Featuredরাজনীতি

চাপা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিল ২রা জানুয়ারি

নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সেচ্ছাচারীতার অভি‌যোগ: নেতাকর্মীরা জানেন না কোথায় কখন হবে কাউন্সিল

রাজনীতি ডেস্ক: আগামী ২রা জানুয়ারি লন্ডনস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

আর যুক্তরাজ্য বিএনপির এই কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে দলীয় কার্যালয়ে। কাউন্সিলর নির্বাচন প্র‌ক্রিয়া, প্রার্থীতার প্র‌ক্রিয়া নি‌য়ে সেচ্ছাচারীতার অভি‌যোগ উঠেছে যুক্তরাজ্য বিএন‌পির বর্তমান নেতৃ‌ত্বের বিরু‌দ্ধে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাত পোহা‌লে মঙ্গলবার সকা‌লে যুক্তরাজ্য বিএন‌পির কাউন্সিল। অথচ দ‌লের বর্তমান ক‌মি‌টির সভাপ‌তি, সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কেউ এখ‌নো জানেন না কোথায় সে কাউন্সিল। কারা কাউন্সিলের নির্বাচন ক‌মিশনার। সম্ভাব্য প্রার্থীরা র‌য়ে‌ছেন অন্ধকা‌রে।

নেতাকর্মী‌দের ম‌ধ্যে বিরাজ কর‌ছে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা। বি‌শেষ ক‌রে গত দু‌দিন ধ‌রে বর্তমান সভাপ‌তি ও সাধারণ সম্পাদ‌কের কিছু অনৈতিক কাজ ও বক্ত‌ব্যের ভি‌ডিও ভাইরাল হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে যুক্তরাজ্য জু‌ড়ে ‌বিএন‌পির নেতাকর্মীদের মা‌ঝে।

ওই কাউন্সিলকে ঘিরে প্রতিদিনই দলীয় কার্যালয়ে পদপদবী প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা ভিড় করছেন। লবিং করছেন দলটির নীতি-নির্ধারণী ফোরামের নেতাদের কাছে।

যুক্তরাজ্য বিএনপির বহুল বিতর্কিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ৭ মাস আগেই। দু বছর আগে এই কমিটি যখন সেন্ট্রাল থেকে অনুমোদন লাভ করে তখন থেকেই শুরু হয়েছিল এই কমিটির বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন।

২রা জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্টানের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটি অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে। কিন্তু যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ এই কাউন্সিল সম্পর্কে তারা এখনও কোনো কিছু জানেন না।

আগামী কমিটিতে যারা সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিযোগিতা করতে চান তাদের কাউকেই উক্ত কাউন্সিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি। এমন কি রাত পোহালে কাউন্সিল তারা এখনও জানেন না কাউন্সিলে নির্বাচন হলে সে কাউন্সিলে কমিটি কাউন্সিলারদের সরাসরি ভোটার মাধ্যমে হবে কী না। ভোটের মাধ্যমে হলে কারা ভোটার হবেন। কোন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে কি না, তারা প্রার্থী হবেন কিভাবে, এসব প্রশ্নের উত্তর নেই স্বয়ং সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কাছে। এমন কি কাউন্সিলের স্থান এবং সময় সম্পর্কেও কিছু জানানো হয়নি নেতাকর্মীকে।

এমতা অবস্থায় যারা সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন তারা কিভাবে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করবেন সে সম্পর্কেও কোন ধারণা নেই কারো। যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন যদি তারেক রহমান উপস্থিত হয়ে যেকোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেতৃত্ত নির্বাচন করে কমিটি গঠন করে দেন তাহলে এই কমিটিকে সবাই স্বাগত জানাবে। অন্যতায় এমন অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া মাধ্যমে কাউন্সিল অনুষ্টান হলে এমন অস্বচ্ছ কাউন্সিল প্রত্যাখ্যান করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন অধিকাংশ নেতাকর্মী।

