আরববিশ্ব জুড়ে

ফিলিস্তিনের রাজধানী পূর্ব জেরুজালেম

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করেছে মুসলিম দেশগুলোর সহযোগিতামূলক সংগঠন ওআইসি।

তাদের এ পদাঙ্ক অনুসরণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে। বুধবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওআইসির জরুরি সম্মেলন থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেম ইস্যুতে যে অবস্থান নিয়েছে তা বিপজ্জনক। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান বর্তমানে ওআইসির সভাপতি। গত সপ্তাহের বুধবারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেন।

এ নিয়ে মুসলিম বিশ্বসহ সচেতন মহল ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। দেশে দেশে পোড়ানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা। এমন অবস্থায় করণীয় নির্ধারণ করতে জরুরি ভিত্তিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওআইসির জরুরি সম্মেলন আহ্বান করেন এরদোগান। তার আহ্বানে নিয়মিত কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে সদস্য দেশগুলোর নেতারা যোগ দেন ইস্তাম্বুলের সম্মেলনে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। আহ্বান জানানো হয়, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ও পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানীর স্কীকৃতি দিতে। সম্মেলন শেষে ওআইসি এক বিবৃতি দেয়।

তাতে বলা হয়, ৫৭ সদস্যের এই গ্রুপটি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হয় ফিলিস্তিনের ভূমি ইসরাইলের দখলমুক্ত করার। বলা হয়, যদি অবৈধ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহ্যার করা না হয় তাহলে সমস্ত পরিণতির জন্য দায়ী থাকবে ট্রাম্প প্রশাসন।

ওআইসির বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা মনে করছি ট্রাম্প প্রশাসনের এই ঘোষণা অত্যন্ত ভয়াবহ। এর মধ্য দিয়ে ওই শহরের আইনগত মর্যাদা পরিবর্তন বোঝানো হয়। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্ত সারশূন্য। এর কোনো আইনগত বৈধতা নেই।

এ নিয়ে আল জাজিরার সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, ইস্তাম্বুলের এই সম্মেলনে যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো শান্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ফিলিস্তিনি, আরব ও মুসলিমরা। এখন মুসলিম দেশ ও অন্যরা, যারা ফিলিস্তিনের মিত্র তাদের উচিত জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা যারা সমর্থন করবে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এসব মুসলিম দেশ। বুধবার দিনের শুরুতে ওআইসির সেক্রেটারি জেনারেল ইউসেফ আল ওথাইমিন তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন। মুসলিম নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান এমন পদক্ষেপের জবাবে একত্রিত হয়ে কাজ করতে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের নিন্দা ও তা প্রত্যাখ্যান করছে ওআইসি। এ ঘোষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের অনুভূতিতে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। এতে আঞ্চলিক এবং তার ধারাবাহিকতায় বিশ্বে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। তার বক্তব্যের আগে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘোষণার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি আলোচনায় নিজেদেরকে অযোগ্য করে তুলেছে। তারা ইসরাইলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ওআইসি। এরপর থেকে তারা মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত কণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

গত ৬ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। কিন্তু তাতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে এখনও তার এ সিদ্ধান্তে সমর্থন আসেনি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাকে বিমুখ করেছে তারা। সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার ওই সিদ্ধান্ত মানে না।

এমনই এক প্রেক্ষাপটে মাহমুদ আব্বাস ওই সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। শান্তি আলোচনায় তাদের কোনো ভূমিকা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী এবং সব সময়ই তা থাকবে। ফিলিস্তিনিরা সব সময়ই তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখে থাকে পূর্ব জেরুজালেমকে। এই অংশটি মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। ১৯৬৭ সালে যুদ্ধের সময় ইসরাইল এই পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। কিন্তু ফিলিস্তিন তা মানে না। তাই বুধবার জেরুজালেম ইস্যুতে সবচেয়ে কড়া বক্তব্য উপস্থাপন করলেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট আব্বাস। ওদিকে ফিলিস্তিনের রামাল্লাহয় অবস্থান করছিলেন আল জাজিরার সাংবাদিক হোদা আবদেল হামিদ।

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর অনেক নিন্দা জানানো হয়েছে। তা ছাড়া অনেক চুক্তি হয়েছে অতীতে। কিন্তু কোনো কিছুতেই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাই অত্যন্ত হতাশায় ভুগছে ফিলিস্তিনিরা।

উল্লেখ্য, বুধবারে ইস্তাম্বুলের সম্মেলনে ২০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সৌদি আরব শুধু তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে দায় শোধ করেছে। মিশর ও অন্য কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এতে যোগ দিয়েছিলেন। এই সম্মেলনের চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার বক্তব্যে ইসরাইলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বলে অভিযুক্ত করেন।

বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণা সারশূন্য। কারণ, শুধু সুবিধাভোগী ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশ তার এ সিদ্ধান্তে সমর্থন দেয়নি। দু’এক মিনিট যদি কেউ জেরুজালেমের রাস্তায় হাঁটেন তাহলে তিনি বুঝতে পারবেন এটি একটি দখল করে নেয়া ভূমি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close