Featuredসিলেট থেকে

সিসিক নির্বাচনী হালচাল: নির্বাচন নিয়ে আমেজে সিলেট (পর্ব-১)

শীর্ষবিন্দু নিউজ: আধ্যাত্নিক ভুমি হিসেবে দোয়া নিতে সিলেট শহরে আসেন বিশ্বের অনেক নামী-দামী ব্যাক্তিত্ব। দেশের জাতীয় নির্বাচনেও সকল দলীয় প্রধান তাদের নির্বাচনী প্রচারণী শুরু করেন এই পূণভুমি সিলেট থেকেই।

আর এই সিলেটেই এখন চলছে স্থানীয় নির্বাচনের হাওয়া। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত থাকা প্রার্থীদের নিয়ে শীর্ষবিন্দুর আয়োজন ‘সিসিক নির্বাচনী হালচাল‘।

ইতিমধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে আগ্রহীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। আপাতত তারা বেশি ব্যস্ত গণসংযোগে। ভোটারদের সমর্থন ও দোয়া আদায়ে অনেক নতুন প্রার্থী ইতিমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় শুরু করেছেন।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েও নিজের মনের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করছেন। মেয়র ও কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানা রঙের ও বাহারি শ্লোগানের ব্যানার-বিলবোর্ড নগরীর ব্যস্ত মোড়, অলি-গলিতে শোভা পাচ্ছে। মেয়র পদের প্রার্থীদের কেউ নিজেকে অভিজ্ঞ, কেউবা সত্ আবার তরুণ প্রার্থীরা নিজেদের থার্ড জেনারেশনের প্রতিনিধি দাবি করে বিলবোর্ড টানিয়ে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

প্রার্থীদের এমন তৎপরতায় ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে। আলোচনা-আড্ডায় উঠছে ভোটের কথা। গত নির্বাচনে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয়ীরা কী করেছেন, কী করতে পারেননি, সে হিসাব-নিকাশও হচ্ছে। তাদের সাফল্য-ব্যর্থতা মূল্যায়ন করেই আগামীতে ভোট দেয়ার কথা বলছেন সচেতন ভোটাররা।

সিলেট সিটির শুরুও শাহজালালের স্মৃতি ছুঁয়ে। শাহজালালের দরগাহ এলাকা ও আশপাশ নিয়ে গড়ে উঠেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ১ নং ওয়ার্ড। দরগাহ মহল্লা, ঝর্ণারপাড়, দর্শন দেউড়ি, আম্বরখানা পশ্চিমাংশ, রাজারগলি, মিয়া ফাজিল চিশত আবাসিক এলাকা, মিরের ময়দান, চৌহাট্টা এলাকা নিয়ে এ ওয়ার্ডের বিস্তৃতি।

১ নং ওয়ার্ডের পুরোটাই ব্যস্ত এলাকা। প্রতিনিয়ত এখানে পাল্টাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা; বাড়ছে নানামুখী চাহিদা। সমস্যাও আছে, সম্ভাবনাও আছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ এই ওয়ার্ডের নাগরিকদের বসবাস অন্য ওয়ার্ডগুলোর মতোই সমস্যা-সম্ভাবনার বৃত্তে।

২০১৩ সালে তৃতীয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের মোট ভোটার ছিলেন ৭ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্য্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৬৬০ জন। আর নারী ভোটার ৩ হাজার ৩২২ জন। পাঁচ বছরে নারী-পুরুষ দুই শ্রেণীর ভোটার বেড়েছে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকানুযায়ী ১নং ওয়ার্ডের মোট ভোটার ৮ হাজার ৭৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ২৪ জন। আর নারী ভোটার ৩ হাজার ৭১৮ জন।

নাগরিকদের কল্যাণে ওয়ার্ডের সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা সাগ্রহে কর্মতৎপর থাকলেও নতুন নতুন সমস্যা এসে বাধাগ্রস্ত করছে নাগরিক সেবার ধারাবাহিকতাকে। স্বাধীনতার আগে কিংবা তারও আগে যখন ১নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল­া ইউনিয়নের অধিভুক্ত ছিলো তখনও হযরত শাহজালালের (রহ.) স্মৃতিধন্য দরগাহ ও আশেপাশের এলাকা আলাদা মর্যাদায় ছিলো সকলের কাছে।

আসন্ন চতুর্থ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে অংশ নিতে আগ্রহী বেশ ক’জন প্রার্থী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িতরা আছেন এ তালিকায়। আছেন ব্যবসায়ীরা।

এ ওয়ার্ডে বর্তমানে কাউন্সিলরের দায়িত্বে আছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ তৌফিকুল ইসলাম হাদী। তরুণ এই জনপ্রতিনিধি সাংবাদিক ও একাধিকবারের জনপ্রতিনিধি আজিজুল হক মানিকের অনুপস্থিতিতে বিজয়ী হয়েছিলেন তৃতীয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে।

