Featuredজাতীয়

ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট পেতে ভিড় সামলাতে হিমশিম

শীর্ষবিন্দু নিউজ: রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে ঘরমুখী মানুষের  জন্য টেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির পঞ্চম দিন মঙ্গলবার (৫ জুন)। বিক্রি হচ্ছে ১৪ জুনের টিকিট।

গত কয়েকদিনের তুলনায় এদিন যাত্রী বেড়েছে কয়েকগুণ। দুপুর গড়িয়ে বিকেলেও কমেনি যাত্রীদের চাপ। গভীর রাত থেকে শুরু করে ভোরের দিকেও কাউন্টারের লাইন ধরে দাঁড়িয়েছেন টিকিট-প্রত্যাশীরা। ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে সামলাতে গিয়ে অনেকটাই হিমশিম খেতে হচ্ছে স্টেশন সংশ্লিষ্টদের।

মঙ্গলবার কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল ৮টা থেকে স্টেশনের ২৬টি কাউন্টার থেকে একযোগে ১৪ জুনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।  গভীর রাত থেকে কাউন্টারে দাঁড়িয়ে যখন টিকিট নামক সোনার হরিণটি হাতে পাচ্ছেন, তখন অনেকেই আনন্দে চিৎকার করে উঠছেন। আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্তিও প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

টিকিট সংগ্রহ করার জন্য স্টেশনের ১৪ নম্বর কাউন্টারে দাঁড়িয়েছেন রংপুরের আফসার উদ্দিন। তিনি সোমবার দিবাগত রাত ১১টায় লাইনে এসে দাঁড়িয়েছেন। সকাল আটটায়ও তার সামনে অন্তত ৪০ জন লোক দাঁড়িয়েছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিট পেয়েছেন।

তিনি জানান, ১৪ তারিখের চাহিদা অনেক বেশি। তাই রাত ১১টার দিকে স্টেশনে চলে এসেছি। সাড়ে ৮টার দিকে ৪টি টিকিট পেয়েছি। অনেক ভালো লাগছে। তবে সারারাত মানুষের চাপে অনেক কষ্ট হয়েছে।

এদিকে কাউন্টারের প্রথম সারিরে দাঁড়িয়েও এসি কেবিনের টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকেই। লালমনিরহাটগামী লালমনী এক্সপ্রেসের টিকিট-প্রত্যাশী রাজিব উদ্দিন বলেন, গতকাল দিবাগত রাত ১১টার দিকে এসে কাউটারের প্রথম সিরিয়াল ধরি। সারারাত শুধু ঘড়ির কাটা দেখতে থাকি কখন সকাল ৮টা বাজবে। যথাসময়ে কাউন্টার খোলা হলো। এই স্টেশনের জন্য ১০টি এসি টিকিট বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু একটি টিকিটও পেলাম না। কাউন্টার থেকে জানানো হয় এসি টিকিট নেই। পরে বাধ্য হয়েই এসি চেয়ারের টিকিট নিয়ে ফেরত আসি।

এ বিষয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্যদিনের তুলনায় আজ থেকে যাত্রীদের চাপ অনেক বেড়েছে। আমরা কোনও টিকিট আটকে রাখি না। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি টিকিট আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যাত্রীরা টিকিট পাবেন। ঈদের সময় সবার চাহিদা থাকে এসি টিকিটের। কিন্তু আমাদের তো সম্পদ সীমিত, এর মধ্যে সবাইকে খুশি করা সম্ভব না।

লাইনের শুরুতে থাকলেও কেন টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না সে বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশন মাস্টার বলেন, ‘কাউন্টারে টিকিট বিক্রির শুরু সঙ্গে সঙ্গে ২৫ শতাংশ অনলাইনে, ৫ শতাংশ ভিআইপি, ৫ শতাংশ স্টাফ কোটায় চলে গেছে।

এছাড়া নির্দিষ্ট রুটের নির্দিষ্ট কাউন্টার ছাড়া নারী ও বিশেষ কাউন্টারসহ মোট তিনটি কাউন্টারে একইসঙ্গে বিক্রি শুরু হয়েছে। আর একজন ৪টি করে টিকিট নিতে পারছেন। তাহলে আর অবশিষ্ট কয়টি টিকিট থাকে? এমনিতেই তো এসি টিকিটের সংখ্যা কম।’

সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। চলবে বিকেলা ৬টা পর্যন্ত। কিন্তু বিকেল সাড়ে তিনটার দিকেও দেখা গেছে দীর্ঘ ভিড়। স্টেশনের কোথাও ফাঁকা জায়গা নেই। প্রতিটি লাইনের শেষে যারা রয়েছেন, তারা বাকি সময়ের মধ্যে টিকিট কাউন্টারের সামনে পর্যন্ত পৌঁছার সম্ভাবনা তেমন নেই। কিন্তু এরপরেও টিকিট পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন শতশত যাত্রী।

দীর্ঘসময় ধরে লাইনে অপেক্ষারতদের একজন সুমাইয়া আক্তার। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘পরীক্ষার কারণে ১৪ তারিখের আগে বাড়ি ফিরতে পারছি না।

তাই আজ ওই দিনের টিকিট কেনার জন্য স্টেশনে এসেছি। কিন্তু সকালের দিকে এলেও এখনও লাইনের সামনের ভিড় কমছে না। টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। এরপরও টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।’

দুপুরের দিকে চট্টগ্রামের ৭ নম্বর কাউন্টারের সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে। এই কাউন্টার থেকে দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সেপ্রেসের টিকিট। টিকিট না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, টিকিটের জন্য ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু দুপুরের দিকে সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে। আনেক যাত্রী টিকিট না পেয়ে ফিরে গেছেন।

উল্লেখ্য, কমলাপুর রেলস্টেশনে এবার টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৬টি করা হয়েছে। গত ১ জুন থেকে শুরু হওয়া ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। ৬ জুন দেওয়া হবে ১৫ জুনের টিকিট। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। একজন যাত্রী একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

এছাড়া, ঈদফেরত যাত্রীদের ভ্রমণের জন্য অগ্রিম টিকিট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে বিক্রি করা হবে। এসব স্টেশনে ১০ জুন পাওয়া যাবে ১৯ জুনের টিকিট। এরপর ১১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ২০ থেকে ২৪ জুনের টিকিট মিলবে বলে জানিয়েছে স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close