Featuredলন্ডন থেকে

টাওয়ার হ্যামলেটসে পুলিশ ও কাউন্সিলের যৌথ অভিযানে মাদক ও নগদ অর্থসহ ৯ জন গ্রেফতার

শীর্ষবিন্দু নিউজ: গত ৮ই  ফেব্রুয়ারী টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এবং টাওয়ার হ্যামলেটস পুলিশের যৌথ অভিযানে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।

অপারেশন কন্টিনাম নামের মাদক বিরোধী অভিযান দ্বিতীয়বারের মতো পরিচালনা করে। বারার স্টেপনী এলাকায় ভোর রাতে পরিচালিত ৭টি অভিযানে ৯ জনকে গ্রেফতার, ব্যাগ ভর্তি নগদ পাউন্ড, চোরাই মালামাল এবং ক্লাস এ ও বি ক্যাটাগরীর মাদক জব্দ করা হয়।

কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সক্ষমতাকে সর্বোচ্চচ পর্যায়ে নিয়ে যাচ্চেছ আমাদের পার্টনারশীপ বা যৌথ ত্পরতা এবং মাদক কেনাবেচা সমূলে উ্পাটনে আমাদের সাহায্য করছে। ড্রাগ ডিলিং বা মাদক কেনবেচা ও অপরাধের হটস্পটগুলো কোথায় কোথায় সে সম্পর্কে বাসিন্দারা আমাদের তথ্য দিয়েছেন।

কাউন্সিল এ ব্যাপারেও অবগত আছে যে, টাওয়ার হ্যামলেটস হোমসের মতো দায়িত্বশীল ল্যান্ডলর্ড ও পুলিশের সাথে পার্টনারশীপের ভিত্তিতে আমরা এই জনপদকে আরো নিরাপদ করে তুলতে পারি।

গত ৯ই  ফেব্রুয়ারী স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশ গ্রহণে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারে তল্লাশি অভিযানও চালানো হয়।

গত ২৫ জানুয়ারী স্টেপনী এলাকায় পরিচালিত যৌথ অভিযানের সাফল্যের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান চালানো হলো। প্রথম অভিযানে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।

টাওয়ার হ্যামলেটস হোমসসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশিদারদের সাথে নিয়ে পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন নজরদারীর মাধ্যমে সন্দেহভাজন ড্রাগ ডিলারদের চি?িত করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ২৭ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ, একটি হ্যান্ডগান উদ্বার করার পাশাপাশি ২২টি এন্টি-সোশ্যাল বিহেভিয়ার ওয়ার্নিং বা সতর্কীকরণ নোটিশ জারি করা হয়। স্টেপনী এলাকায় অপারেশন কন্টিনামের এনফোর্সমেন্ট পর্ব অব্যাহত রয়েছে এবং এই ফলাফল আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্চেছ।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শেডওয়েল এলাকায় পরিচালিত অপরাশেন কন্টিনামে ১২৩টি এএসবি ওয়ার্নিং জারি, ২০ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ, এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সিসিটিভি ইউনিটের অনুসন্ধানী তথ্যের ভিত্তিতে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া মাদকে আসক্ত ৫৬ জনকে আসক্তি থেকে মুক্তি লাভের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও প্রদান করা হয়। কমিউনিটিকে আশ্বস্তকরণ এবং বাসিন্দাদের সহায়তায় কাউন্সিলের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে অপারেশন কন্টিনাম।

আগামী ৮ দিন, এই অভিযানের আওতায় এন্টিসোশ্যাল বিহেভিয়ার বা সমাজবিরোধী আচরণজনিত কার্যকলাপ সম্পর্কে রিপোর্ট নিয়ে বাসিন্দাদের সাথে কাজ করা, বিনামূল্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে কিশোর তরুণ বয়সীদের অংশ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে ইয়ূথ ওয়ার্কারদের সাথে কাজ করা, গৃহহীন, কিংবা মাদকাসক্তির চিক্সিা দরকার এমন লোকদেরকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাউন্সিলের ক্লিন এন্ড গ্রীণ টিম নোংরা দেয়াল লিখন বা গ্রিফিটি অপসারণ করবে।

টাওয়ার হ্যামলেটস পুলিশের ডিসিআই, মাইক হ্যামার বলেন, ড্রাগ বা মাদক এবং সমাজ বিরোধী আচরনজনিত কার্যকলাপ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ নিরসনেই আমাদের উদ্যোগ হচ্ছে অপারেশন কন্টিনাম।

শেডওয়েলে আমাদের সর্বশেষে যৌথ অভিযানের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অত্যন্ত কার্যকর অভিযান চালানো হয় স্টেপনী এলাকায়। এই অভিযানের ফলাফল আমাদের কাজের সাফল্যকে তুলে ধরছে।

 এ প্রসঙ্গে মেয়র জন বিগস বলেন, মাদক কেনাবেচার বিরুদ্ধে এবং এ কারণে আমাদের কমিউনিটিতে যে সমস্যাগুলো হচ্চেছ, তা নিরসনে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা আমাদের বাসিন্দাদের কথা শুনেছি এবং পুলিশ ও অন্যান্য অংশীদারদের সাথে মিলে তথ্য আদান প্রদান করে আমরা এসব অভিযান চালাচ্ছি।

মেয়র বলেন, এই কার্যক্রমের কেন্দ্রস্থলে রয়েছেন বারার বাসিন্দারা। এই জন্যই আগামী কয়েক সপ্তাহ এই এলাকার তরুণ বাসিন্দাদের ইতিবাচক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলর অফিসাররা কাজ করে যাবেন। পাশাপাশি যারা গৃহহীন অথবা মাদকে আসক্ত তাদেরকেও সাহায্য করা হবে।

তিনি বলেন, অপরাধীরা যাতে নির্সুাহিত হয় এবং রাস্তাঘাটের নিরাপত্তা আরো বৃদ্ধি পায়, সেজন্য এই এলাকার অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনতে বাসিন্দাদের সাথে মিলে কাজ করা হবে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close