Featuredএশিয়া জুড়ে

ঐতিহাসিক ঘটনা: দক্ষিণ কোরিয়ায় কিম জং উন

পরমাণু নিরস্ত্রকরণে সম্মত দুই কোরিয়া

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: কোরীয় যুদ্ধের পর প্রথম উত্তর কোরীয় নেতা হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় পা ফেলেছেন কিম জং উন।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ দুই কোরিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি সই হবে। এছাড়া পরমাণু নিরস্ত্রকরণেও সম্মত হয়েছে দুই কোরিয়া বলে বলে জানা গেছে।

১৯৫৩ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যকার যুদ্ধের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোন নেতা সামরিক সীমা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ায় সফর করেছেন। সীমান্তরেখায় দাঁড়িয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। দু’জন প্রথমে নিজ নিজ দেশের সীমান্তে দাড়িয়ে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলান। এরপরই সীমান্ত অতিক্রম করেন কিম। দক্ষিণ কোরিয়ায় দাঁড়িয়ে হাত মেলান দুই নেতা।

মুহুর্ত শেষেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে, মুন’কে সীমান্ত অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের ভেতর দাঁড়িয়ে হাত মেলানোর প্রস্তাব রাখেন কিম। কিম’কে আশাহত করেননি মুন। দুই দেশের সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজমের সীমান্তে ওই ঐতিহাসিক মূহুর্ত শেষে দুই নেতা বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

বৈঠক হয় পানমুনজমের এক বাড়িতে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিস হাউস’। এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

খবরে বলা হয়, মাত্র কয়েক মাস আগেই উত্তর কোরিয়া থেকে যুদ্ধের হুমকি পাওয়া গেলেও, দেশ দুইটি আজকে শান্তিচুক্তি করা নিয়েও আলোচনা করার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিম জানিয়েছেন যে, তিনি খোলাখুলি আলোচনা আশা করছেন। বৈঠকে মূলত পূর্বে ঠিক করা ইস্যুগুলোর দিকেই বেশি জোর দেয়া হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, উত্তরের পরমাণবিক কর্মসূচি, পিয়ংইয়ং ও সিউলের সর্ম্পকন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা। তবে অনেক বিশ্লেষক, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচী বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুই নেতা বৈঠকে উপদ্বীপটিতে পরমাণু নিরস্ত্রকরণে সম্মত হয়েছেন।

সাড়ে ছয় দশক আগে কোরীয় যুদ্ধে টেনে দেয়া ভেদরেখার সামরিক সীমান্ত পার হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা মুন জায়ে ইনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইতিহাস গড়লেন কিম জন উন।

তিনি বলেন, আমি আশা করব, আমাদের অতীতের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। আমাদের এই বৈঠক কোরীয় উপদ্বীপের লোকজনকে উত্তর থেকে দক্ষিণে মুক্তভাবে চলাচলের সুযোগ তৈরি করে দেবে। নিজেদের ইতিহাসের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ার নেতা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় পা দিয়ে আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছি। নতুন ইতিহাস শুরুর আভাস দিতেই আমি এখানে এসেছি।

বৈঠকের উদ্বোধনীতে কিম বলেন, শান্তির পথে এগিয়ে যেতে এই সম্মেলনে খোলামেলা আলোচনা করা সম্ভব বলে তিনি আশা করেন। তিনি বলেন, আমি আজ সেই বিন্দু থেকে শুরু করলাম, যেখান থেকে শান্তি, সমৃদ্ধি ও আন্তঃকোরিয়া সম্পর্কের এক নতুন ইতিহাস লেখা হবে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দুই কোরিয়ার বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর মধ্যে একটি পুনর্মিলনির আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া হটলাইনে দুই কোরিয়া নেতার মধ্যে নিয়মিত যোগযোগ হবে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশে দুটি অফিস খোলা হবে।

২০০০ ও ২০০৭ সালে পিয়ংইয়ংয়ে দুই কোরিয়ার শীর্ষ বৈঠকের পর এ ধরনের তৃতীয় সাক্ষাৎ এটি। উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে আছেন ৯ কর্মকর্তা। এদের মধ্যে আছেন তার বোন কিম ইয়ো জং।

চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকে উত্তরের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইয়ো জং। এ ছাড়া আছেন রাষ্ট্রীয় প্রধান কিম ইয়ং-ন্যাম এবং সামরিক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন কূটনীতিক।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রয়েছেন সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল। এর মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্র ও একত্রীকরণমন্ত্রী (ইউনিফিকেশন)।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বৈঠকের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় ফিরে এসেছেন কিম। আলাদাভাবেই দুপুরের খাবার খাবেন দুই কোরিয়ার নেতাদ্বয়। বিকেলের দিকে পুনরায় আলোচনা শুরু করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় যাবেন কিম।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close