সাধারণ নেতা কর্মীদের কাছে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তারেক রহমান কেন এমন অসাংগঠনিক, অনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাউন্সিল অনুষ্টানকে বাতিল করার নির্দেশ দিচ্ছেন না এমন প্রশ্ন যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতির ময়দানে। যার নির্দেশ এবং ইশারায় বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করতে প্রস্তুত তার চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলা ভংগের নজিরবিহীন ইতিহাস। সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারন সম্পাদক কয়সর এম আহমদের অগঠনতান্ত্রিক ও বিএনপির গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট বিরোধী বিভিন্ন সিদ্বান্ত, কর্মকান্ড, দল পরিচালনায় অসচ্ছতার বিষয়ে কেউ কোন প্রশ্ন তুলতেও পারছেন না।

কেননা কেউ কোনো প্রশ্ন তুললেই তার উপর নেমে আসছে বহিস্কারের জুজুর ভয়। দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের নামে পেছনের তারিখ দেখিয়ে (ব্যাকডেটে), কোন ধরনের কারন দর্শানো বা ব্যাখার সুযোগ না দিয়েই বর্তমান কমিটির আমলেই বহিস্কার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রান নেতাকে। তার কোন সমাধান না দিয়ে কাউন্সিলর তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

এসব ঘটনার নেপথ্যে যিনি কাজ করছেন এবং জুরেসুরে উচ্চারণ হচ্ছে তিনি তারেক রহমানের পিএস আব্দুর রহমান সানির নাম। তাকে নিয়েই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ এবং সভাপতি এম এ মালিক।

তা‌রেক রহমান বরাব‌রে, ‌লি‌খিত এক অভি‌যোগ করেন আসন্ন সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সা‌বেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক না‌সিম আহমদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য যুবদ‌লের সা‌বেক আহবায়ক দেওয়ান মুকা‌দ্দেম চৌধুরী নিয়াজ, বর্তমান ক‌মি‌টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দীন, তা‌হির রায়হান চৌধুরী পা‌বেল, সভাপ‌তি পদপ্রার্থী মোঃ শরীফুজ্জামান চৌধুরী তপন, কাজী ইকবাল হো‌সেন, মু‌জিবুর রহমা‌ন।

অভি‌যোগপত্রে তারা উল্লেখ্য করেন- গত ২৪শে ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য বিএনপির জরুরি সভা অনুষ্টিত হয়েছিল। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল যে, নতুন কমিটি গঠনে আপনার সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মী সবাই মেনে নেবে।

আপনার উপস্থিতি ছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিল বা সম্মেলন অনুষ্টান করা কোন অবস্থাতেই সম্ভব হবে না। কিন্তু এর পরের দিনই আমরা একটি অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম যে ২রা জানুয়ারি যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু উক্ত কাউন্সিল অনুষ্টানের কয়েকটি বিষয়ে এখনও নেতাকর্মীদের মাঝে সংশয় রয়েছে। আমরা জান‌তে চাই,

১। এই কাউন্সিলে আপনার সম্মতি রয়েছে কি না। ২। কাউন্সিলে আপনার উপস্থিতি থাকবে কী না। ৩। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হলে সে কমিটি কাউন্সিলারদের সরাসরি ভোটার মাধ্যমে হবে কী না? ৪। কে হবেন নির্বাচন কমিশনার? ৫। ভোটের মাধ্যমে হলে কারা ভোটার হবেন? কারা কাউন্সিলার হবেন? কাউন্সিলের স্থান কোথায় এবং কখন হবে?  ৬। কাউন্সিলারদের তালিকা তৈরী করা না হলে যারা সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক, তারা কিভাবে কোন পক্রিয়ায় কার কাছে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করবেন। ৭। কাউন্সিলারদের চূড়ান্ত তালিকা না পেলে কিভাবে কাদের কাছে ভোট চাইবেন।

অন্যদিকে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বপদে বহাল থেকে একই পদের জন্য বর্তমান পদবি ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা ও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক একে অন্যের জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন এমন প্রমাণও আমাদের কাছে রয়েছে। অথচ আমরা যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক আমরা এখনও জানিনা কারা ভোটার হবেন, কারা কাউন্সিলার হবেন।

একই অভি‌যোগপত্রে উল্লেখ করা হয়- যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি একটি টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছেন যুক্তরাজ্যের অধীনস্থ ৬০টি শাখা কমিটি রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ৫৬টি শাখার কথা অথচ আমরা দপ্তর সম্পাদকের কাছে অফিসিলি অনুমোদিত শাখা কমিটির জানতে চাইলে তিনি ৪৫টি কমিটির লিস্ট সাক্ষর করে আমাদেরকে দিয়েছেন। এই ৪৫টি কমিটির মধ্যে অনেকগুলো কমিটি সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণাই নেই। কখন কিভাবে এসব কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে আমাদের জানা নেই।

