ইউরোপ জুড়ে

অস্ট্রিয়ায় আরও কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রিয়ার অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সদ্য ক্ষমতায় আসা রক্ষণশীল জোট সরকার। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যুতেও আরও কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

উগ্র ডানপন্থী ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে রক্ষণশীল অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি ক্ষমতায় আসার পরপরই জোটের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এলো। শনিবার ভিয়েনায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের নেতারা এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি’র নেতা সেবাস্টেইন কারজ এবং ফ্রিডম পার্টির নেতা হেইনজ ক্রিস্টিয়ান স্ট্রাচ সাংবাদিকদের বলেন, নতুন সরকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখবে। একটি নিরাপত্তা প্যাকেজ তৈরি করা হবে এবং শরণার্থী নীতির বিষয়টি আরও কঠিন করা হবে।

এদিকে ইউরোপে একমাত্র দেশ হিসেবে অস্ট্রিয়াতে উগ্র ডানপন্থীরা ক্ষমতায় আসায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অন্য দেশগুলোতে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের মতো অস্ট্রিয়া-ও ২৭ জাতির ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন অনেকে।

তবে শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের দুই নেতাই জানিয়েছেন, ইইউ-এর ব্যাপারে তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ৩১ বছরের সেবাস্টেইন কারজ জোট সরকারের চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আর ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নেবেন ফ্রিডম পার্টির নেতা হেইনজ ক্রিস্টিয়ান স্ট্রাচ।

এ বছরের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রিয়ার ক্ষমতাসীন জোটে ভাঙন ধরে। ফলে সামাজিক গণতান্ত্রিক দল এসপিও এবং রক্ষণশীল অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই নতুন করে পার্লামেন্ট নির্বাচন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয় পায় অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি এবং ফ্রিডম পার্টির মধ্যকার জোট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভ্যান ডার বেলেন এই জোট সরকারকে অনুমোদন দিয়েছেন।

নির্বাচনি প্রচারের সময় পিপলস পার্টির প্রতিশ্রুতি ছিল ইউরোপে অভিবাসীদের ঢোকার পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। শরণার্থীদের কল্যাণ ভাতা সীমিত করা হবে। অস্ট্রিয়ায় পাঁচ বছর বসবাসের আগে তাদের কোনও ভাতা দেওয়া হবে না।

পিপলস পার্টির নেতা অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি’র নেতা সেবাস্টেইন কারজ (৩১) পৃথিবীর সবচেয়ে কম বয়সী সরকারপ্রধান হতে যাচ্ছেন। ফ্রিডম পার্টির নেতা হেইনজ ক্রিস্টিয়ান স্ট্রাচ নির্বাচনি প্রচারের সময় তাকে প্রতারক বলে আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, তিনি ফ্রিডম পার্টির এজেন্ডা ‘চুরি করেছেন’। তবে নির্বাচনের পর এখন ক্ষমতার স্বার্থে দুই দল জোটবদ্ধ হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইউরোপজুড়ে ডানপন্থীদের দলগুলোর প্রভাব বাড়ছে। তারা অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। তবে অস্ট্রিয়ার ফ্রিডম পার্টির মতো ইউরোপের অন্য ডানপন্থীরা কিছু নির্বাচনি সাফল্য পেলেও এখনই ক্ষমতায় আসার মতো অবস্থায় নেই।

এ বছরের শুরুর দিকে ফ্রান্সের নির্বাচনে ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্টের মারিন লা-পেন উদারপন্থী ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন। নেদারল্যান্ডসের নির্বাচনেও অভিবাসনবিরোধী গিয়ার্ট ভিল্ডার্স পরাজিত হন। জার্মানির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ডানপন্থী এএফডি দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close