Featuredকানাডা জুড়ে

গাঁজা বৈধ হচ্ছে কানাডায়

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: এই গ্রীষ্ম মৌসুমের শেষে কানাডা হবে প্রথম কোনও শিল্পোন্নত দেশ যেখানে বিনোদনের জন্য গাঁজার ব্যবহার বৈধ করা হবে।

অবশ্য চিকিৎসায় রোগের উপশম হিসেবে ২০১১ সালেই গাঁজা ব্যবহারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল কানাডা। খবর বিবিসি বাংলার।

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, বিশেষভাবে তৃতীয় বৃহত্তম শহর ভ্যানক্যুভারে গাঁজা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে বহুদিন ধরে।

ভ্যানক্যুভারকে বলা হয় কানাডার গাঁজার রাজধানী। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাঁজার ফার্মও রয়েছে এই শহর থেকে সামান্য দূরে ফ্রেজার ভ্যালিতে। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের কাছাকাছি এটি।

হিলারি ব্ল্যাক হলেন ক্যানোপি গ্রোথ-এর রোগীদের শিক্ষা এবং প্রচার বিভাগের পরিচালক। ক্যানোপি গ্রোথ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে গাঁজা চাষে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানি।

হিলারি ব্ল্যাক বলছেন, একবার এক মহিলার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। আর্থ্রাইটিস রোগে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। তিনি তার বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং একসঙ্গে বসে গাঁজা খেয়েছিলেন। ওই রোগীর ওপর গাঁজার প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ময়কর।

সেবনের কিছুক্ষণ পর তিনি তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করতে শুরু করলেন। হাত-পা ছড়িয়ে দিতে শুরু করলেন এবং তিনি কেঁদে ফেললেন। আইন তাকে এতোদিন এই ভেষজ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে এটা মনে করে তিনি খুবই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন বলে জানালেন হিলারি ব্ল্যাক।

গাঁজা ফার্মের পরিবেশ খুবই নিয়ন্ত্রিত। এখানে ঢুকতে হলে উপযুক্ত পোশাক পড়তে হয়, মাথায় নেট পড়তে হয়, বুট এবং গ্লাভস পড়তে হয়।

এই ফার্মে প্রায় এক লাখ টব রয়েছে যেখানে বিভিন্ন বয়সের গাঁজা গাছের চারা রয়েছে। মাথার ওপর দিনরাত জ্বলছে হাজার হাজার ইলেকট্রিক বাল্ব। দিনের মতো আলো ছড়াচ্ছে এগুলো।

আর রয়েছে বহু ধরনের টিউব, যেগুলো থেকে গাঁজা গাছে পানি, তরল পুষ্টি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড সরবরাহ করা হচ্ছে।

রোগ উপশমে কিভাবে গাঁজা ব্যবহার করা হচ্ছে তা দেখা গেল ভ্যানক্যুভার থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে এক মেডিকেল ক্লিনিকে। সেখানকার একজন রোগী লিন জনস্টন। সারাটা জীবন তিনি কাটিয়েছেন ব্যথার মধ্য দিয়ে। ১৩ বছর বয়সে তাকে তার মা কাইরোপ্র্যাকটরের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু তাতে কোনও ফল হয়নি।

লিন জনস্টনের বয়স এখন ৫৮। মাত্র ২০১৫ সালে তার রোগের সফল ডায়াগনোসিস হয়েছে। তাকে জানানো হয়েছে যে তার শরীরে তিন ধরনের আর্থ্রাইটিস রয়েছে।

এই রোগে যে ব্যথা, তা সহ্য করা কঠিন। আর্থ্রাইটিস মানুষকে একেবারে দুর্বল করে ফেলে বলে তিনি জানান।

এই ক্লিনিকের চিকিৎসা বিভাগের পরিচালক হলেন ড. ক্যারোলাইন ম্যাকালাম। শরীরের জটিল ব্যথা, বিশেষভাবে যে ব্যথার কোনও চিকিৎসা নেই, সেই ধরনের কেসে তিনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন।

তিনি বলছিলেন, তাদের অফিসে এমন রোগীও আসেন যারা নানা ধরনের চিকিৎসা করেও কোনও ফল পাননি।

তাদের চোখের সামনে এই রোগীরা ব্যথায় কাতরাতে থাকেন। তাদের কী হয়েছে তা জানা যায় না, তাদের কী চিকিৎসা দেয়া যায়, তাও তারা জানেন না।

তখন তাদের ভাবতে হয় যে তারা কী সত্যি রোগীদের কোনভাবে সাহায্য করতে পারছেন?

গাঁজা আইনসিদ্ধ করার ফলে যেসব সমস্যা তৈরি হতে পারে, তা দূর করার লক্ষ্যে নিয়ে কানাডার সরকার বড় ধরনের প্রচারাভিযান শুরু করেছে।

জাতীয় জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, শতকরা ৭০ ভাগ কানাডিয়ান গাঁজাকে বৈধ করার পক্ষে। যারা সরকারের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন, তারাও গাঁজার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার পক্ষপাতী।

তারা বলছেন, গাঁজা সেবনের ওপর আইনটি সঠিকভাবে তৈরি করতে হবে। ইওনা মার্টিন কানাডার সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে কনজারভেটিভ পার্টির উপ-প্রধান। তিনি বলছেন, এই খসড়া আইনের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের তরুণ সমাজকে রক্ষা করা।

টরেন্টোর সাবেক পুলিশ প্রধান বিল ব্লেয়ার একজন এমপি। তাকে বিবিসির সংবাদদাতা জিজ্ঞেস করেছিলেন, তারা কী পরিস্থিতি ভালোর দিকে না নিয়ে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন?

ব্লেয়ার জবাবে বলেন, তারা শুধু এই মাদককে বৈধই করছেন না। নতুন আইনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়ে এর উৎপাদন, বিক্রি এবং বণ্টনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে যাচ্ছেন।

তারা একইসঙ্গে নিশ্চিত করতে চাইছেন যে এই মাদক যেন শিশুদের কাছে বিক্রি করা না হয়। আগে আইন না থাকায় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব ছিল না বলেও তিনি জানান।

গাঁজার ব্যবহার বৈধ করার প্রশ্নে কানাডার এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা কতখানি সফল হয় সেদিকে তাকিয়ে থাকবে সারা বিশ্ব।

কানাডার নেতারাও সেটি বোঝেন। সুতরাং তারা যাতে সফল হতে পারেন, সেই চেষ্টাই তারা করবেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close