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভর্নরের স্ত্রী কর্নেলিয়া পিনোশে দাবি করেছিলেন, আদৌ তাঁর বিড়ালকে খুন করেনি পেপ। বন্দীদের নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার জন্যই নাকি কুকুরটিকে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল!

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close