Featuredইউরোপ জুড়ে

বিশৃঙ্খলায় ইউরোপের সর্ববৃহৎ অর্থনীতি

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: সরকার গঠন নিয়ে বেশ বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে জার্মানি। প্রায় পাঁচ মাস আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সরকার গঠন নিয়ে বেশ বিপাকে আছে ইউরোপের সবচেয়ে অর্থনীতির এই উৎস।

এঙ্গেলা মার্কেলের দল নির্বাচনে পর্যাপ্ত পরিমাণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায়, এক প্রকার স্থবির অবস্থায় রয়েছে জার্মানি। তৃতীয় বারের মতো চ্যান্সেলরের আসন গ্রহণ করার জন্য অন্যান্য দলের সঙ্গে মিলে জোট সরকার গঠনের চেষ্টায় আছেন মার্কেল।

তবে এখনো পুরোপুরিভাবে সফল হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। প্রথম দফায় জোট গঠন আলোচনায় ব্যর্থ হওয়ার পর এখন দ্বিতীয় দফায় ভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

প্রাথমিকভাবে আলোচনায় সফলতা আসলেও সরকার গঠন করার জন্য তা পর্যাপ্ত নয়।

আমেরিকান ম্যাগাজিন টাইমে ইয়ান ব্রেমার এর লেখা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এসপিডি) নিয়ে সরকার গঠন করতে চান মার্কেল। এজন্য জোটের অংশীদার ছোট দলগুলোকে ছেড়ে দিতে হচ্ছে তাকে। পাশাপাশি ছেড়ে দিতে হচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো প্রভাবশালী বেশ কিছু মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণও।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এবারই এসপিডি সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছে। এবার তারা মাত্র ২০.৫ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে।

অন্যদিকে মার্কেলের দল পেয়েছে ৩৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন। তাই এ দু’দলের সমঝোতা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় না। তবে এটা পরিষ্কার যে, জার্মানির প্রতিষ্ঠিত এই দু’দলই পতনের মুখে।

প্রকৃতপক্ষে, এসপিডি এই বিষয়টি আগেই আঁচ করেছিল। প্রাথমিকভাবে তারা মার্কেলের জোট সরকারে যোগ দিতে চায় নি। দলটি আশঙ্কা করছিল যে, চ্যান্সেলর ও তার অভিবাসন নীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হলে তারা জার্মান ভোটারদের সমর্থন হারাতে পারেন।

কিন্তু সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার পর এসপিডির সামনে দুইটি পথ খোলা ছিল। মার্কেলের সঙ্গে সমঝোতা অথবা নতুন নির্বাচনের জন্য চাপ দেয়া।

তবে এসপিডি আশঙ্কা করছিল যে, নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাদের সামনে হয়তো এই পছন্দ করার সুযোগও আর থাকবে না। কেননা চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক জনমত জরিপের ফলাফলে প্রথমবারের এসপিডি’র চেয়ে ডানপন্থি দল এএফডিকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

তাই এসপিডি মার্কেলের সঙ্গে সমঝোতায় এসেছে। কিন্তু দলপ্রধান কিছু বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করায় তাকে ছাড়াই এগিয়ে যেতে হয়েছে এসপিডিকে। গত সপ্তাহে দল প্রধান হিসেবে পদত্যাগ করেছেন তিনি।

সমঝোতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এখনো এসপিডি’র হাতে ২রা মার্চ পর্যন্ত সময় রয়েছে। এদিন দলটির নীতি-নির্ধারকরা মার্কেলের সরকারের অংশ হওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেবেন।

অনেকের ধারণা, নীতি-নির্ধারকরা মার্কেলের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের পক্ষে মত দেবেন। তারা কেন দলকে এমন একটি নির্বাচনের দিকে ঠেলে দিবেন যাতে বিরাট ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে? তবে দলটির মধ্যে এই বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

বিশেষ করে দলটির যুব শাখা মনে করে, মার্কেলকে আরো চার বছরের জন্য ক্ষমতায় যেতে দেয়া নিজেদের মধ্য-বামপন্থি রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধী। এটা সুষ্ঠু রাজনৈতিক পদ্ধতির সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

সাম্প্রতিক ভোটে দলটির ফলাফল অনুযায়ী এই বিষয়ে যুক্তি প্রদর্শন করা কঠিন। কিন্তু দল আরেকটি নির্বাচনে স্বল্প বা দীর্ঘ মেয়াদে লাভবান হবে এমন কোনো সম্ভাবনাও কম।

ব্রেমার তার প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেন, প্রতি তিন জনে একজন এসপিডি সদস্য জোট গঠনের বিরুদ্ধে। এটা অবহেলা করার মতো কোনো বিষয় নয়। অন্য কোনো দেশে এমনটা হলে ঘটনা চরম মোড় নিতে পারার ব্যাপক সম্ভাবনা ছিল।

এদিকে, এসপিডি জোট গঠনে না বললেও মার্কেল আহামরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। তিনি একটি সংখ্যালঘু দল নিয়ে সরকার গঠন করতে পারবেন। তবে এমনটা করলে তিনি দুর্বল হয়ে পড়বেন।

রাজনৈতিক হিসেবে তার দীর্ঘদিনের ইতিহাসে পরিবর্তন আসবে। তাকে দেখা হবে এমন একজন হিসেবে, যিনি ক্ষমতায় থাকার জন্য যেকোনো কিছু করবেন। অথচ এখন তাকে দেখা হয়, এমন একজন রাজনৈতিক হিসেবে, যিনি জার্মানির ভালোর জন্যে যেটা দরকার সেটাই করবেন।

অবশ্যই, জার্মানির এখন রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল হওয়া খুবই জরুরি। তবে জার্মানদের মধ্যে এক ধরনের প্রসন্নতা বিরাজ করায় সে উদ্বেগ তেমনভাবে প্রকাশ পাচ্ছে না।

ওই প্রসন্নতার কারণ হচ্ছে, তাদের অর্থনীতি। জোট গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির অর্থনৈতিক শক্তি দ্বিগুণ হয়েছে।

কিন্তু তারা একই সঙ্গে কিছু হারাচ্ছেও। জার্মানির রাজনীতি প্রকৃতপক্ষে যেমন থাকা উচিত তা তেমনটা নিশ্চিতভাবে নেই। আর এই অবস্থা নিয়ে কারো তেমন মাথাব্যথাও নেই।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close