অন্যকিছু

চোখের পাতা কাঁপলে কি হয়

অন্যকিছু ডেস্ক: আমাদের অনেক সময় চোখের পাতা কাঁপতে দেখা যায়। অনেক সময় বাম চোখের পাতা লাফাতে থাকে আবার কখনো ডান চোখের পাতাও লাফাচ্ছে বলে অনুভূত হয়। এতে আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। অনেকেই ধারণা করেন, বাম চোখের পাতা কাঁপছে এই বুঝি কোনো অমঙ্গল এসে হাজির! আবার কেউবা মনে করেন ডান চোখ কাঁপছে এই বুঝি আসছে কোনো সুখবর।

এভাবেই আমাদের মনে বিভিন্ন চিন্তা লালন করে আসছি। বিশেষ করে আগেরকার দিনের লোকেরা এসব বিষয়ের উপর খুব বেশি বিশ্বাসী হয়ে থাকে। তাই আসুন জেনে নেই চোখের পাতা লাফানোর কারণ-

মূলত চোখের পাতা লাফানো একধরনের অসুখ। ডাক্তারী ভাষায় একে বলে ‘মায়োকিমিয়া’ (Myokymia)। পেশীর সংকোচনের কারণেই চোখের পাতা লাফায়। দুই-একবার হঠাৎ চোখের পাতা লাফালে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু সেটা যদি মাত্রাতিরিক্ত হয় এবং তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

যে বদ অভ্যাসগুলো আপনার ‘সুন্দর’ চোখের মারাত্মকভাবে ক্ষতি করছে

সময়ের কণ্ঠস্বর- ইন্দ্রিয়ের মধ্যে চোখ হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অবস্থানগত কারণেই গোলাকার চোখ সব সময় সুরক্ষিত। বাইরে থেকে যেটুকু দেখা যায়, সেটুকুও চোখের পাতা দিয়ে ঢাকা থাকে। এ ছাড়া আইলেশ ও আইভ্রু চোখকে ধুলো-ময়লা থেকে রক্ষা করে। চোখের পানি সাধারণত ধুলাবালু ও রোগজীবাণু ধুয়ে ও ধ্বংস করে চোখকে সুস্থ রাখে। চোখ অন্ধ কিংবা রোগাক্রান্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার চাইতে দুর্ভাগা আর কেউ হতে পারে না।

তাই চোখের সঠিক যত্ন নেওয়ার কোন বিকল্প নেই। তবে এমন বহু দৈনন্দিন অভ্যাস রয়েছে যা আমাদের চোখের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। জেনে নিন এবং পরিত্যাগ করুন :

১) রোদে রোদচশমা না পড়া হল প্রথম বদ অভ্যাস। সানগ্লাস শুধু ফ্যাশন নয়, সানগ্লাস না পড়লে চড়া রোদের আলট্রাভায়োলেট রশ্মিতে চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

২) চোখ লাল হলেই ড্রপ দেন? এই ড্রপগুলি আসলে চোখের শিরাগুলিকে কিছুক্ষণের জন্য বড় প্রসারিত করে কিন্তু ড্রপের প্রভাব শেষ হয়ে গেলেই আবার শিরাগুলি পুরনো রূপে ফিরে আসে এবং চোখ আগের তুলনায় অনেক বেশি লাল হয়ে যায়।

৩) ড্রাই আইয়ের কারণে অনেকেই চোখে লুব্রিকেটিং আই ড্রপ দেন। কিন্তু বেশিরভাগ ড্রপগুলিতে প্রিজারভেটিভ থাকে।

৪) চোখের পাতা পড়া হল একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি যা আসলে চোখকে তার জলীয় ভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে। একটানা অনেকক্ষণ টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পাতা পড়া কমে যায় আর এই কারণেও ড্রাই আইয়ের সমস্যা তৈরি হয়।

৫) যাদের কনট্যাক্ট লেন্স রয়েছে তারা যদি ঠিকমৃতো লেন্স পরিষ্কার না করেন বা ঘুমোনোর সময়ে লেন্স খুলে না রাখেন তবে চোখের ক্ষতি হয়।

৬) সাঁতার কাটার সময়ে সুইমিং গগলস পরা বাঞ্ছনীয়। না পরলে তা চোখের পক্ষে ক্ষতিকারক।

চোখ ভালো রাখতে আরও যা করতে পারেন—

আলোর সঠিক ব্যবহার

চোখ যেকোনো আলোই কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রহণ করে নিতে পারে। কিন্তু চোখ ভালো রাখার জন্য কম আলো বা তীব্র আলোতে লেখাপড়া ও অন্যান্য কাজকর্ম করা উচিত নয়। দিনের বেলা সূর্যের আলো সরাসরি চোখে না পড়াই ভালো। রাতে টিউব লাইটের আলো চোখের জন্য আরামদায়ক। টেবিল ল্যাম্পের আলোতে লেখাপড়ার সময় ল্যাম্পটি দেয়ালের দিকে রেখে প্রতিফলিত আলোতে পড়া ভালো।

