Featuredদুনিয়া জুড়ে

প্রবল শৈত্যপ্রবাহে ধুকছে ইউরোপ, ২৪ জনের মৃত্যু

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: উত্তরমেরু থেকে আসা শৈত্যপ্রবাহ ‘হার্টমুট’র দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের জনজীবন।

গরম টুপি, হাতমোজা, মাফলার জড়িয়ে বাইরে বেরিয়েও প্রচন্ড ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে ২৪ জনের মৃত্যুরও খবর পাওয়া গেছে। মৃতদের বেশিরভাগই গৃহহীন।

রাতারাতি জার্মানিতে হিমাঙ্কের ২৪ ডিগ্রি নিচে নেমে গেছে তাপমাত্রা। পপুলার সায়েন্সে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট দুইটি সাইক্লোনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে এই নিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এই শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।

ইউরোপের দেশগুলোতে উদ্বাস্তু ও বৃদ্ধদের সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে। বরফ সরাতে সশস্ত্র বাহিনীর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। গৃহহীন মানুষের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার।

শৈত্যপ্রবাহে পোল্যান্ডে নয়জন, ফ্রান্সে চারজন, লিথুয়ানিয়ায় পাঁচজন, চেক রিপাবলিকে তিনজন, রোমানিয়ায় দুইজন ও ইতালিতে একজন মারা গেছে।

প্রবল বায়ুপ্রবাহ ও তুষারপাতে বেশকিছু শহরে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কর্সিকা এবং ক্যাপ্রির মতো উষ্ণ দ্বীপগুলোতেও তুষার দেখা গেছে। এই অবস্থায় সাহায্য করছে রেডক্রস।

প্রতিবেশী এবং আত্মীয়দের খবরাখবর নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তারা। এছাড়া ফ্রান্সে ১০ হাজার কম্বল সংগ্রহেরও উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

লন্ডন শহরটিও ছেয়ে গেছে তুষারে। সেদেশের ট্যাবলয়েডগুলো এই শৈত্যপ্রবাহকে বলছে ‘দি বিস্ট ফ্রম দি ইস্ট’। নেদারল্যন্ড একে বলছে ‘সাইবেরিয়ান ভাল্লুক’, আর সুইডিশরা বলছে ‘তুষারের কামান’।

আবহাওয়ার বিরূপ অবস্থার কারণে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কমপক্ষে ৬০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। পাওয়ার সাপ্লাই, ফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

যদিও সবচেয়ে শীতল পরিস্থিতি দেখা গেছে ইতালিতেই। অনেক স্কুল এবং ডে-কেয়ার সেন্টার বন্ধ হয়ে গেছে। তুষার জমে বন্ধ হয়ে গেছে রেল যোগাযোগ। নেপলসের বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায় মঙ্গলবার সকালেই। এমনকি শহরের বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close