Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

ব্রিটেন থেকে মেয়েকে দেশে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার অভিযোগে বাংলাদেশী মা-বাবা অভিযুক্ত

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: নিজ মেয়েকে বাংলাদেশে নিয়ে কাজিনের সাথে জোর পূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বাঙালী মা-বাবাকে দোষি সাব্যস্ত করেছে লিডস ক্রাউন কোর্ট।

প্রসিকিউটর মিশেল কোলব্রোন আদালতকে বলেন, ঘটনার শিকার মেয়েটিকে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই বিয়ের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। ঘটনার বিবরণে মেয়েটি জানিয়েছে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঈদ পালনের জন্য ছয় সপ্তাহের ছুটি কাটানোর উদ্দেশে তাকে বাংলাদেশে নেওয়া হয়েছিল

মেয়েটি আদালতকে জানিয়েছেন তার বাবা কয়েক বছরে ধরেই এই পরিকল্পনা করেছেন বলে তাকে বলেছেন। আগে ধারণ করা এক সাক্ষাৎকারে মেয়েটি আদালতকে বলেছেন, ‘তিনি বলেছেন ছেলেটি সত্যিই উপযুক্ত, আমি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ দিয়েছি আর ছেলেটি এখানে থাকার মতো যথেষ্ট আকর্ষণীয়।

তিনি আমাকে হ্যা বলানোর চেষ্টা করেছেন কিন্তু কোনও অবস্থাতেই হ্যা বলিনি। আমার কাছে এটা বিরক্তিকর লেগেছিল কারণ সে আমার আপন চাচাত ভাই।

উত্তর ইংলান্ডের লিডসে জন্ম আর বেড়ে ওঠা মেয়েটিকে বারবার বলা হয়েছে নতুন স্বামীর সঙ্গে বিয়ে হলে সেরাণীর মতো থাকবে প্রস্তাব প্রত্যাখান করা বাবামায়ের জন্যলজ্জা বয়ে আনবেবলেও তাকে বলা হয়েছে। মেয়েটি আরও জানায় তার মা তাকে পেটানোর জন্য বাবাকে চাপ দিয়েছে। মায়ের বিশ্বাস ছিল এর ফলে বিয়ের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করবে মেয়েটি

কাজিনের সঙ্গে বিয়েতে রাজি করাতে মেয়েকে মারপিট এবং বলপ্রয়োগের হুমকি দেওয়ার জন্যেও তাদেরকে দোষি সাব্যস্ত করে আদালত

তিন সপ্তাহের শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদালতের রায়ে জানানো হয়, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হলিডে কাটানোর কথা বলে সপ্তাহের জন্যে  এই দম্পতি তাদের মেয়েকে বাংলাদেশে নিয়ে যান। তখন সে লেভেলের ছাত্রী ছিল।

৩রা জুলাই বাংলাদেশে গিয়ে পৌঁছার এক দিন পরেই তার ফার্স্ট  কাজিনের সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন তারা। এই প্রস্তাবে কিশোরী মেয়ে রাজী না হওয়াতে বিভিন্নভাবে তাকে চাপ দিতে শুরু করেন। মারপিট এবং জোর করে বিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তারা

ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ে নিয়ে এই চাপাচাপির মাঝেই ১৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ কন্যা তার বয় ফ্রেন্ডকে ট্যাক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের ঠিকানাসহ পুরো পরিস্থিতি অবহিত করে।

বিয়ের কয়েকদিন আগে নিজের ছোট বোনের সহায়তায় ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন অফিসে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয় মেয়েটি তারাই তাকে উদ্ধার করে

বিয়ের পরিকল্পনা জানার পর লিডসে নিজের ছেলেবন্ধুকে পাঠানো বেপরোয়া বার্তাগুলোও আদালতকে দেখানো হয়। মঙ্গলবার রায় ঘোষণার সময়ে মেয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ওই বাবামা। তবে রায় ঘোষণার পর তারা কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাননি

আদালতের রায়ে লিডসের এই বাঙালী পরিবারের কোনো সদস্যের নাম পরিচায় প্রকাশ করা হয়নি। জোর পূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে আগামী ১৮ জুন দম্পতির সাজার মেয়াদ ঘোষণা করা হবে

উল্লেখ্য, নতুন ফোর্সড ম্যারিজ আইনে এই দম্পতিকে দোষি সাব্যস্ত করা হয়েছে। আইনটি ২০১৪ সালের জোনে পাস হলেও এই আইনের অধিনে খুব কম বিচার হয়েছে। তবে এই আইনের অধিনে প্রথম বিচার হয়েছে গত সপ্তাহে।

যুক্তরাজ্যে জোর করে বিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আইন কার্যকর হয় ২০১৪ সালের জুনে। তবে এই আইনের আওতায় বিচারের ঘটনা বেশ কম। গত সপ্তাহে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক ব্রিটিশ নারীকে নিজের মেয়েকে তার দ্বিগুণ বেশি বয়সের এক আত্মীয়কে বিয়ে করতে জোর করার দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close