Featuredস্বদেশ জুড়ে

বিশ্বের প্রথম বহু জ্বালানি ব্যবহার উপযোগী চুলা আবিষ্কার করে বিশ্ববাসীকে চমকে দিলেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী সাইন্সার এক্সক্লুভাস

নিউজ ডেস্ক: তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পেট্রোল, ডিজেল সহ পৃথিবীর যেকোনো প্রকার জ্বালানি ব্যাবহার উপযোগী চুলা আবিষ্কার করে সম্প্রতি দেশে-বিদেশে আলোচিত হয়েছেন তরুণ বিজ্ঞানী সাইন্সার এক্সক্লুভাস।

বিশ্বব্যাপী গৃহস্থালির রান্নার কাজে উপযুক্ত চুলা ও জ্বালানি সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। রান্নার চুলা ও রান্নার জ্বালানি সমস্যা নিয়ে গোটা বিশ্ব যখন উদ্বেগ- উৎকন্ঠায়, ঠিক তখন এই সমস্যাগুলোর সঠিক ও সহজ সমাধান উদ্ভাবন করেছেন বগুড়া শহরের নাটাইপাড়ার এই বিজ্ঞানী।
.
সাধারণত তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, লাকরি ও বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক শুকনো জ্বালানি দিয়ে রান্না করা হয় সারা পৃথিবীতে এবং পৃথিবীর সব প্রকার চুলায় শুধুমাত্র এক প্রজাতির জ্বালানি দিয়ে রান্না করা যায়।

প্রথমত, সব ধরনের জ্বালানি সব সময় পাওয়া যায়না।

দ্বিতীয়ত, জ্বালানির দাম উঠানামা করার ফলে সাশ্রয়ী রান্নার জন্য ভিন্ন রকম জ্বালানি ব্যাবহার করার ভিন্ন ভিন্ন চুলা কেনার জন্য প্রয়োজন হয়।

তৃতীয়ত, অনেক রকম চুলা কেনার সামর্থ্য থাকলেও যায়গা সংকুলান হয়না এবং বহন করতে অনেক সমস্যায় পরতে হয়।

এই সমস্যাগুলোর সমাধানে এতদিন বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর সবগুলো দেশের মানুষরা তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও লাকরি ব্যাবহার করার জন্য আলাদা আলাদা চুলা কিনে ব্যাবহার করেছে। যা ছিলো প্রচন্ড ব্যায়বহুল, ঝামেলাযুক্ত এবং ঝুকিপূর্ন।

যা কোননা কোনোভাবে ক্ষতিকর পদ্ধতি আশ্রিত ও মানসিক জনশাস্থের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।
.
তবে বিজ্ঞানী ও গবেষক সাইন্সার এক্সক্লুভাস তার উদ্ভাবিত যন্ত্রকে জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ বলে দাবি করছেন। সাইন্সার এক্সক্লুভাস উদ্ভাবিত নতুন রান্নার যন্ত্রটি গত বছরের ডিসেম্বরে কয়েকটি দেশের অনেকগুলো বিদেশী কোম্পানির স্বীকৃতি পায়। নতুন এই যন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের চুলা বা Stove of Second Generation.’

বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও বিভিন্ন দেশের ১,০০০+ কোম্পানির ইমেইল এড্রেসে ইমেইলের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জানানো হয়েছে এই আবিষ্কারটির কথা। ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া ও ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ইমেইলের রিপ্লাই দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে তারা এ সম্পর্কে জেনেছে।
.
বগুড়া জেলা সদরের নাটাইপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোঃ জালালউদ্দিন ও হোসনে আরা বেগমের সর্ব কনিষ্ঠ সন্তান সাইন্সার এক্সক্লুভাস রুমেল। তিনি ১৯৯৮ সালে বগুড়া করোনেশন ইন্সটিটিউশন থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক পাস করেন। ২০০১ সালে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে ইলেকট্রনিক্স এর উপর দুই বছর মেয়াদী মিডিয়াম লেভেল ডিপ্লোমা কমপ্লিট করেন।

