Featuredজাতীয়

বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে কোন্দল: বাধা দেয়ার পর কাকরাইল মসজিদে ভারতের মাওলানা সা’দ

শীর্ষবিন্দু নিউজ: কাকরাইল মসজিদে পৌঁছেছেন ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি সা’দ কান্ধলভি । বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটায় তাকে পুলিশ প্রহরায় বিমানবন্দর থেকে কাকরাইল মসজিদে নেওয়া হয়েছে।

আসন্ন ইজতেমায় অংশ নেওয়ার জন্য তিনি ঢাকায় এলেও তাকে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধা দিতে আন্দোলনে নেমেছে কওমিপন্থী ও তাবলীগ জামাতের একাংশের কর্মীরা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মাওলানা সা’দ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে বাইরে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলায় তিনি বিমানবন্দর থেকে বের হতে পারেননি।

বিশ্ব ইজতেমার সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। দলমত নির্বিশেষে একটি অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইজতেমা ছাড়াও সারা বাংলাদেশে তাবলীগ জামায়াত দ্বীন শিক্ষায় মসজিদে মসজিদে তালিম দিয়ে থাকে। এখন এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক।

কিন্তু তা যদি কোন্দলে রুপান্তরের মাধ্যমে রাজপথে নেমে আসে তাহলে তা শুধু বেমানান নয়, বিষয়টি বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের আনাচে কানাচে এ প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ কোটি অনুসারীদেও পীড়া দেয়।

মাওলানা সাদ কান্ধলভী বছর খানেক আগে থেকেই ইসলাম ও ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করার কারণে তাকে বারবার সতর্ক করার পর ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ  তার বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়।

ওই ফতোয়ায় মুসলমানদের সতর্ক  করে বলা হয় মাওলানা সাদ তার বিতর্কিতি মন্তব্য থেকে সরে না আসেন তাহলে তার সঙ্গে কাজ করা ঠিক হবে না। কিন্তু তার ভুল তিনি শোধরাননি। এ কারণেই বাংলাদেশে তার আগমন নিয়ে আলেমরা বিক্ষোভ প্রতিবাদ করছেন।

তবে আলেমদের বিষয়টি নিয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করতে চায়নি সরকার। সরকারের ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। এর ফলে এ বিতর্কিত বিষয়টি কোন্দলে রুপান্তর ও তা বিক্ষোভে রুপ নিয়েছে।

লক্ষ্য রাখতে হবে এ ইস্যুটি নিয়ে বাংলাদেশের ওপর কোনো ধরনের কালিমা লেপন করে বর্হিবিশ্বে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিতে কোনো মহল বা কোনো দেশ জড়িত আছে কি না। ধর্মীয় বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলেই সরকার শুরু থেকে কোনো হস্তক্ষেপ না করলেও বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারে না। রাজপথে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে মাওলানা সাদ এলে পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নেবে এবং এ বিষয়টি সম্পর্কে অত্যন্ত সজাগ থাকাও জরুরি। কারণ বিতর্ক এখন বিশৃঙ্খলায় রুপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানবন্দরের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মাওলানা সা’দ বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গেছেন। বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ প্রহরায় তাকে কাকরাইলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রমনা পুলিশের ডিসি জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার পর মাওলানা সা’দ এসে পৌঁছেছেন। কাকরাইল মসজিদের সামনে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে মোতায়েন করা রয়েছে।

তবে সা’দবিরোধী হিসেবে পরিচিত তাবলীগের কর্মী প্রকৌশলী মাহফুজুল হান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাওলানা সা’দকে ইজতেমায় না অংশগ্রহণের শর্তে কাকরাইল মসজিদে আনা হচ্ছে। তাকে এখানেই রাখা হবে।’

বিমানবন্দরে রয়েছেন সা’দ পক্ষের শুরা সদস্য  সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম। বিকাল সাড়ে ৩টায় বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘মাওলানা সা’দ কাকরাইলে যাচ্ছেন। পুলিশের সহায়তায় তিনি যাচ্ছেন। সেখানেই তিনি অবস্থান করবেন।’

মাওলানা সা’দ ইজতেমায় অংশ নেবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উনি অংশ নেবেন কিনা আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার বিষয়ে আলেমদের যে বক্তব্য তা আমরা শুনবো, এরপর দেখা যাবে তিনি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন কিনা।’

বিমানবন্দরে থাকা বেফাকের সহসভাপতি আল্লামা আশরাফ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তো বিমানবন্দরে আছি। আমাদের দাবি তাকে ফেরত পাঠানো হোক। আমাদের একটাই কথা। আর উনাকে কাকরাইলে নেওয়া হবে, সেটা আমরা জানি না।’

এদিকে, মাওলানা সা’দকে যখন কাকরাইলের দিকে আনা হচ্ছে, তখনও বিক্ষোভ চলছে বিমানবন্দরসহ টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায়।

তাবলিগকর্মী রুমি জানান, বিমানবন্দর থেকে ইজতেমা মাঠে যাওয়ার সবগুলো রাস্তায় প্রতিবাদ করছেন তাবলিগ কর্মীরা।

বুধবার সকালে বেফাকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সিনিয়র কওমি আলেমরা।

এ বিষয়ে জানতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকায় কথা বলতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানবন্দরের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মাওলানা সা’দ বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গেছেন। বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশের প্রহরায় কাকরাইলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিষয়টি যেহেতু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সাথে জড়িত তাই পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এ ব্যাপারে দেখভাল বা পূর্ব সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল অতিজরুরি। এ দুটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টির দিকে নজর রাখা হয়েছে ঠিকই কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় মাওলানা সাদ বাংলাদেশে আসার সুযোগ পাচ্ছেন। ভারতের নাগরিক হবার কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে পূর্বে কোনো ধরনের শলাপরামর্শ করলে বিতর্কিত বিষয়টি সহজে এড়ানো যেত।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close