Featuredদুনিয়া জুড়ে

পরমাণু চুক্তি বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসন

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসা ঠেকাতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ওয়াশিংটন যাচ্ছেন। রোববার বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির করা পরমাণু চুক্তি থেকে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যেতে পারে বলে সম্প্রতি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে ১২ মে ট্রাম্প ফয়সালা দেবেন। তাঁর মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে চুক্তি।

কিন্তু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশ ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, রাশিয়া ও চীনও চায় চুক্তিটি অটুট থাকুক। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফর করেন।

এ সময় তিনি ট্রাম্পকে চুক্তি থেকে বের না হতে অনুরোধ করেন। গত শুক্রবার জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁকে একই বার্তা দিয়েছেন।

চুক্তির আওতায় ইরান নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত রাখার ব্যাপারে একমত হয়। এর বিনিময়ে দেশটি চায় তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। তবে শুরু থেকে এই চুক্তি নিয়ে সমালোচনামুখর ছিলেন ট্রাম্প।

২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে তাঁর পূর্বসূরি বারাক ওবামার করা এই চুক্তি বাতিল করবেন।

গতকাল শনিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি এই চুক্তি থেকে সরে আসার ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন।

তবে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি মনে করে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র উন্নতিকরণ ঠেকাতে এই চুক্তি উৎকৃষ্ট পন্থা। এমনকি জাতিসংঘও ট্রাম্পকে চুক্তি থেকে না সরার পরামর্শ দেয়। কিন্তু ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, অন্যরা চুক্তি থেকে না সরলেও তিনি বেরিয়ে আসবেন।

সম্প্রতি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কিছু ‘গোপন নথি’ প্রকাশ করে ইসরায়েল। এরপরই ইরান বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র কথা বলে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পে বলেন, এই নথিগুলো সঠিক। দেখা যাচ্ছে ২০১৫ সালে ‘মিথ্যার ওপর ভর’ করে এই চুক্তি করা হয়েছে।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে যায়, যুক্তরাজ্যর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ও কংগ্রেসের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সে সময় ইরানের পরমাণু চুক্তি, সিরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ইস্যুগুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।

এ সফরকে সামনে রেখে জনসন বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ-সম্পর্কিত পররাষ্ট্রনীতিতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র একই নীতি অনুসরণ করে।

তিনি বলেন, ইরানের সাইবার কর্মকাণ্ড, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দেওয়া সমর্থন এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সহযোগী দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close