বর্তমানে তিনি একটি বিদেশী আইটি ইনস্টিটিউট থেকে ইলেক্ট্রনিক্স এর উপর হায়ার ডিপ্লোমা অধ্যায়নরত।
.
এছাড়াও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা কেন্দ্র (ISTRC) এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিজের এ উদ্ভাবন প্রসঙ্গে সাইন্সার এক্সক্লুভাস জানান, ২০১২ সাল থেকে তিনি গবেষণা শুরু করেন। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত গবেষণা চালিয়ে একপর্যায়ে সফল হন। পাচঁ বছরে এই পৃথিবীর সেরা উন্নত চুলা তৈরির প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বমোট তিন লাখ পচিঁশ হাজার টাকার বেশি ব্যায় হয় এবং সর্বমোট ২৭ টি আলাদা আলাদা সংস্করণ তৈরী করতে হয়। বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্যাটেন্ট বিভাগে আবেদন করেছেন তিনি, যা প্রক্রিয়াধীন।
.
৩৬ বছর বয়সী সাইন্সার এক্সক্লুভাস বলেন, ‘ইতিমধ্যে পৃথিবীতে যত আধুনিক চুলা আবিষ্কার করা হয়েছে তার থেকেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হচ্ছে আমার উদ্ভাবিত দ্বিতীয় প্রজন্মের চুলা বা Stove of Second Generation.

তিনি জানান, দেশি ও বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানি তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটির প্রতি আগ্রহ দেখানোর আগে প্রায় ৬ মাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খোঁজখবর নেয়। এরপর কোথাও না থাকায় যন্ত্রটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
.
দ্বিতীয় প্রজন্মের চুলা বা Stove of Second Generation সম্পর্কে সাইন্সার এক্সক্লুভাস জানান, এই যন্ত্রের দুটি মডেল রয়েছে থ্রি ইন ওয়ান এবং অল ইন ওয়ান। সর্বকালের সর্বসেরা রান্নার এ যন্ত্র এবং এর ভেতর ব্যাবহত মাল্টিপল ফাংশন শতভাগ নিরাপদ। যেহেতু প্রতিটি ফাংশন আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করে এবং তিন স্তরের নিরাপত্তা ডিভাইডার দিয়ে প্রতিটি ফাংশন কে আলাদা আলাদা করে রাখা।
.
রিমোট কন্ট্রোল হাতে টেলিভিশন দেখার মতো এই চুলা সুইচের মাধ্যমে আপনার কাংখিত অপশন হাযির করবে। চাইলে তেল দিয়ে রান্না করুন, চাইলে গ্যাস দিয়ে রান্না করুন, কিম্বা চাইলে বিদ্যুৎ দিয়ে রান্না করুন। চুলা একটাই কিন্তুু জ্বালানি আপনার ইচ্ছেমতো।
চুলা আপনার, সুতরাং কি জ্বালানি দিয়ে রান্না করবেন সেই সিদ্ধান্ত টাও আপনার।
.
ঘরে-বাইরে, পাহাড়ে-জংগলে-পৃথিবীর সবখানে ব্যাবহার উপযোগী পৃথিবীর একমাত্র চুলা এটি। সাধারণ চুলার দামেই এটি পাওয়া সম্ভব।
বানিজ্যিক ভাবে তৈরী করতে পারলে গ্যারান্টি এবং ওয়ারেন্টিসহ মডেল থ্রি ইন ওয়ান মাত্র ৫,০০০ টাকায় বিক্রি করা যাবে।
.
সাইন্সার এক্সক্লুভাস বলেন, এ যন্ত্রটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে— এটি ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থমুক্ত, বিষাক্ত ধোঁয়াহীন, শব্দহীন, অন্যান্য চুলার মতো বায়ু দূষণ করে না, স্থান সাশ্রয়ী, মুল্য সাশ্রয়ী, দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব। সহজে বহনযোগ্য ও জ্বালানি সাশ্রয়ী।
.
আমি গবেষণা করে একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছি, কিন্তু আমার পক্ষে একা বাজারজাত করা সম্ভব নয়। তবে আমি স্বল্প পরিসরে কিছু যন্ত্র বানিয়ে এলাকার আশপাশের বিভিন্ন গৃহবধূর কাছে সরবরাহ করেছি।

এতে যন্ত্রটির আরও চাহিদা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই বহু মানুষ এই যন্ত্রটি পাওয়ার জন্য আমাকে অগ্রিম টাকা দিয়ে দুই-তিনমাস পরে হলেও তা হাতে পাওয়ার জন্য সিরিয়াল নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন।

বিশেষ করে দেশের নামিদামী চুলা কোম্পানির শোরুম গুলোতে গিয়ে তারা মাত্র এক ফাংশনের সাধারণ চুলাগুলো সরিয়ে ফেলে একই দামের দ্বিতীয় প্রজন্মের মাল্টি ফাংশন চুলা রাখার দাবি জানাচ্ছেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close