সিলেট থেকে

নিউ ইউর্কের ২০১৭ এর বিশ্ব সিলেট সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক: নিউ ইয়র্কে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব সিলেট সম্মেলন ছিল একটি মাইল ফলক।  জালালাবাদ এসোসিয়েশন অফ আমেরিকার উদ্যোগে সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা একটি অঞ্চলের মানুষের সমন্বয় ঘটেছিল অপরিসীম আন্তরিকতায়। প্রধান  উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের বিশেষ করে পশ্চিমের দেশ গুলোর সিলেটি পরিবারের ভিতরে শত বছরের ঐতিহ্যের বন্ধনে নুতুন করে উদ্বুদ্ধ করা। এই সমন্বয়ের মাধ্যমে সিলেটের সংস্কৃতি, অসাম্রদায়িক ঐতিহ্য, জীবনের মান  এবং পরিবেশের উন্নতির প্রচেষ্ঠার একটি ধারাবাহকিতার অংশ। অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ছিল প্রত্যেকটি মুহূর্ত।

তদুপরি বিশ্বের সেরা বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে , বিশিষ্ট বরেণ্য ব্যাক্তিত্ত, আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান শিল্পী বৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী, নুতুন প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষের পদচারণায় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দুইদিন ব্যাপী নিউ ইয়র্ক শহরে  পাঁচ থেকে সাত  হাজার মানুষের হয়েছিল একটি মিলন মেলা।

পশ্চিমা দেশের মানুষরা ছাড়াও নিজ খরচে বাংলাদেশের একটি বিরাট দল, ভারতের উদ্যোক্তারা সহ অন্যান্য সবার উপস্থিতি প্রমান করেছিল বিনা সুতায় বাধা রয়েছে  সিলেটের জন্য ভালোবাসা।  নিজেদের এবং প্রজন্ম কে সংযুক্ত করা ছাড়াও আরো উদ্দেশ্যে ছিল নিজের অঞ্চলের জন্য দায়িত্ববোধ জাগিয়ে যে কোন আর্থিক, সামাজিক, বা মানবিক সহায়তায় সিলেট অঞ্চলের উন্নতির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা এবং সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে সম্পুর্ন ভাবে পরিহার আগের সেই সুন্দর দিনগুলিতে  ফিরে যাওয়া। এবারের  এবং পরবর্তী সম্মেলনের কাছে এই উদ্যোগ প্রতিফলিত না হলে বিশ্ব সিলেট সম্মেলন তার অঙ্গীকারে অপূর্ণ থেকে  যাবে।

সম্মেলনর রিপোর্ট:
নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা শহরের ইয়র্ক কলেজ  প্রাঙ্গনে  ২০১৭ এর সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ এবং ১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল জালালাবাদ বিশ্ব সিলেট সম্মেলন । একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে একটি ঐতিয্যের প্রাণ সঞ্চার হয়ে ছিল আন্তরিকতার আলোকে। এই সম্মেলনের উদ্দ্যোগ নিয়েছেন নিউ ইয়র্কের জালালাবাদ এসোসিয়েশন অফ আমেরিকা।

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে ১৮৭৪ সালে  আসাম প্রদেশ ভালো করে শাসন করার জন্য বেঙ্গল প্রদেশ থেকে সিলেট জেলাকে  কে আসাম প্রদেশের সাথে যুক্ত করে সিলেটিরা বহু আপত্তি করার পরে ও কোনো ফল হয়না।

সিলেটিরা তখন বাংগালী হয়েও বেঙ্গল প্রদেশের বাইরে অবস্থান করতে গিয়ে নিজেদেরকে  কে আসামি বলতে চাইতেন না কারণ আসামিরা অন্য একটি বিশেষ ঐতিহ্যবাহী জাতি। তারা তাই নিজেদেরকে “সিলেটি”  বলে আসামের  এর ভিতরে বিশেষ একটি জনগোষ্ঠী হিসাবে পরিচিতি লাভ  করলেন।

সিলেটিরা (সিলেটের বাঙালীরা) তখন একটি প্রতিকূল পরিবেশের চাপে  নিজেদের মধ্যে এক অভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ  হতে থাকলেন।   সিলেটের বাইরের এমনকি পার্শবর্তী অঞ্চলের বাঙালীদের সাথে আসা যাওয়ার বা পরিচিতির সুযোগ না থাকায় সিলেটের নিজেদের অঞ্চলের মধ্যে বিবাহ-বন্ধন থেকে শুরু করে বিভিন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবে এক সাথে অংশগ্রহণের জন্য হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ও একটি আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন হয়েছিল। সিলেটের অনেক মুসলিম পরিবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং বেশির ভাগ স্থানীয়রা বর্ণ হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত হওয়ার (প্রখ্যাত কবি হাসান রাজার পূর্ব পুরুষ জমিদার বিজয় সিংহ)  কারণে দুই গোত্রের ভিতর একটি সম্মানের সহঅবস্থান বিরাজ করতো।