আজিজুল হক মানিক বিগত সিটি নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারেননি। এক ঋণখেলাপীর জামিনদার হওয়ার কারণে নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছিলো সেজন্য। তবে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও আসন্ন ৪র্থ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মানিক অংশ নিচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন। মানিক যদি প্রার্থী হন তবে হাদীর নির্বাচনের হিসেব কিছুটা জটিল হয়ে ওঠবে। আর যদি না হন তবে হাদী হয়তো সহজেই কাউন্সিলরের চেয়ারে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বসতে পারেন। তবে সেটি সময়ই বলে দেবে।

ওয়ার্ডের আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী মোস্তফা মিশকাতুন নুর। গত নির্বাচনে তিনি ছিলেন হাদির নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী। এর আগের নির্বাচনে মিশকাতুন নুর ছিলেন আজিজুল হক মানিকের নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী। অল্প ভোটের ব্যবধানে বারবারই হেরেছেন মিশকাত। তবে এবার তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকছেন কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। তিনি যদি প্রার্থী হন তবে বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি দুজনের কপালেই চিন্তার রেখা উঠবে এমনটিই বোঝা গেলো স্থানীয় লোকজনের সাথে কথোপকথনে।

এছাড়াও আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরো বেশ কয়েকটি নাম বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে বিএনপি নেতা সৈয়দ আনোয়ারুছ সাদাত, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়াব্যক্তিত্ব মুফতি আবদুল খাবির, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী মুফতি কমর উদ্দিন কামু, ব্যবসায়ী মুবিন আহমদ, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ইকরামুর রাজা চৌধুরী মান্না, ব্যবসায়ী এজহারুল হক চৌধুরী মন্টু।

এছাড়া ওয়ার্ডজুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন আনোয়ার হোসেন মানিক, নিয়াজ মো. আজিজুল করিম, মো. আলকাছ মিয়া, সলমান আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

সম্প্রীতির একখণ্ড দৃষ্টান্তই যেনো সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২ নং ওয়ার্ড। হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে বাস করছেন এখানে। প্রত্যেকে যার যার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করছেন।

এ ওয়ার্ডের অন্তর্গত এলাকাগুলো হচ্ছে দাড়িয়াপাড়া, কাজী ইলিয়াস, পুলেরপার, সরষপুর, কুরিটুলা, মির্জাজাঙ্গালের উত্তরাংশ, জল্লারপাড়, জিন্দাবাজার, ক্ষেত্রিপাড়া, বারইপাড়া ও পুরাতন মেডিকেল রোড।

গুরুত্বপূর্ণ এ ওয়ার্ডেই অবস্থান সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, সিলেট শহীদ সামসুদ্দিন হাসপাতাল, সিলেট রেডক্রিসেন্ট মাতৃমঙ্গল হাসপাতাল ও রক্তকেন্দ্র, সিলেট পশু হাসপাতাল, সিলেটে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উপাসনালয় নিম্বার্ক আশ্রম। মদন মোহন কলেজ, কবি কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়াম, মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়াম, সিলেট বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার, সমাজসেবা কার্যালয় ও স্কাউট ভবনের।

এছাড়া সিলেটের প্রথম শহীদ মিনারের অবস্থান এই ওয়ার্ডে যেটি হচ্ছে মদন মোহন কলেজের পুরনো মিনার। নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবস্থানও ২ নম্বর ওয়ার্ডে। এছাড়া শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থানও এই ওয়ার্ডে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গত বছরের ৩১ জানুয়ারি সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তালিকানুযায়ী ২ নং ওয়ার্ডের মোট ভোটার ৬ হাজার ৬১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৬৮১ জন। আর নারী ভোটার ২ হাজার ৯২৯ জন। ২০১৩ সালে তৃতীয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে ভোটার ছিলেন ৬ হাজার ২৮৩ জন।

গতবার এই ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হয়। এটিই ছিল সিলেটে প্রথমবারের মতো ইভিএম এর ব্যবহার। দ্বিতীয় সিটি নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে ভোটার ছিলেন ৫ হাজার ৫০০ জন।

সিটি নির্বাচনের হাওয়াও সমানতালেই দোলা দিচ্ছে দিচ্ছে তাদের মনে। আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ছোয়া লেগেছে এই ওয়ার্ডেও। পাড়া-মহল্লা, অলি-গলি ঘুরলেই চোখে পড়ে ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টার। সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুরু করে দিয়েছেন প্রচার-প্রচারণা। বিভিন্ন মাধ্যমে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা।

ওয়ার্ডটিতে বর্তমান কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. রাজিক মিয়া। তিনি টানা দুইবারের কাউন্সিলর। এবারও তিনি নির্বাচনে লড়বেন। রাজিক মিয়া ছাড়াও এই ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হবেন সাবেক কমিশনার অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য্যও। লড়াইয়ে আছেন তরুণ সমাজসেবক বিক্রম কর সম্রাট, সাবেক ছাত্রদল নেতা মামুন ইবনে রাজ্জাক রাসেল। এছাড়াও আরোও কয়েকজন প্রার্থী হতে পারেন নির্বাচনে। তবে তারা এখনো সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি।

