Featuredদুনিয়া জুড়ে

ইতিহাসের ভয়াবহতম ৯/১১ হামলা: মার্কিন আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে সৌদি আরবকে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ভয়াবহতম ৯/১১ হামলার ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে সৌদি আরবকে। নিউইয়র্কের এক বিচারক এমনই নির্দেশ দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নাইন ইলেভেন হামলায় নিহতদের স্বজনদের দায়ের করা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মামলাটি এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন মার্কিন এই বিচারক। ২০১৬ সালে ওই মামলাটি দায়ের করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের দি জাস্টিস এগেইনস্ট স্পন্সর অব টেরোরিজম এ্যাক্ট ( জেএএসটিএ)’এর অধিনে।

গত বুধবার নিউইয়র্কে এক মার্কিন বিচারক এ মামলাটি বাতিলে সৌদি আরব যে অনুরোধ করেছিল তা নাকচ করে দেন। এর ফলে এ মামলায় সৌদি আরব যে দায়মুক্তি পেয়ে আসছিল তা রহিত হয়ে গেল।

শতকোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে করা একটি মামলা চলমান থাকবে। সৌদি আরব সবসময়ই বলে আসছিল যে বিমান ছিনতাই ঘটনায় রিয়াদ কোনো ধরনের সহায়তা করেছিল এমন প্রমাণ নেই। অনলাইনের।

যুক্তরাষ্ট্রের জেএএসটিএ’ আইনের বলে কোনো দেশ বা দেশটির প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত বা পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকলে ওই পক্ষকে সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার অধিকার পান।

নাইন ইলেভেন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের স্বজনদের পক্ষ থেকে দায়ের করা এ মামলায় দাবি করা হচ্ছে যে ওই হামলাকারীদের অধিকাংশই ছিল সৌদি নাগরিক। সৌদি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। ম্যানহাটানে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জর্জ ড্যানিয়েলস বলেছেন, নিহতদের স্বজনদের অভিযোগগুলো যুক্তিসঙ্গতভাবে জেএএসটিএ আইনের ভিত্তিতে তাদের অধিকার হিসেবে মামলাটি চালু করতে তাকে সাহায্য করেছে।

তবে জর্জ ড্যানিয়েলস দুটি সৌদি ব্যাংক ও একটি সৌদি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আল-কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেনকে নাইন ইলেভেন হামলায় উপকরণ দিয়ে সাহায্যের অভিযোগ নাকচ করে দেন।

সৌদি আরর দীর্ঘ দিন ধরে নাইন ইলেভেন হামলার সঙ্গে তার সরকারের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। রিয়াদ ও এর উপসাগরীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের জেএএসটিএ এ্যাক্ট কঠোরভাবে বিরোধিতা করে আসছে।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে এ এ্যাক্টের বিরুদ্ধে আংশিক ভেটো দেওয়া হয়। ইউএস সিনেট ভেটো প্রত্যাহার করে তা আইনে রুপান্তরিত করে। এ আইনের বিরোধিরা বলছে, এটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।

সৌদি ক্রাউনপ্রিন্স যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় আদালত এ মামলাটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিল। আইনজীবী জিম ক্রেইন্ডলার যিনি নাইন ইলেভেন হামলায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৮’শ ব্যক্তির পক্ষে লড়ছেন তিনি জানান, তার মক্কেলরা গভীরভাবে সৌদি ক্রাউনপ্রিন্সের সফরের দিকে নজর রাখছিলেন।

জেএএসটিএ বাতিলে আদালত সৌদি আরবের আবেদনকে বাতিল করে দেওয়ায় তিনি আনন্দিত বলেও জানান জিম। তিনি বলেন, নাইন ইলেভেন হামলায় সৌদি আরবের কোনো ভূমিকা থাকলে তা এখন উন্মোচিত হবে।

বিচারক জর্জ ড্যানিয়েলস বলেছেন, ২০১৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটির যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি আছে বলেই মনে করেন তিনি।

সৌদি আরব ওই হামলায় সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছে। তবে হামলাকারী ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন সৌদি নাগরিক।

২০০১ সালে নাইন ইলেভেনের ওই হামলায় বিমান অপহরণকারীদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন সৌদি আরব থেকে এবং বারবার এমন সন্দেহ করা হয়েছে যে, তাদের সঙ্গে সৌদি সরকারের একটি সংশ্লিষ্টতা ছিল।

ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার আর ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে চালানো আত্মঘাতী হামলায় সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার লোক নিহত হয়েছিলেন।

দুটি বিমান আঘাত হেনেছিল টুইন টাওয়ারে, একটি পেন্টাগন আর চতুর্থ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল পেনসিলভানিয়ার শ্যাংকসভিলে।

এর পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তার ভাষায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা করেন।

গত ১০ বছরে আফগানিস্তান ও ইরাকে দুটি যুদ্ধ চালিয়েছে আমেরিকা, যার রেশ এখনও চলছে।

ওই আক্রমণের জন্য আল কায়েদার সদস্যদের দায়ী করা হয় এবং আল কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন পরে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন সেনাদের এক গোপন অভিযানে নিহত হন।

নিউইয়র্কে বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের দুটি টাওয়ার যেখানে ছিল সেই শূন্যস্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল দুটি জলাশয়, চারপাশে উৎকীর্ণ হয়েছে নিহতদের নাম।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close