প্রাচীনকাল থেকে সিলেটী মানুষের আতিথেয়তা, সহনশীলতার পাশাপাশি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশে অনেক জ্ঞানী, গুণী, কবি, ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেছিল । তদুপরি হজরত শাহজালাল (রা.) ইসলামিক সুফি আদর্শে ভালোবাসা ও সহনশীলতার অবকাঠামো  এবং সিলেটের সন্তান মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের প্রভাবে হিন্দুদের মধ্যে বৈষ্ণব ধর্মের মানবিক গুণগুলো প্রসার লাভ করে। সে কারণে সিলেটের বিভিন্ন পল্লী কবির সুরে ও ছন্দে সব ধর্মের মানুষকে একই সুতায় গাঁথে।

বিরাট অঞ্চল নিয়ে প্রাচীন  সিলেটের পরিচিতিতে আজকে  অনেক ভৌগোলিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।  আজ সরকারি ভাবে সিলেট বলতে শুধূ  সিলেট সদরকেই বুঝায়। সুনামগঞ্জ, মৌলভী বাজার, হবিগঞ্জ, জকিগঞ্জ আজ স্বনামে পরিচিত। তাতে কিছু আসে যায়না।আদি ও বৃহত্তর  সিলেটের আকর্ষণ ই হচ্ছে সত্যিকারের সিলেটি ঐতিহ্য। আজ সিলেট্ একটি শুধু মানচিত্র নয় আজ সিলেট বিশ্বায়ন  হয়েছে। প্রবাসী সিলেটি বলতে ও আর কিছু নেই। ভৌগোলিক সিলেটের বাইরে থেকেও ঐতিহাসিক সিলেটের অনুপ্রেরণায়, সামাজিক সিলেটের ভালোবাসায়,  সাংষ্কৃতিক  সিলেটের ঐতিহ্যে, অসাম্রদায়িক সিলেটের আত্মীয়তা বুকে ধারণ করে সবাই আজ স্ব স্ব জায়গায় থেকে ও তারা সিলেটি। তাই তারা সবাই বিশ্ব সিলেটি।

অনেকের মতে  ১৯০৬ সালে ও অথবা তার পূর্বেই সিলেট সম্মেলনের শুরু হয়।  কলকাতা, হবিগঞ্জ,সিলেট শহর এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন অনেক নামি দামি মানুষ। লক্ষ্য ছিল সিলেটের উন্নতি  ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখা। অনেক বছর বড় করে সিলেট সম্মেলন আর হয়নি তবে ২০১৫ থেকে ভারতের দক্ষিণ কলকাতা সিলেটি এসোসিয়েশন বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়ে কলকাতায় ইন্দো-বাংলা  সিলেটি সম্মেলন শুরু করে অভূতপূর্ব এক সাড়া  জাগিয়েছেন।

ঢাকা জালালাবাদ এসোসিয়েশন কতৃক ২০১৭  সালে বাংলাদেশের  ঢাকায় ও সিলেটে আন্তর্জাতিক সিলেট  সম্মেলন করে সুন্দর ভাবে তার পুনরাবৃত্তি ও প্রসার করেছেন । বিপুল সাড়া জাগানো এই ধারাবাহিকতাকে সমস্ত বিশ্বে ছড়িযে উত্তরোত্তর এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ব  সিলেট সম্মেলন। সম্মেলনে হয়েছিল একটি মিলন মেলা।

আমেরিকার বিভিন্য অঙ্গরাজ্য সহ বাংলাদেশ, ভারত, কানাডা,যুক্তরাজ্য , জাপান , জার্মানী , ফ্রান্স  ও অন্যান্য দেশ থেকে পাঁচ থেকে সাত  হাজার মানুষের অংশ গ্রহণ করেছিলেন।  সম্মেলনে  সংগীত, নৃত্য, সেমিনার, মিলন মেলা,  পরিচিতি, গুণীজনের সম্মাননা, শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রজন্মের অনুভূতি, ইত্যাদির সমন্বয়ে দুটি দিন  ছিল স্বপ্নের মত।

প্রস্তাবিত বিভিন্ন বাস্তব প্রকল্প গ্রহণ করার মাধ্যমে  সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিশেষত্বের সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

জালাবাদ বিশ্ব সিলেট সম্মে লনের আহবায়কের দায়িত্বে  ছিলেন ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ, তত্বাবধানে ছিলেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অফ আমেরিকার সভাপতি বদরুল হুসেইন খান, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অফ আমেরিকার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চৌধুরী, সম্মলনের সচিব: মিজানুর রহমান চৌধুরী সেফাজ, বিশ্ব সম্মেলন কে সফল করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন জালাবাদ এসোসিয়েশনের জালালাবাদের  বিভিন্ন কমিটির সদস্য বৃন্দ। নিউ ইয়র্কের সাধারণ মানুষের  আথিয়তা ও ভালোবাসার প্রদর্শন ও ছিল এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

