Featuredদুনিয়া জুড়ে

নিকোশিয়ার ভূতুড়ে বিমানবন্দর

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: রুক্ষ রানওয়েতে বহু যাত্রী বহনে সক্ষম এমন একটি বিমান ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। এটি আর উড়বে না। এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে আছে গত ৪৪ বছর ধরে। পাখায় ধরেছে মরিচা, জানালার কাঁচগুলোও ভেঙ্গে খসে পড়েছে ঝুরঝুর করে। কাঠামোয় জমেছে ধূলোর আস্তর।

নিকোসিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে আছে গত ৪৪ বছর। এর পেছনে পড়ে আছে সাইপ্রাসের এক বিভীষিকাময় ও অমলিন ইতিহাস।

মেডিটেরিনিয়ান দ্বীপ দেশ গত ১৯৭৪ সালে বিভক্ত হয়। সাইপ্রাস এক সময় বৃটিশদের উপনিবেশ ছিল। এটি স্বাধীন হয় ১৯৬০ সালে। এখানে বছর জুড়ে চলত সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রিক এবং সংখ্যালঘু তুর্কীর উত্তেজনা।

১৯৭৪ সালে গ্রিসের তৎকালীন সরকার সাইপ্রাসের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের পতন ঘটায়। কিন্তু তুর্কীর মিলিটারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই দ্বীপের এক তৃতীয়াংশ তারা দখলে নেয়। বিভাজিত অংশটি বর্তমানে ‘গ্রিন লাইন’ হিসেবেও পরিচিত। সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার এখানে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

নিকোসিয়ার আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দরটি ১৯৬৮ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল অত্যন্ত আধুনিক ভবন হিসেবে। সুসজ্জিত করা হয়েছিল উচ্চ-প্রযুক্তিতে। যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করে ভালমানের খাবারের রেস্টুরেন্ট এবং কেনাকাটার জন্য ‘শপিং মল’ রাখা হয়েছিল। বিমানবন্দরটিতে যাত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল সৌখিন পর্যটকদের।

১৯৭৩ সালের মধ্যে এটি ৮ লক্ষ পর্যটককে সেবা প্রদান করে। কিন্তু বিমানবন্দরটি ১৯৯৪ সালের সন্ধিক্ষণে তৎকালীন তুর্কি সেনার লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়।

তুর্কি ও গ্রিক সেনাদের ক্রমাগত বিমান আক্রমণে এর সবকিছু ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। অবশেষে ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ এটিকে নিজেদের নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে।

মনুষ্য যাতায়াত না থাকায় জায়গাটিতে যেন ভূতুড়ে নিস্তব্ধতা বিরাজ করে সবসময়।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close