Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

যুক্তরাজ্যে সম্ভাব্য আধুনিক দাসত্বের ঝুঁকিতে ৮ শতাধিক বাংলাদেশি

নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে বসবাসরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি আধুনিক দাস প্রথার শিকার হওয়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। যুক্তরাজ্য সরকারের ২০১৭ সালের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে ঝুঁকির সম্ভাব্যতায় রয়েছেন ৮ শতাধিক বাংলাদেশি। এদের মধ্যে ৫৭ জন রয়েছেন নিশ্চিত ঝুঁকিতে। বাকীদের জন্য বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ব্রিটিশ সরকার।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) দেশটির সম্ভাব্য দাসপ্রথা ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের তথ্য নথিভুক্ত করে। তাদের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালে দেশটিতে ৮১৯ জন বাংলাদেশি এই ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

এনআরএম-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে দাসপ্রথার সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৭তম।

এনআরএম-এর সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকাদের তালিকাটি দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) মানবপাচার শাখা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা মানুষের তালিকা যাচাই বাছাই শেষে অনেকেই বাদ পড়েন। বাকীদের নিয়ে তৈরি করা হয় আধুনিক দাসত্বের নিশ্চিত ঝুঁকিতে থাকাদের তালিকা। এনসিএ সোমবার দাসপ্রথার ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রকাশ করেছে।

এনসিএ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় দাসপ্রথার শিকার হওয়ার ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেড়েছে। ৮১৯ জনের তালিকা থেকে ৫৭ জনকে নিশ্চিত দাসত্বের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ২০১৬-তে এই সংখ্যা ছিল ৫৪।

এবারের তালিকাভূক্ত ৫৭ জনের মধ্যে ১৯ জন গার্হস্ত্য দাসত্ব, ২৬ জন শ্রম দাসত্ব, ৭ জন যৌন দাসত্ব এবং ৫ জন অজ্ঞাত শ্রেণির দাসত্বের ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

২০১৭ সালে যুক্তরাজ্য সরকারের সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীদের জন্য বিশেষ সহযোগিতা চালু করেছে। তালিকায় নিশ্চিত ঝুঁকিতে না থাকা ব্যক্তিদের জন্য এসব সহযোগিতা দিচ্ছে সরকার। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসন, কাউন্সেলিং, ১৪ থেকে ৪৫ দিনের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ। চূড়ান্তভাবে তালিকায় স্থান দেওয়ার আগে ভুক্তভোগীদের ন্যূনতম ৪৫ দিন ও সর্বোচ্চ ৯০ দিন সহযোগিতা দেওয়ার কথা।

শোষনের শিকার প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ স্থানও গড়ে তোলা হয়েছে যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে। শোষণের স্থান থেকে ভুক্তভোগীদের সরাসরি এসব নিরাপদ স্থানে রাখা হয়।

২০১৬ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আধুনিক দাসপ্রথা নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেন। এই টাস্কফোর্স দেশটির আধুনিক দাসপ্রথা আইনের আলোকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়। এনসিএ পরিচালক উইল কের বলেন, পরিসংখ্যানে সংখ্যার যে বৃদ্ধি আমরা দেখছি তা সচেতনতা ও আধুনিক দাসত্ব নিয়ে খবর জানানোকে স্বাগত জানানোর ফলে সম্ভব হয়েছে। এছাড়া এই পরিসংখ্যান যুক্তরাজ্যে দাসত্ব ও মানবপাচারের বাস্তব চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেছে।

সবমিলিয়ে ২০১৭ সালে ৫ হাজার ১৪৫ জন মানুষ সম্ভাব্য দাসত্বের ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। ২০১৬ সালের তুলনায় যা ৩৫ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি দাসত্বের ঘটনা শ্রম শোষণে ঘটছে। তালিকায় বাংলাদেশের পরে রয়েছে আলবেনিয়া (৭৭৭) ও ভিয়েতনাম (৭৩৮)।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close