বিশ্ব সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন প্রাক্তন উপদেষ্টা  রাশেদা কে চৌধুরী ( বাংলাদেশ) , ডাঃ দীপ্তা দে (ভারত) , পাশা খন্দকার ( যুক্তরাজ্য ), ইত্রাদ জুবেরী সেলিম ( মন্ট্রিয়েল) , সৈয়দ মাহবুব (টরোন্টো ),ও  সাকি চৌধুরী ( জার্মানী )

সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববরেণ্য সিলেটি ব্যক্তিত্ব,  বিশ্বের সর্ব বৃহৎ বেসরকারি সাহায্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদ। বিশেষ সম্মানিত আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন আমেরিকার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবী ডাঃ কালী প্রদীপ চৌধুরী (বাংলাদেশে ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে থাকায় অনুপস্থিত), বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এস,কে,সিনহা  (রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় অনুপস্থিত) মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব:) চিত্তরঞ্জন দত্ত বীর উত্তম, অ্যাপোলো ১১ চন্দ্র অভিযানের নেপথ্যে প্রকৌশলী বাংলাদেশের সিলেটের রফিক উদ্দিন আহমেদ  ও সিলেটের নারী শিক্ষার অগ্রদূত অধ্যক্ষা (অব:) হোসনে আরা আহমেদ (শারীরিক অসুস্থথার কারণে অনুপস্থিত)।

বাংলাদেশ থেকে অভূত  সহায়তা করেছেন ঢাকা জালাবাদ এসোসিয়েশনের কর্মকর্তা , বিশেষ করে সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা ও সভাপতি সি,এম তোফায়েল সামি  এবং সমন্বয়কারী রাশেদা কে চৌধুরী। সিলেটের সব জেলার বিভিন্য গুণীজন এবং নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানাতে তাদের সাহায্য ছিল অতুলনীয়।  অতদূর বাংলাদেশ থেকে ৪০ জনের এক বিরাট দলের যোগদান বিশ্ব সম্মেলনকে বিরল সন্মান ও সাফল্য এনে দিয়েছে।  তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য  ঢাকা জালালাবাদ সমিতির সভাপতি সি, এম. তোফায়েল সামি, বাংলাদেশের অর্থিনীতিবিদ ড:কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ, কেপিএমজি রহমান এন্ড রহমান পার্টনার আব্দুল হাফিজ চৌধুরী, বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ শায়লা খাতুন,  প্রাক্তন সচিব ও ঢাকা জালালাবাদের প্রাক্তন সভাপতি ড: আব্দুল মুবিন, জাতিসংঘের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ড: আব্দুল মোমেন,  গ্রীন ডেল্টা উপদেষ্টা নাসির, এ  চৌধুরী, প্রাক্তন সচিব ও উপদেষ্টা এনাম আহমেদ চৌধুরী, প্রাক্তন উপদেষ্টা  রাশেদা কে চৌধুরী, গ্রীন ডেল্টার উপদেষ্ঠা এ, এস ,এ মুইজ সুজন ,সচিব পরিক্ষীত দত্ত চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক ড: সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, ব্র্যাক এর স্বাস্থ ও আন্তর্জাতিক পরিচালক ফারুক আহমেদ, বেসরকারি সাহায্যসংস্থা সীমান্তিক  প্রধান ড: আহমেদ আল কবীর , ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী, পূবালী ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি হেলাল আহমেদ চৌধুরী, প্রাক্তন সচিব মাহমুদুর রাজা চৌধুরী, অধ্যাপক ডাঃ অরূপ রতন চৌধুরী, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক নারী ব্যাক্তিত্ত গ্রীন ডেল্টার এমডি ফারহানা চৌধুরী, ঢাকা জালালবাদ এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী, নাগরী ভাষার বিশেষজ্ঞ মুস্তাফা সেলিম, সিলেটের সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ত আনোয়ার হোসাইন রনি, সিলেট মহিলা কলেজ এলামনাই এর সহ সভাপতি ফরিদা নাসরীন, সিলেটের পরিবেশ কর্মী আব্দুল করিম কিমসহ অন্যান্যরা।

