Featuredলন্ডন থেকে

ব্যাপক সমালোচনা-উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিল স্থগিত

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ২রা জানুয়ারি মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও তা হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে।

কাউন্সিল প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর আগামী ২ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার রাতে যুক্তরাজ্য বিএনপির অফিসে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এ ঘোষণা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান।

এ সময় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। বর্তমান সভাপতি এম এ মালেক সোমবার রাতের বিশেষ জরুরী সভায় তিনি তার অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।

তিনি বলছেন, আগামী কাউন্সিলে সভাপতি হবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নন। এ সময় তিনি আবেগময়ী বক্তব্যে রেখে বলেন, এই দলের জন্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় দিয়েছি। পরিবারকে সভায় দিতে পারিনি। ছেলে-মেয়েরা মানুষ হয়েছে তার মায়ের কাছে। তাদের প্রয়োজনের সময় পাশে থাকতে পারিনি। এই দেশে বেড়ে উঠা ছেলে-মেয়েরা আমার উপর তাদের অনেক অভিযোগ। এখন সময় হয়েছে পরিবারকে সময় দেয়ার। তিনি বলেন, আমার সভাপতি হওয়ার ইচ্ছাপূরন হয়েছে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের একান্ত ইচ্ছায়। আমি আজীব তার কাছে ঋনী। দলে শীর্ষ পদে না থাকলেও পিছনের সারী থেকে কাজ করব।

এদিকে টানা তৃতীয়বারের মত সাধারণ সম্পাদক হতে ইচ্ছুক বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ এক স্বাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাজ্যে বর্তমান গতিশীল আন্দোলন সংগ্রামের ধারা অব্যাহত রাখতে একই পদে থেকে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত। আর এব্যাপারে নেতাকর্মীদের উপর তার আস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিশেষ সভায় বিএনপির নেতাদের বক্তব্য দেওয়া ও লাইভ ফেইসবুকে সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে সভা আবারো শুরু হয়। একাদিক নেতার ফেইসবুকে লাইভ চলে দলের আভ্যন্তরিন অন্ত:কোন্দলের চিত্র।

কাউন্সিলের জোনাল কমিটির সংখ্যা নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়। এক টিভি স্বাক্ষাতকারে সংগঠনের সভাপতি এম এ মালিক বলছেন জোনাল কমিটি ৬০টি কিন্তু সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ বলেন এর সংখ্যা ৪৫টি।

তবে কিছু প্রস্তাবিত কমিটি রয়েছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক উভয়ই নিশ্চিত করেন বিগত দুই কাউন্সিলের মত এবারো বিভিন্ন জোনাল কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের মতামতের ভিত্তিতেই নতুন কমিটি উপহার দিবেন।

এ সময় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। তবে গত সপ্তাহে জরুরী এক সভার মাধ্যমে মঙ্গলবারের কাউন্সিল ঘোষণা করেন নেতৃবৃন্দ।

এবারের কাউন্সিলে সভাপতির পদে তেমন কোন শীর্ষ নেতার নাম শোনা না গেলেও আবারো দলের শীর্ষ পদে ফিরে আসতে চান সাবেক সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ।

বাংলা মিডিয়ার সাথে আলাপকালে তিনি জানান, তার সাথে বিভিন্ন জোনাল কমিটির নেতৃবৃন্দ যোগাযোগ করছেন। তার অতীত কাজের জন্য তাকে আবারো সভাপতি পদে দাঁড়াতে তারা উৎসাহিত করছেন।

এদিকে, শেষ মুহুর্তে সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন সভাপতি প্রার্থী হচ্ছেন বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জানান, তার অবস্থান পরিবর্তের পক্ষে থাকবে। তবে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যাকে দিয়ে কমিটি দিবেন তিনি তা মেনে নিবে।

এর আগে বিভিন্ন মিডিয়ায় দেয়া বক্তব্যে বর্তমান সভাপতি এম এ মালেক আবারো সভাপতি পদে থাকতে ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তার মতে বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর পতন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে থেকে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনকে আরো গতিশীল করতে চান।

এদিকে সাধারণ সম্পাদকের পদে পরিবর্তন আনতে প্রার্থী হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা। এর মধ্যে রয়েছেন- যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমদ চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল ও যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক আহবায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ। তবে তারা কাউন্সিলের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের উদ্বেগের বিষয়টি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কাছেও লিখিত আকারে পাঠানো হয়েছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close