বিগত নির্বাচনে দেখা গেছে এই ওয়ার্ডের মানুষ রাজিক আর প্রদীপেই ভরসা করেন। তাদের দু’জনের মধ্যেই হয় মূল লড়াই। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সিটি কর্পোরেশনে প্রদীপ ছিলেন রাজিক মিয়ার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি। সাবেক পৌর কমিশনার ও বিগত নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য্য এবার বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। নতুনরাও খুব একটা অপরিচিত নন। লড়াইয়ে নামলে তারাও যে ছেড়ে কথা বলবেন না তা স্থানীয়দের সাথে আলাপে বেশ ভালোই বুঝা গেছে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গত বছরের ৩১ জানুয়ারি সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তালিকানুযায়ী ২ নং ওয়ার্ডের মোট ভোটার ৬ হাজার ৬১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৬৮১ জন। আর নারী ভোটার ২ হাজার ৯২৯ জন। ২০১৩ সালে তৃতীয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে ভোটার ছিলেন ৬ হাজার ২৮৩ জন।

গতবার এই ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হয়। এটিই ছিল সিলেটে প্রথমবারের মতো ইভিএম এর ব্যবহার। দ্বিতীয় সিটি নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে ভোটার ছিলেন ৫ হাজার ৫০০ জন।

রোগে শোকে সিলেটের কোটি মানুষের ভরসার স্থল সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্থান যে ৩ নং ওয়ার্ড।

এখন এই ওয়ার্ডে শোভা পাচ্ছে নির্বাচনী শুভেচ্ছাযুক্ত পোস্টার-ফেস্টুন-ব্যানার। সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ প্রচারণা। ওয়ার্ডটিতে বেশ জোরেসোরেই বইছে নির্বাচনের হাওয়া। প্রার্থীরা যে যার মতো ভোটারদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন।

ওসমানী হাসপাতল ছাড়াও বেশ কিছ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান রয়েছে এ ওয়ার্ডে। সিলেট রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন- দুই পুলিশ লাইনেরই অবসথান এ ওয়ার্ডে। পুলিশ সদস্যদের জন্য সিলেট পুলিশ হাসপাতালও এ ওয়ার্ডের সীমানাতে পড়েছে। রিকাবিবাজারের কবি নজরুল চত্বর থেকে দক্ষিণ দিকে মিরেরময়দান রোড ধরে, সুবিদবাজার পয়েন্ট ঘুরে পশ্চিমে ছুটে চলার পর মদিনা মার্কেট এসে উত্তরে যাত্রা শুরুর পর যে রাস্তাটি একেঁবেঁকে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল হয়ে আবার রিকাবিবাজার পয়েন্টকে ছুঁয়ে দিয়ে চক্র পূর্ণ করেছে সে চক্রটির মাঝেই অবস্থান ৩নং ওয়ার্ডের।

সিলেট নগরীর কাজলশাহ আবাসিক এলাকা, সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশ লাইন, মধুশহীদ, মুন্সিপাড়া আবাসিক এলাকা, কেওয়াপাড়া, সুবিদবাজার, বাগবাড়ি, মদিনা মার্কেট, পশ্চিম কাজলশাহ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ এলাকা ও রিকাবীবাজার এলাকা নিয়েই গঠিত নগরীর ৩ নং ওয়ার্ড।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোর মতো এই ওয়ার্ডেও লেগেছে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের হাওয়া। এই হাওয়ায় ভেসে চলেছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী। বর্তমান কাউন্সিলর, সাবেক কাউন্সিলর ও সাবেক নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি কেউই প্রচারণায় পিছিয়ে নেই এখানে। আর তারা সবাই বেশ জোরেসোরেই চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা।

ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন বর্তমান কাউন্সিলর এস এম আবজাদ হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালিক, বিপিএলের সিলেটের সিলেট সিক্সার্সের কর্মকর্তা সমাজসেবী আবুল কালাম আজাদ লায়েক, ওয়ার্ড বিএনপি’র সহ-সভাপতি মো. শামীম আহমদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা রাজীব কুমার দে রাজু, মো. আব্দুর রহমান ভুইয়া, সালেহ আহমদ।

২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিলো ১০ হাজার ৭৭২ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিলেন ৬ হাজার ৮৬ জন। নারী ভোটার ছিলেন ৪ হাজার ৬৮৬ জন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সর্বশেষ হালনাগাদ করা ভোটার তালিকাতে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ভোটারের পরিমাণ।

গত বছরের ৩১ জানুয়ারি হালনাগাদকৃত এ তালিকানুযায়ী ৩ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৭৩৭ জন। আর নারী ভোটার ৫ হাজার ১৫০ জন।

বর্তমান কাউন্সিলর এস এম আবজাদ হোসেন গতবার পেছনে ফেলেছিলেন দুইবারের কাউন্সিলর আব্দুল খালিককে। এবারও তিনি বিজয় ধরে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নোট: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে শীর্ষবিন্দু নিউজে ‘সিসিক নির্বাচনী হালচাল‘ প্রকাশিত হবে ধারাবহিকভাবে। এতে যে কোন কেউ এ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য বা খবর দিয়ে শীর্ষবিন্দুকে সহায়তা করতে আহবান জানানো যাচ্ছে। ইমেইল: news@shirshobindu.com

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close