ভারত থেকে ডাঃ দীপ্তা দে ও প্রদোষ দে এর অনুপ্রেরণা ছিল একটি প্রধান উৎস। যোগদান করেন দক্ষিণ  কলকাতা সিলেট এসোসিয়েশন এর  ডাঃ দীপ্তা দে, বিপাশা দাসগুপ্ত, পাপিয়া রায়, শুভ্রা গুহ , পিয়ালী দে ও অন্যান্য, অল ইন্ডিয়া শ্রীহট্ট সম্মেলনীর প্রেসিডেন্ট কৃষ্ণা দাস ,বিপাশা দাসগুপ্ত,  সোনালী আচার্জি,  মুম্বাই এর সিলেটি সম্মিলনী থেকে বিমল ভট্টচার্যি , দৈনিক “যুগশঙ্খ: পত্রিকার কর্ণধার ও সম্পাদক বিজয়কৃষ্ণ নাথ, সাংবাদিক রক্তিম দাস, নিউ ইয়র্ক ভারতের কনসাল জেনারেল সন্দ্বীপ চক্রবর্তী ও আসামের সিলেট থেকে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার প্রধান ড: অমলেন্দু চক্রবর্তী, আসামের প্রাক্তন চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রাক্রিতি কুমার চক্রবর্তী, সাংস্তৃতিক ব্যক্তিত্ত ও ধামাইল নাচের পাঠশালার শুভ্রা চক্রবর্তী শিখা,  ও অন্যান্য।

যুক্তরাজ্যের হিমাংশু গোস্বামী, গৌরী চৌধুরী, নুতুন প্রজন্মের বক্তা সাবেরুল ইসলাম। লন্ডন চেম্বার অফ কমার্স এর নেতৃবৃন্দ, কানাডা থেকে ৭০ জনের একটি দলের মধ্যে ছিলেন দেশে বিদেশে টিভি ও পত্রিকার কর্ণধার নজরুল মিন্টু, মুক্তিযুদ্ধের লেখক এবং সংগ্রাহক তাজুল মোহাম্মদ, শিল্পী রনি প্রেন্টিস-রয়, শিল্পী সাবু শাহ, ডাঃ শাহান জায়গীরদার ,ইত্রাদ জুবেরী সেলিম, সৈয়দ  মাহবুব, টরন্টো জালালাবাদের সভাপতি দেবব্রত দে তমাল,  সদস্যবৃন্দ ও অন্যান্যরা.

বাংলাদেশ ও সিলেট থেকে অনেক অনুপ্রেরণা ও সাহায্য প্রদান করেছেন কর্নেল (অব:) আব্দুস সালাম বীর প্রতীক, সমাজকর্মী যেহিন আহমেদ , হাবিব আহসান ও যুগভেরী সম্পাদক অপূর্ব শর্মা, ড:আহমেদ মোস্তাকুর রাজা চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব:) আজিজুর রহমান বীর উত্তম, ও ফ্লোরিডা  থেকে মনজুর আহমেদ চৌধুরী ও  অন্যান্য।,

সকালে ১০টায় আমেরিকা জাতীয় সংগীত সহ  নিউ ইয়র্কের কংগ্রেস উইমেন গ্রেস মেং এর বক্তৃতার পর আমেরিকার এবং বিদেশী অতিথিদের নিয়ে জালালাবাদ এসোসিয়েশন এর সভাপতি বদরুল হোসাইন খান, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চৌধুরী, আহ্বয়াক ডাঃ জিয়াউদ্দীন আহমেদ, সচিব মিজানুর রহমান শেফাজ, সুতিপা চৌধুরী ও তার দল,  কমিউনিটি লিডার সালেহ আহমেদ, এমাদ চৌধুরী ও অন্যান্যরা সহ মঞ্চ ভরা মানুষেরা এক সাথে বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্ভোধনী করেন।

ব্রিটিশ কতৃক বিভক্ত  সিলেটের একটি অংশ (কাছাড় , করিমগঞ্জ)ভারতে থাকায় তাদের  সম্মানার্থে আমেরিকা এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের সাথে ভারতের জাতীয় সংগীত ও বাজান হয়।

সেমিনার পর্বে বিভিন্ন দেশের প্রধান বক্তারা বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। তারা  ছিলেন আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ মাসাচুসেট, ডার্টমাউথ এর ভাইস চ্যান্সেলর এবং প্রভোস্ট ড: মোহাম্মদ আতাউল করিম, বাংলাদেশের অর্থিনীতিবিদ ড: কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ, বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক ড: সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, ভারতের গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার প্রধান ড: অমলেন্দু চক্রবর্তী, যুক্তরাজ্যের নুতুন প্রজন্মের বক্তা সাবেরুল ইসলাম।

