Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

সিরিয়ায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিটেন

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে সিরিয়ায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিটেন। বিভিন্ন সামরিক শাখার প্রধানদের ইতিমধ্যে এ পরিকল্পনা সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে এ হামলার সরাসরি নির্দেশনা দিচ্ছেন ব্রিটেনের মন্ত্রীরা। সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে পূর্ব ঘৌটায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে এ অভিযোগের কারণে বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর অনুমতি চেয়েছিলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। সেসময় দেশটির পার্লামেটের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সেই তা আটকে যায়।

এবার আর পার্লামেন্টের তোয়াক্কা করছেন না প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই সিরিয়ায় হামলা চালানো যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তেরেসা।

দ্য ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, সিরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিটেনের সেনাবাহিনী। সোমবার এ জন্য তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দেশটির সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা। তিনি বর্বর রাসায়নিক হামলার তীব্র নিন্দা এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে কড়া জবাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বিভিন্ন সূত্র বলেছে, সিরিয়া ইস্যুতে কী পদক্ষেপ নেয়া যায় তা নিয়ে বিতর্কের জন্য ইস্টার উপলক্ষে ছুটিতে থাকা এমপিদের হোয়াইট হলে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এখন তেরেসার কণ্ঠে একটাই সুর শোনা যাচ্ছে তা হল, ‘আসাদের প্রধান মদদদাতা হল রাশিয়া।

রাসায়নিক হামলায় দামেস্কের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে রাশিয়াকে চরম মূল্য দিতে হবে।’ ফলে ঘটনা যে অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে তা স্পষ্ট। কারণ রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়ার ওপর নার্ভ গ্যাস প্রয়োগের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শীতল যুদ্ধের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে সিরিয়া ইস্যু এ যুদ্ধে আগুন ঢেলে দিয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, ‘আমরা এখন এমন এক পরিস্থিতিতে রয়েছি, যেখানে সিরিয়া ইস্যুতে বিশ্ব অবশ্যই ন্যায়বিচার দেখবে।’

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস এই সময়কে মনে রাখবে কারণ নিরাপত্তা পরিষদ তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সিরিয়ার লোকজনকে রক্ষা করতে নিজেদের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা দেখিয়েছে।আসাদ চরমসীমা অতিক্রম করলে সিরিয়ার বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স।

মঙ্গলবার ইউরোপ ওয়ান রেডিওকে দেশটির মুখপাত্র বেঞ্জামিন গ্রিভক্স বলেন, রাসায়নিক গ্যাস হামলায় সিরিয়ার জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে কড়া জবাব দেবে ফ্রান্স। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করবেন বলেও জানান তিনি।

রাশিয়া জানিয়েছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্ররা কোনো হামলা চালালে তা ‘গুরুতর বিপর্যয়’ ডেকে আনবে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ রাসায়রিক হামলার বিষয় তদন্তে জাতিসংঘ রিজল্যুশান বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের রাসায়নিক অস্ত্রবিরোধী সংস্থার আওতায় একটি স্বচ্চ ও স্বাধীন তদন্ত আহ্বান করার প্রস্তাব দিচ্ছে মস্কো।

দৌমায় রাসায়নিক হামলার ঘটনা অনুসন্ধানে জাতিসংঘের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সিরিয়া। অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিটেশন অব কেমিক্যাল উইপনের (ওপিসিডব্লিউ) নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের নিকটবর্তী পূর্ব ঘৌটা অঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর দৌমায় প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা বের করা চেষ্টা করছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close