অতএব, এখন আমাদের বক্তব্য হচ্ছে ২রা জানুয়ারির কাউন্সিলে আপনার সদয় উপস্থিতি থাকে তাহলে আমাদের কোন প্রশ্ন নাই। এ বিষয়ে আপনার সিদ্ধান্তই আমাদের সকলের জন্য শিরোধার্য হবে। কিন্তু কাউন্সিল অনুষ্টানে আপনি না এলে উপরোক্ত প্রশ্নগুলো নেতাকর্মীদের মনে থেকেই যাবে।

সেক্ষেত্রে সকলের দাবি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ কাউন্সিল অনুষ্টানের স্বার্থে বর্তমান মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে সেই কমিটির মাধ্যমে সকল জোনাল কমিটিকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্গঠন করে একটি সুন্দর কাউন্সিল অনুষ্টিত হোক। যাতে করে কাউন্সিল ও ভোটার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয় এবং প্রার্থীগণ তাদের নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করার সুযোগ পায় এবং ভোটার/কাউন্সিলারদের তালিকা আগে থেকেই তৈরী থাকে যাতে করে প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। যা এই সময়ের মধ্যে সম্ভব হবে না।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ২রা জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিলের অনুষ্টানের কথা জানলেও কাউন্সিল কোথায় কিভাবে অনুষ্টিত হবে এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক কারো কাছে কিছুই স্পষ্ট করেন নি।

বিভিন্ন মিডিয়ায় দেয়া বক্তব্যে বোঝা যায়, ‌নির্বাচনে বি‌রোধী বলয় বর্তমান ক‌মি‌টির সভাপ‌তি ও সাধারণ সম্পাদক নি‌জে‌দের পদ ধ‌রে রাখ‌তে সব ধর‌নের চেষ্টা চালা‌চ্ছেন। সু‌যোগ দেয়া হ‌চ্ছে না লে‌ভেল প্লে‌য়িং ফি‌ল্ডের। এমন প‌রি‌স্থি‌তি‌তে বর্তমান ক‌মি‌টির সভাপ‌তি সাধারণ সম্পাদ‌কের প‌ক্ষের বিরু‌দ্ধে ঐক্যবদ্ধভা‌বে মু‌খোমু‌খি অবস্থান নি‌য়ে‌ছে ‌বি‌রোধী বলয়গু‌লো। বিরাজ কর‌ছে চাপা উত্তেজনা।

নাম না প্রকা‌শের শ‌র্তে একজন দা‌য়িত্বশীল নেতা বাংলা মিডিয়াকে ব‌লেন, যুক্তরা‌জ্যে বিএন‌পির শীর্ষ নেতা‌দের কে‌লেংকারী ও স্পর্শকাতর ঘটনায় হতাশ খোদ বিএন‌পির জৈষ্ট্য ভাইস চেয়ারম্যান তা‌রেক রহমান নি‌জেই। এক এগা‌রোর পর তা‌রেক রহমান লন্ড‌নে বসবাস শুরু ক‌রেন। এরপর থে‌কে যুক্তরাজ্য বিএন‌পির প্র‌তিটি সম্মেলন ও নেতৃত্ব নির্বাচন প্র‌ক্রিয়ায় সরাস‌রি জ‌ড়িত ছি‌লেন তি‌নি। বিগত দু‌টি সম্মেলনে প্রধান অতি‌থি হি‌সে‌বে যোগও দেন তিনি। কিন্তু, ‌বি‌ভিন্ন কার‌নে এবার তা‌রেক রহমা‌নের মঙ্গলবা‌রের সম্মেলনে যোগ দেবার সম্ভাবনা কম।

আর এবা‌রের এ নির্বাচন আগের রী‌তি ভে‌ঙ্গে কেন তা‌রেক রহমান সম্মেলনে উপ‌স্থিত হ‌চ্ছেন না, এ প্র‌শ্নের উত্ত‌রের খো‌জেঁ নানা সমীকরন মেলা‌নোর চেষ্টা কর‌ছেন নেতাকর্মীরা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close