বিভিন্ন বিষয়ের প্যানেল এর বক্তারা ছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার অধ্যাপক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড: হায়দার আলী, ভারতের দৈনিক “যুগশঙ্খ: পত্রিকার কর্ণধার ও সম্পাদক বিজয়কৃষ্ণ নাথ, প্রেসিডেন্ট অল ইন্ডিয়া শ্রীহট্ট সম্মেলনী  কৃষ্ণা দাস, প্রাক্তন উপদেষ্টা এনাম আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ থেকে বেসরকারি সাহায্যসংস্থা সীমান্তিক প্রধান  ড: আহমেদ আল কবীর, বাংলাদেশ থেকে ডাঃ অরূপ রতন চৌধুরী, ভারতের সাংবাদিক রক্তিম দাস, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশক এবং লেখক মোস্তফা সেলিম, নিউ ইয়র্ক মেডিকেল কলেজ এর ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ সাদুজ্জামান চৌধুরী, নিউ ইয়র্ক মেডিকেল কলেজ এর প্যাথলজি বিভাগের প্রাক্তন  অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার এর অধ্যাপক ডাঃ বিমল দে, অর্থনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভোল্ট এর সেফও নিকি মুক্তাদির, নিউয়র্কের পরিবেশ কর্মী ফজলুর রহমান, লেখক শামসাদ হুসাম, সিলেটের পরিবেশ কর্মী আব্দুল করিম কিম, কানাডা থেকে মুক্তিযুদ্ধের লেখক এবং সংগ্রহক তাজুল মোহাম্মদ। ভবিষ্যতের সিলেটের রূপরেখা তুলে ধরেন জাতিসংঘের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ড: আব্দুল মোমেন ।

আনুষ্ঠানিক ভাবে বিকেলে উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রানা ফেরদৌস চৌধুরী।  বিভিন্য দেশের সমন্বয় কারীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। আর্থিক অনুদানকারী প্যাট্রন এবং স্পনসরদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জালালাবাদ সমিতির সভাপতি বদরুল হুসাইন  খান, সাধারণ  সম্পাদক জুয়েল  চৌধুরী ও আহ্বয়াক ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ।  মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন বিশেষ অতিথি মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জনা দত্ত বীর উত্তম এবং অ্যাপোলো ১১ চন্দ্র অভিযানের নেপথ্যে প্রকৌশলী বাংলাদেশের সিলেটের রফিক উদ্দিন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্ত্যবে স্যার ফজলে হাসান সম্মেলনের সফলতা কামনা করেন এবং এর মূল লক্ষে সিলেটকে উন্নতির প্রকল্পে ব্র্যাক এর সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

অসামান্য অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয় প্রয়াত মুক্তিযুদ্ধা ও সচিব ড:খসরুজ্জামান চৌধুরী, প্রয়াত সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ত আল মুক্তাদির এবং অপ্টিমিস্ট সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠানের স্থপতি মুহাম্মদ রফিক উদ্দিন চৌধুরীকে.

অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রজন্মদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও প্যানেল বক্তারা।  তারা ছিলেন বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক নারী ব্যাক্তিত্ত ও গ্রীন ডেল্টার এমডি ফারজানা  চৌধুরী , নিউ ইয়র্ক রাজ্যের এসিস্টেন্ট এটর্নি জেনারেল ইমরান আহমেদ, নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে প্রযুক্তির প্রসারের উদ্দ্যেক্তা শাহেদ আহমেদ, নিউইয়র্কের বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট চিকিৎসক ডাঃ সৈয়দা তানজিয়া হুসেইন, ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার পালমোনারি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার এর চিকিৎসক ডাঃ নাহরীন আহমেদ, টেক্সাস এর নেনো টেক কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট জামী হাফিজ, নিউইয়র্কের এন্টারপ্রিনার জগলুল হুদা মিঠু, নিউইয়র্কের  নিউ স্কুল সেন্টারের  প্রোগাম ডিরেক্টর ড:সাজ্জাদুর রহমান  ও নীলা চৌধুরী।

উল্লেখযোগ্য ছিল যুক্তরাজ্য থেকে আসা আন্তর্জাতিক ব্যাক্তিত্ত নুতুন প্রজন্মের বক্তা সাবেরুল ইসলাম শিকড়ের সন্ধানে এবং ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারের উপর  দুই দিন  ই অসামান্য বন্তব্য রাখেন ।

বিশ্ব সিলেটের যোগসূত্র স্থাপনের সেমিনারে জুয়েল চৌধুরীর পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের নাসির এ চৌধুরী, সি এম তোফায়েল সামি , ভারতের কৃষ্ণা দাস, ড:শান্তুনু দাস , বিজয় কৃষ্ণ দাস , জার্মানির সাকি চৌধুরী , জাপান থেকে শীতরু রায়, আমেরিকার এম. এম.শাহীন , ও বদরুন্নাহার খান মিতা।

সিলেটে চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য সেমিনারে অংশ গ্রহণ করেন ডাঃ মুহাম্মদ রহমান মুক্তা, ডাঃ জুন্নুন চৌধুরী, ডাঃ আসাদুর রহমান মিয়া, ডাঃ মোতাহার আহমেদ, ডাঃ মালেকা আহমেদ, ডাঃ লুৎফা খানম, ডাঃ ফাতেমা আহমেদ, ডাঃ নওশীন  হাকিম, ডাঃ মালিহা আহমেদ, ডাঃ কায়সার রশিদ, ও বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ শায়লা খাতুন।