টিভি দেখা

টিভি দেখার সময় টিভির পেছনের দিকের দেয়ালে একটি টিউব লাইট বা শেড-যুক্ত ৪০ বা ৬০ ওয়াটের বাল্ব জ্বালিয়ে টিভি দেখা উচিত। সম্পূর্ণ অন্ধকার কক্ষে টিভি দেখা ঠিক নয়। দিনের বেলা যে দরজা বা জানালার আলো টিভি স্ক্রিনে প্রতিফলিত হয়, সেগুলো বন্ধ রাখাই ভালো। সাধারণত ১০ ফুট দূর থেকে টিভি দেখা উচিত। তবে ছয় ফুটের কম দূরত্ব থেকে টিভি দেখা উচিত নয়। বড়-ছোট বিভিন্ন সাইজের টিভি দেখার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন দূরত্ব বজায় রাখতে হয়। ঝিরঝির করা, কাঁপা কাঁপা ছবি ও ভৌতিক ছায়াযুক্ত ছবি না দেখাই ভালো। রঙিন টিভিতে রং, উজ্জ্বলতা ও কন্ট্রাস্ট ঠিক রেখে টিভি দেখতে হবে। একটানা অনেকক্ষণ টিভি দেখা উচিত নয়, মাঝেমধ্যে দর্শন বিরতি দিয়ে টিভি দেখা চোখের জন্য ভালো।

প্রসাধনীর ব্যবহার

প্রসাধনী চোখের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত প্রসাধনী চোখে ব্যবহার করলে অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস, ব্লেফারাইটিস, স্টাই ইত্যাদি রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

মাথায় খুশকি থাকলে সপ্তাহে দুবার খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করে মাথা খুশকিমুক্ত রাখতে হবে। নইলে মাথার খুশকি থেকে চোখ আক্রান্ত হয়ে চোখে ব্লেফারাইটিস দেখা দিতে পারে।

ধুলো-ময়লা ও দূষিত পরিবেশ

প্রতিদিন কাজের শেষে চোখ ঠান্ডা ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মি চোখের শত্রু। তাই সূর্যালোক থেকে দূরে থাকা উত্তম। রোদে গেলে সানগ্লাস পরা উচিত। যাঁদের এমনিতেই চশমা পরতে হয়, তাঁদের ফটোক্রোমেটিক লেন্স ব্যবহার করা আরামদায়ক হবে। কনজাংটিভাইটিস, কর্নিয়াল আলসার, আইরাইটিসের রোগীদের জন্য এবং ছানি অপারেশনের পর কালো চশমা ব্যবহার করা জরুরি।

চোখ ভালো রাখতে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠান্ডা ও পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ভালোভাবে ধুয়ে ঘুমানো উত্তম।

বিভিন্ন রোগের সময় চোখের যত্ন

বাচ্চাদের হাম, জলবসন্ত, হুপিংকাশি, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগে বিশেষ যত্ন নেওয়া আবশ্যক। এসব রোগের ঠিকমতো চিকিৎসা না করালে চোখের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে চোখে ডায়াবেটিস রেটিনোপেথি হতে পারে। এসব রোগে নিয়মিত ও সঠিক নিয়ে ডায়াবেটিস বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে চোখ ভালো রাখা সম্ভব।

চশমার ব্যবহার

যাঁদের চোখে চশমা প্রয়োজন, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শমতো দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে চশমা পরা উচিত।

স্বাভাবিকভাবেই ৪০ বছরের কাছাকাছি বয়স থেকেই পড়াশোনা করতে ও কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা হয়। এ সময়ে অনেকেই নিজের মনমতো রেডিমেড দৃষ্টিশক্তির চশমা ব্যবহার করেন, যা চোখের জন্য ক্ষতিকর। অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চশমা পরবেন। আবার অনেকে মনে করেন, এ সময় চশমা ব্যবহার করলে সারা জীবন চশমা ব্যবহার করতে হবে। তাই চশমা ব্যবহার করেন না। এ সময় চশমা ব্যবহার করলেই চোখ ভালো নতুবা পড়াশোনা বা কাছের জিনিস দেখতে চোখে চাপ পড়ে। এই চাপ চোখের ক্ষতি করতে থাকে। চশমা সব সময় পরিষ্কার রাখা উচিত। অস্বচ্ছ ও ফাটা লেন্স ব্যবহার করা উচিত নয়।

হঠাৎ চোখে কিছু পড়লে

মূলত ধুলোকণা, কীটপতঙ্গ, ছোট ইটপাথর বা কাঠের টুকরা থেকে শুরু করে ছোট খেলার বল নানা কিছু আছে হঠাৎ চোখে পড়তে পারে। এসবের কারণে চোখে প্রথমে খচখচে, চোখ দিয়ে অবিরত পানি পড়ে, তাকালে চোখ জ্বালা করে এবং চোখ বন্ধ রাখলে আরাম হয়, চোখ লাল হয়ে যায়। দ্রুত বের করে নেওয়া না হলে সেই ময়লা কর্নিয়ায় ঘষা লেগে চোখের প্রভূত ক্ষতি করতে পারে, ক্ষতির এক পর্যায়ে চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। এমন অনুভূতি হলে সবাই, বিশেষ করে বাচ্চারা খুব ঘন ঘন চোখ কচলাতে বা চুলকাতে থাকে, এমন কাজটি একেবারেই করা যাবে না। দেখা যায় এমন সহজ কিছু পড়ে থাকলে কটন বাডস বা তুলো একটু পেঁচিয়ে অন্যের সাহায্য নিয়ে আলতো করে বের করে আনার চেষ্টা করতে হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close