অন্য পত্রিকা থেকে

কাউন্সিলর শামীমা অবরুদ্ধ উত্তপ্ত সিলেট নগর ভবন

ওয়েছ খছরু: কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীনকে নিয়ে উত্তপ্ত সিলেট সিটি করপোরেশন। গতকাল বিকালে শামীমা স্বাধীনকে একটি কক্ষে বন্দি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে তারা কর্মবিরতিও শুরু করেন। তাদের আন্দোলনের মুখে বিকালে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কাউন্সিলরদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন।

পরে ওই বৈঠক শেষে মেয়র ও কাউন্সিলররা জানিয়েছেন- শামীমা স্বাধীন যে দোষ করেছেন তার জন্য তাকে পরিষদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এই ঘোষণার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে যোগ দেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত ১৮, ১৯, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীন। গেলো সিটি করপোরেশন নির্বাচনে

শামীমা স্বাধীন ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের কক্ষে যান শামীমা স্বাধীন। এ সময় তিনি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে তার এলাকার তিনটি কাজের ওয়ার্ক ওয়ার্ডার কবে দেয়া হবে- জানতে চান।

কিন্তু প্রধান প্রকৌশলী শামীমা স্বাধীনকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এতে ক্ষেপে উঠেন শামীমা স্বাধীন। তিনি বলেন- ‘টেন্ডার হয়ে গেছে অনেক আগে। অন্যদের কাজ শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু আমার ওয়ার্ডে কাজ শুরু হচ্ছে না কেন?’ এ প্রশ্ন করতে ক্ষেপে উঠেন প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান। এ নিয়ে শামীমা স্বাধীনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। দুই জনই উচ্চস্বরে কথাবার্তা বলেন। একপর্যায়ে শামীমা স্বাধীন প্রধান প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শামীমার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারাও শামীমা স্বাধীনের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর পাশের একটি কক্ষে শামীমাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পাশাপাশি বাইরে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীনের হাতে প্রধান প্রকৌশলী লাঞ্ছিত হওয়ার খবর সিটি করপোরেশনে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা এ সময় কর্মবিরতি ঘোষণা করে শামীমা স্বাধীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিটি করপোরেশনের মূল ফটকের ভেতরে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

এদিকে- ঘটনার সময় নিজ কার্যালয়েই ছিলেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি ঘটনার পরপরই গিয়ে কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক করেন। সিটি করপোরেশনের স্বার্থে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কর্মচারীদের কাছে কক্ষে বন্দি থাকা কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীনকে মুক্ত করে তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

এদিকে- ঘটনার পর সিটি করপোরেশনে উপস্থিত থাকা সিনিয়র কাউন্সিলরদের নিয়ে তাৎক্ষণিক তার কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় ওই বৈঠকে শামীমা স্বাধীনও উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক চলাকালে বাইরে দাঁড়িয়ে শামীমার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে জরুরি বৈঠক থেকে বেরিয়ে আন্দোলনে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন মেয়র ও কাউন্সিলর। তার আগে কর্মকর্তাদের পক্ষে সিনিয়র এক নেতা বক্তব্য রাখেন। তিনি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার জন্য আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুরোধ জানান।

প্রথমে কাউন্সিলরদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আজাদুর রহমান আজাদ। তিনি জানান- পরিষদ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শামীমা স্বাধীনকে বহিষ্কার করা হবে। এই সিদ্ধান্ত তারা আজ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন- যে ঘটনা ঘটেছে সেটির জন্য আমরা নিজেরাও অনুতপ্ত। সিটি করপোরেশনের স্বার্থে সবাইকে এখন সংযমী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। পরে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন- ‘প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কাউন্সিলর শামীমার যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনায় সবাই অনুতপ্ত। এ কারণে সিলেট সিটি করপোরেশনের স্বার্থে বিকালে পরিষদ জরুরি বৈঠক করেছে।

ওই বৈঠকে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন- ‘সিদ্ধান্তের বিষয়টি আজ বুধবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। এ নিয়ে দুই-তিন দিন সময় লাগবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’ এই সময়ের মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান। মেয়রের ঘোষণার পর উপস্থিত থাকা শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে কাজে যোগ দেন। সবাই কাজে চলে যাওয়ার ১৫ মিনিট পর কাউন্সিলরদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন শামীমা স্বাধীন।

উপস্থিত থাকা সাংবাদিকদের তিনি বলেন- ‘তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ।’ সন্ধ্যায় অভিযুক্ত কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীন মানবজমিনকে বলেন- তার ওয়ার্ডের তিনটি প্রকল্পের কাজের টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও ওয়ার্ক ওয়ার্ডার দেয়া হচ্ছে না। এজন্য তিনি বারবার মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখলেও ওয়ার্ক ওয়ার্ডার দিচ্ছেন না। এ কারণে কাজ শুরু হচ্ছে না। মঙ্গলবার প্রধান প্রকৌশলী প্রথমে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। তবে শামীমার এ বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা বলেন- শামীমার আচরণ সবাই দেখেছেন। সুতরাং কে দোষী সেটি আর প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close