দুই দিনই আলোচনা, সাহিত্য ও কাব্য জলসায় মুখর ছিল প্রাঙ্গন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পর্বকে উৎসর্গ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শন করাহয় সিলেটের কবিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের হাসান রাজা, রাধারমন, শাহ আব্দুল করিম, গিয়াসুদ্দীন সহ সিলেটের নব রত্ন, বিদিতলাল দাস,  পন্ডিত রামকানাইদাস, সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী, কবি অশোক বিজয় রাহা, সাহিত্যিক এবং গবেষক অমিতাভ চৌধুরী ও কবি  দিলোয়ারকে।

অংশ নিয়েছিলেন কবি  তমিজউদ্দিন লোদী , কবি কাজী আতিক , কবি ফকির ইলিয়াস,  কবি শাহীন ইবনে দিলওয়ার, লেখক শামসাদ হুসাম, সুব্রত বিশ্বাস, সউদ চৌধুরী, শিল্পী দুলাল ভৌমিক, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ত নজরুল কবির, মুস্তাফা সেলিম (বাংলাদেশ) আনোয়ার হোসাইন রণি (বাংলাদেশ) , আজাজ আলম , আনওয়ারুল লাভলু (বাংলাদেশ)।

“অপরাজেয় বাংলা” স্থাপত্যের শিল্পী সদ্য  প্রয়াত আব্দুল্লাহ খালেদের সম্মানার্থে শিল্পী জাহেদ শরীফ “অপরাজেয় বাংলার “একটি বিশাল প্রতিকৃতি মঞ্চের পাশে  স্থাপন করেন.

সিলেট সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : সম্মানীর প্রত্যাশা না করেই স্বতস্ফুর্থ ভাবে অংশ গ্রহন করেন শিল্পীবৃন্দ: বাংলাদেশ থেকে: সুবীর নন্দী, শুভ্র দেব, ডাঃ অরূপ রতন চৌধুরী, যুক্তরাজ্য  থেকে : হিমাংশু গোস্বামী, গৌরী চৌধুরী, আমেরিকা থেকে: তাজুল ইমাম, কাবেরী দাশ, কাদেরী কিবরিয়া, ফুয়াদ মুক্তাদির, সালাহউদ্দিন আহমেদ, রিনি দাস গুপ্তা ও তার নৃত্য দল, শান্তনীল ধর, রাহাত মুক্তাদির, প্রতিমা দাস মুমু, মুনিপুরী নৃত্য শিল্পী জগন্নাথ লাইরেনজাম, শীতেশ ধর, চন্দ্রিকা দে ও অন্যান্য।

কানাডা থেকে: রনি প্রেন্টিস-রয়  , সাবু শাহ . ভারত থেকে : প্রখ্যাত নৃত্য শিল্পী সোনালী আচার্জি (গিনিস ওয়ার্ল্ড বুক), ডাঃ দীপ্তা দে, বিপাশা দাসগুপ্ত, পাপিয়া রায় ,শুভ্রা গুহ , পিয়ালী দে । আরো ছিল মুগ্ধকর কলকাতার বিখ্যাত শিল্পী রূপঙ্কর ও কায়া  ব্যান্ড. অন্যতম আকর্ষনা ছিল ছায়াছবির প্রদর্শন।

সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ত নিউয়র্কবাসি নজরুল কবির পরিচালিত ও আহমেদ বকুলের রচিত  সুরে সুরে বাধা সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভিত্তিক এক ব্যতিক্রমধর্মী অভূত পূর্ব ছায়াছবি “সিলেটের পাঁচালী ” উদ্ভোধন  করা হলো . আন্তর্জাতিক  সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ত শাকুর মজিদ এর ছায়াছবি শাহ  আব্দুল করিমের জীবনী  “ভাটির পুরুষ  এবং ওপার বাংলা সিলেটের “দোহারের “অনবদ্য শিল্পী সদ্য  প্রয়াত কালিকা প্রসাদ ভট্টচার্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি. বাংলাদেশের প্রকাশক এবং লেখক মোস্তফা সেলিমের ‘নাগরী ভাষার” উপর তথ্যচিত্র ও  ডাঃ অরূপ রতন চৌধুরির “মাদক বিরোধী” তথ্যচিত্র. নিউয়র্কের অপ্টিমিস্টের তথ্য চিত্র, নিউয়র্কের হিউমান রাইট এর উপর তথ্য প্রদান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

সময়ের স্বল্পতায় কিছু ছবি আংশিক ভাবে দেখানো হয়. ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের  প্রাক্তন প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর জীবনের উপর অসামান্য তথ্য চিত্র নির্মাণ করেছেন।  সময়ের অভাবে এবার তা দেখানো হয়নি।

শ্রদ্ধা ভরে বিভিন্য সময়ে স্মরণ করা হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলা ভাষা আন্দোলনে সিলেটের আত্মত্যাগ। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই জন সিলেটি কণ্ঠ সৈনিক ডাঃ অরূপ রতন চৌধুরী ও কাদেরী কিবরিয়া (মায়ের বাড়ি সিলেট) অসাধারণ সকল  স্মৃতি চারণ করেন.

