Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

নগরজুড়ে অসহনীয় যানজট: মোটর সাইকেলকে দায়ী করছে ট্রাফিক পুলিশ

জীবন পাল: একদিকে প্রচন্ড গরম,মানুষের ভিড় অন্যদিকে যানজট। জিন্দাবাজার,নাওরপুল,বন্দর,তালতলাসহ সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অসহনীয় যানজট লেগেই থাকছে।

কখনো কখনো সেই সব এলাকার যানজট ছুটতে সময় লেগে যাচ্ছে আধাঘন্টারও বেশি এই যানজটটা যে শুধুমাত্র ঈদকে ঘিরে তা কিন্তু নয়। প্রায় পুরো বছর ধরেই সিলেট নগরে যানজট লেগে থাকে। আর এই যানজট বাড়ার প্রধান কারন হিসেবে মোটর সাইকেলকেই দায়ী করছেন কর্তব্যরত ট্রাফিকরা

কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশদের সাথে কথা বলে জানা গেল, ঈদকে ঘিরে বর্তমানে যানজটটা অন্য সময়ের তুলনায় বেড়েছে। যে যানজট সকাল ১১টা থেকে ইফতার পূর্ব মুহূর্ত এবং সোয়া ৮টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। তারপর রাস্তা পুরোটাই ফাঁকা হয়ে যায়।

জিন্দাবাজারে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ কন্সটেবল মোস্তাক জানান, যানজট বাড়ার একটা বড় কারন অবাধে মোটর সাইকেল চলাচল। বর্তমানে মোটর সাইকেলটা অধিক হারে বেড়ে চলেছে। এই সব মোটর সাইকেল চালকরা ট্রাফিক আইন মানছেন না

তিনি বলেন, এটা কন্ট্রোল করতে আমরা পারতাম,যদি না এসব সব মোটর সাইকেল আটকানোর সাথে সাথে উপর মহল থেকে ছেড়ে দেওয়ার তদবিরটা না আসতো। তবে, এর নিয়ন্ত্রনে শক্ত অবস্থান নিতে পারলে অনায়াসেই যানজটটা নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে বলে মতবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মোটর সাইকেলের পাশাপাশি যত্রতত্র ফুটপাতের দোকান,ওয়ান ওয়েতে সরকারী গাড়ি উল্টো দিকে চলাচল করা এবং রাস্তার ধারে অর্ধেক রাস্তা দখল করে যেখানে সেখানে গাড়ি দাড় করিয়ে রাখাটাকে যানজট বাড়ার কারণ হিসেবে উল্ল্যেখ করেন কর্তব্যরত এই ট্রাফিক পুলিশ

নিজের দায়িত্বের কথা বলতে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশ মোস্তাক বলেন, ট্রাফিক পুলিশের চাকুরীটা বিরতিহীন গাড়ির মত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়। তাই আমাদের মাথাটা ফ্রিজের মত ঠান্ডা রাখতে হয়। হার্ড ডিউটির কারনেই মাঝে মধ্যে মাথা গরম হয়ে যায়।

অনেক সময় হাতাহাতির মত ঘটনা ঘটে থাকে। তার মধ্যে মাঝে মধ্যে যদি অন্যদের কারনে দেখি যানজটটা বেড়ে যায় তখন মাথা গরম হয়ে যায়। যারা যানজট সৃষ্টি করে মাঝে মধ্যে তাদেরকে বলতে ইচ্ছে করে তারা যেন ঘন্টার জন্য আমাদের ডিউটি করে দেন

এদিকে ট্রাফিক আইন না মানা,মোটর সাইকেল অবাধ চলাচল যানজট বাড়ার প্রধান কারন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আব্দুল মান্নান নামক এক পথচারী।

মান্নান বলেন, একদিকে অসহ্য গরম,তার মধ্যে কিছুক্ষন পর পর ধরনের যানজট লেগে থাকাটা সাধারন মানুষদের জন্য বাড়তি একটা কষ্ট বলতে হয়। কর্তৃপক্ষকে সাধারন মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে যানজট নিয়ন্ত্রনে অতি দ্রুত কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত।

অন্যদিকে রাস্তার পাশে ফুটপাতের অসংখ্য দোকান থাকাটাকেই যানজটের প্রধান কারন হিসেবে উল্ল্যেখ করেছেন ৩০ বছর ধরে নগরীতে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে যাওয়া রিকশা চালক আজির উদ্দিন

আজির উদ্দিন বলেন, ঈদের বাজারের কারনে মানুষ বেশি,গাড়িও বেশি। তবে ফুটপাতের পাশাপাশি যানজট বাড়োচ্ছে সিএনজিগুলো। সিএনজিগুলো চালকগুলো ইদানিং রাস্তাটাকে তো তাদের ষ্টেশন বানিয়ে ফেলেছে।

তাছাড়া রাস্তার পাশে লাইন করে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি দাড়িয়ে থাকার ফলেও যানজট বাড়ছে। গত ১০ বছর এই যানজটটা অতিরিক্ত হারে বেড়েছে

ঈদ সিজনে মানুষ অতিরিক্ত যার জন্য যানজট বেড়েছে বলে নিজের মতামত ব্যক্ত করলেন শান্ত আহমেদ নামের এক ফুটপাত হকার। যিনি ২০০১ সাল থেকে ফুটপাতে এই হকারের ব্যবসা করে আসছেন। তার মতে, রিকশা,সিএনজি রাস্তায় দাড় করিয়ে রাখাটাও যানজট বৃদ্ধির আরেকটা কারণ

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close