লন্ডন থেকে

হাউজিং প্রকল্পে অভিযোগের তদন্ত দাবী করেছে পিপলস এলায়েন্স অব টাওয়ার হ্যামলেটস

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বুধবার পিপলস এলায়েন্স অব টাওয়ার হ্যামলেট্স আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হাউজিং প্রকল্প সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্তের দাবী করেন গ্রুপ লিডার ও মেয়র প্রাথী কাউন্সিলার রাবিনা খান।

পূর্ব লন্ডনের স্টিফোড কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলর রাবিনা খান টাওয়ার হ্যামলেটস এর হাউজিং প্রকল্প সম্পর্কে সেক্রেটারী অব স্টেটের নির্দেশনা চেয়ে বিভিন্ন দলের আহবানের সাথে একমত পোষণ করে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আমি সেক্রেটারী অব স্টেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি দিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলর রাবিনা খান ছাড়াও পিপলস এলায়েন্স অব টাওয়ার হ্যামলেট্স চেয়ার কাউন্সিলর আবদুল আসাদ বক্তব্য রাখেন। এ সময় টাওয়ার হ্যামলেটস কনজারভেটিভ পার্টির ডেপুটি লিডার কাউন্সিলার এন্ডু উডও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এন্ডু উড তার বক্তব্যে বলেন, এই এফোরডেবল হাউজিং প্রোগ্রামে ১১৯ মিলিয়ন পাউন্ড দুর্নীতি বিষয়েও সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এছাড়া লিবারেল ডেমােক্ৰেটিক দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন৷ তারা বলেন, কমিউনিটির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের অবস্থান ঘোষনার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার তাই এক মঞ্চে ৷

সানডে টাইমস এর প্রতিবেদনে দুর্নীতির স্ক্যান্ডাল সম্পর্কে তদন্তের জন্য বিভিনś দলের পক্ষ থেকে সেক্রেটারী অব স্টেটের নির্দেশনা প্রতি আহবান জানানো হচ্ছে উল্লেখ করে বিরোধী দল পিপলস এলায়েন্স লিডার কাউন্সিলর রাবিনা খান বলেন, এর মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটস থেকে সরকারী কমিশনারদের কাছে পাঠানো আবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্বেগের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, সেক্রেটারী অব স্টেট বরাবরে পাঠানো চিঠিতে আমি বলেছি, পুলিশী তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ পরিকল্পনা কার্যক্রমের বিষয়ে আমি কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখা প্রয়োজন।

অফস্টেড সেইফগার্ডিং স্ক্যান্ডালের মত এই স্ক্যান্ডালের ক্ষেত্রেও কাউন্সিলের উপর আমাদের আস্থা নেই। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি কাউন্সিলের দায়িত্বশীলতার বিষয়েও আমরা আস্থাশীল নই। প্ল্যানিং প্রক্রিয়াতেও দুর্নীতির কোন চেষ্টা হচ্ছেনা বলে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাবিনা খান বলেন, যখন ঘুষ দাবী করা হয়েছিল বলে বলা হচ্ছে, সে সময় তার দলের কেউ প্ল্যানিং কমিটিতেই ছিলেন না। কাউন্সিলর খান বলেন, ২০১০ সালে মেয়রাল সিস্টেম প্রবর্তিত হলে গত বছর অনুষ্ঠিত উপ নির্বাচনের পর একমাত্র গ্রুপ মেম্বার এই কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত হন, যা কথিত ঘুষ দাবীর পরের ঘটনা।

হাউজিং খাতে অতিরিক্ত অর্থায়নের লক্ষ্যে গৃহিত এই প্রকল্পে ১১৯ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের সিদ্ধান্তটি মি. জন বিগ্স-এর একান্ত সিদ্ধান্ত। একটি অস্পষ্ট রিপোর্টের ভিত্তিতে গৃহিত সামর্থের মধ্যে বাড়ি প্রদানের এই প্রকল্পে বিশাল অংকের বিনিয়োগ করে তাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। মেয়র একটি বিশাল ব্যয়ে ফুল কাউন্সিলের অনুমোদনও চেয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে এ ধরনের অনেকগুলো উদ্বেগজনক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মেয়র বিগস তার অনেক বড় কাজের বিষয়ে বেস্ট ভ্যালু ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডের কাছে গিয়েছেন। কিন্তু, এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তিনি বোর্ডে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি।

এ প্রতিবেদনের ৮১ পৃষ্ঠায় সুপারিশ করা হয়েছে যে, সেবা বা কাজের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। বেস্ট ভ্যালু বোর্ড যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে ক্রয় প্রক্রিয়া তার অন্যতম।

ক্যাবিনেটকে অবহিত না করেই নির্বাচনমুখী বছরে মেয়র বিগ্স তার ‘মেয়রাল ডিসিশান’ বা নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা ১১৯ মিলিয়ন পাউন্ড একটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত। অথচ এ ক্ষেত্রে কোনরুপ  সুষ্পষ্ট ধারণা নেই বা এটি যথাযথভাবে নিরীক্ষণও করা হয়নি। এটি বেস্ট ভ্যালু বোর্ডেও পাঠানো হয়নি এবং এটি নিরীক্ষণ কমিটিতেও পাঠানো প্রয়োজন ছিল।

বেক্সিটের বিষয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস যেমন অনিশ্চয়তায় ভুগছে। একইভাবে লেবার পার্টি মেয়রও আগামী নির্বাচনের বিষয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close