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সেমিনার অংশ গ্রহণ করেন তাজুল মোহাম্মেদ, তাজুল ইমাম, বাবরুল হোসাইন বাবুল, ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের বিরাট অবদান কে স্বীকৃতি প্রদান করে সিলেট কে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সামরিক রাজধানী ঘোষণা করার আহবান জানানো হয়।

১৯৭১ এর ৪ এপ্রিল সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগান থেকে সকল বিদ্রোহী বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রথম বারের মত একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সূচনা করেন।  মুক্তি যুদ্ধের রণক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি জেনারেল ওসমানী, চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল আব্দুর রব সহ প্রথম দিকের বেশির ভাগ নেতৃত্ত দিয়েছিলেন সিলেটি সৈনিকরা। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনে সিলেট বাসীদের গুরুত্ত পূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়।  তদুপরি বিশেষ করে ১৯৬১ সালে বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগ করার জন্য ভারতের সিলেটের কাছাড় জেলার  ১১ জন বীর শহীদকে শ্রদ্ধা ভরে  স্মরণ করা হয়।

উত্তর আমেরিকা, বাংলাদেশ , ভারত  এবং কানাডার বিভিন্য পত্রিকার সিলেটি সম্পাদকদের  সম্মিলিত আলাপচারিতা ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত  অনুষ্টান।পরিচালনা করেন প্রথম আলোর সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী। অংশগ্রহণ করেন প্রবীণ প্রাক্তন সম্পাদক(যুগভেরী, ঠিকানা ও বাংলা পত্রিকার) মাহবুবুর রহমান, ঠিকানা পত্রিকার সভাপতি এম, এম, শাহীন, বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টিভির সভাপতি আবু তাহের, কানাডার দেশ বিদেশে পত্রিকার এবং টিভির প্রধান নজরুল মিন্টু, ভারতের দৈনিক “যুগশঙ্খ: সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ নাথ, সাংবাদিক রক্তিম দাস, লসেঞ্জেলেস এর এল,এ, টাইমস পত্রিকার সম্পাদক আব্দুস সামাদ ও সম্পাদক মাহফুজ রহমান। টিবিএন টিভির প্রধান আহমেদুল পুলক কে বিশেষ ধনবাদ প্রদান করা হয়।

বিভিন্য দেশ থেকে বহু দিন পরে দেখা পুরানো বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনদের মিলন মেলা ছিল হৃদয়গ্রাহী। সারাক্ষন হৈ হুল্লোড়, আলিঙ্গন ও কথার ফুলঝুরিতে  অনেকেই ছিল আত্মহারা।

শিল্পী তাজুল ইমামের কারুকার্য খচিত তোরণ , ব্যানার, এবং ম্যাগাজিনে এর প্রচ্ছদ ছিল অপূর্ব। মাঠে ঢুকেই চমক লাগিয়ে ছিল  শিল্পী বিশ্বজিৎ এর অভিনব শিল্পকর্ম বিশাল আকৃতির অবিকল আলী আমজাদের ঘড়ি যা সকলের মন কেড়ে নিয়েছিল।  লেখিকা শামশাদ হুসামের সম্পাদনায় সুন্দর এবং তথ্য বহুল স্মরণিকা প্রকাশে সহায়তা করেন রানা ফেরদৌস চৌধুরী, মিনহাজ আহমেদ, ইশতিয়াক রুপু, নাজমুল হক মাহবুব, নজরুল ইসলাম বাসন (যুক্তরাজ্য), বাংলাদেশের মোস্তফা সেলিম ও অপূর্ব শর্মা। তাতে শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেন নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও, বাংলাদেশের সিলেটের তিন মন্ত্রী জনাব এ,এম,এ মুহিত, নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রতিমন্ত্রী এম,এ,মান্নান, সাউথ কলকাতা সিলেট সমিতির উপদেষ্টা নির্মল সেন চৌধুরী, সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার প্রদূষ দে, আসাম থেকে আইনজীবী এবং নাগরিক রক্ষা কমিটির হাফিজ আহমেদ চৌধুরী।  সমাজের উন্নয়নের জন্য নিভৃতে সিলেটে থেকে অনেকে কাজ করে যাচ্ছেন।  তাদের মধ্যে স্মরণিকায় উল্লেখ করা হয়েছে  স্বেচ্ছাশ্রমী সমাজকর্মী কবির আহমদ ও মনিপুরী নৃত্যকলা প্রসারে নিবেদিতা প্রাণ  সান্তনা দেবীকে, সাহিত্য ক্ষেত্রে পরিচিতি দেয়া হয়েছে বর্তমানের সব্যসাচী লেখক  ও গবেষক এ, কে, শেরাম ও মোস্তাক আহমেদ দীন ও পাঠক সমাজে সমাদৃত আমেরিকার মঈনুস সুলতানকে। স্মরণ করা হয়েছে  বিশ্বভারতীর কীর্তিমান ব্যক্তি অথচ কম পরিচিত রবীন্দ্র স্নেহধন্য  প্রয়াত অনাদি কুমার দস্তিদারকে ।

সম্মেলনে সকল মিডিযার অকুন্ঠ  সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান ছিল বিশেষ প্রেরণা। বিশেষ করে টিবিএন টেলিভিশন এর সারাক্ষন টেকনিক্যাল সহায়তা উল্লেখযোগ্য। টিবিএন এবং টাইম টেলিভিশনের প্রচারণা, প্রথম আলো পত্রিকার সৌজন্য সংখ্যা, ঠিকানা পত্রিকার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট, বাংলা পত্রিকার সুন্দর রিপোর্ট ইত্যাদি সম্মেলনের সমৃদ্ধি ও সন্মান বৃদ্ধি করেছে। গ্রীন ডেল্টা বাংলাদেশ একটি  স্টল করে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে তথ্য প্রদান করে, তবলায় ছিলেন হিমানীষ গোস্বামী ( যুক্তরাজ্য), জার্মানির সাকি চৌধুরীর হেরিটেজ ফোটোগ্রাফিতে ধরে রাখা  সিলেটের ঐতিহ্যবাহী পুরুনো ঘর বাড়ির ছবির সংরক্ষণ ছিল অত্যন্ত মূল্যবান।   মঞ্চেও অপূর্ব শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন নিবিড় ও তার দল।

অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন নজরুল কবির, সাবিনা হাই উর্বী , আনোয়ার  হোসাইন রনি (বাংলাদেশ)ও আনোয়ার লাভলু (বাংলাদেশ)
সম্মেলন শেষ হওয়ার পূর্বেই টরন্টো পরের বছর ২০১৮ সালে বিশ্ব সিলেট সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছে। ইতিপূর্বে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক সিলেট সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ২০১৮ এর ৫ জানুয়ারিতে  কলকাতায় আবার হচ্ছে সিলেট সম্মেলন।

আর্থিক অনুদান দিয়ে অনুষ্ঠানের  পৃষ্ঠপোষক হিসেবে  প্যাট্রন ছিলেন: শহীদ ডাঃ শাসমুদ্দিন আহমদ ফাউন্ডেশন, (ফিলাডেলফিয়া), নাজু  এবং সৈয়দ জাকি হোসাইন, (নিউইয়র্ক),  রাহাত মুক্তাদির (নিউ জার্সি), কল্লোল আহমেদ, (নিউইয়র্ক) আব্দুল জব্বার খান মুরাদ (নিউইয়র্ক), জহিরুল ইসলাম (নিউইয়র্ক)।

গোল্ড স্পনসর: সেলিনা উদ্দীন (নিউইয়র্ক) , ব্র্যাক (বাংলাদেশ), লিয়াকত এবং তাসরিন হুসেইন (নিউইয়র্ক)ও ডাঃ কালী প্রদীপ চৌধুরী (ক্যালিফোর্নিয়া), সম্মেলনে সকল মিডিযার অকুন্ঠ  সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান ছিল বিশেষ প্রেরণা। বিশেষ করে টিবিএন টেলিভিশন এর সারাক্ষন টেকনিক্যাল সহায়তা উল্লেখযোগ্য।  টিবিএন এবং টাইম টেলিভিশনের প্রচারণা, প্রথম আলো পত্রিকার সৌজন্য সংখ্যা , ঠিকানা পত্রিকার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট , বাংলা পত্রিকার সুন্দর রিপোর্ট ইত্যাদি সম্মেলনের সমৃদ্ধি ও সন্মান বৃদ্ধি করেছে।

জালাবাদ এসোসিয়েসন অফ  আমেরিকা কতৃক আয়জিত  সিলেট বিশ্ব সম্মেলনকে বিশেষ ভাবে সহায়তা করেন  ঢাকা জালালাবাদ এসোসিয়েশন  ও  দক্ষিন কলকাতা সিলেট এসোসিয়েশন।

তাছাড়া সহায়তা প্রদান করেন  যুক্তরাজ্য জালালাবাদ এসোসিয়েশন, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব  টরোন্টো এবং জালাবাদ এসোসিয়েসন অফ ক্যালিফোর্নিয়া।

সিলেট বিশ্ব সম্মেলনের ধারা অব্যাহত থাকুক এবং তার মধ্যে দিয়ে বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের বাইরের যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন সেই সব সিলেটি মানুষের মধ্যে সঞ্চারিত হোক ভবালোবাসা ও ঐতিহ্যের পুনর্জাগরন, একটি স্বপ্নের পথযাত্রা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close