Featuredইসলাম থেকে

যেভাবে কাজে লাগাবেন রমজানের শেষ সময়

ইসলাম থেকে ডেস্ক: বিদায় নিচ্ছে মাহে রমজান। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের এই মোবারক মাস। শেষ সময়ে আসুন আলোচনা করি এমন কিছু বিষয় নিয়ে, যা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জান্নাতের পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।

. সময়কে গুরুত্ব দিন

রমজানের প্রতিটি মুহূর্তই অনেক দামি। ১১ মাস প্রতীক্ষার পরে আসে বরকতময় এই মাস। মহিমান্বিত এর প্রতিটি মুহূর্ত। তাই খেয়াল রাখা দরকার যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয় একটি সেকে-।

বিশেষ করে রমজানের শেষ সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সে সময়গুলো যাতে মার্কেটে ঘুরে আর শপিং করে নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাজ সমাধা করুন।

. আমলগুলো যথাযথভাবে করুন

রমজানের প্রধানতম আমল হচ্ছে -রোজা রাখা। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ সবল প্রতিটি মুসলমানের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। প্রতিটি রোজার হক আদায় করে রাখতে হবে। পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা।

অন্য সময় জামাতের সাথে নামাজ আদায় করতে না পারলেও রমজান মাসে জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন। এবং বিশ রাকাত খতম তারাবিতে শরিক হোন। তারাবিহ বিশ রাকাত না আট রাকাত সেই বিতর্কে না জড়িয়ে বিশ রাকাত আদায় করার চেষ্টা করুন। ইবাদত যত বেশি করা যাবে, নেকির পাল্লা ততই ভারি হবে কোনও সন্দেহ নেই।

. নফলের প্রতি যত্নবান হোন

রমজানের রোজা এবং অন্যান্য ফরজসমূহ আদায় করার পর নফলের প্রতিও যত্মবান হওয়া উচিত। অন্য সময় নফলের তেমন সুযোগ হয় না। তাই কমপক্ষে রমজানে এর প্রতি যতœবান হোন। নামাজের মধ্যে সর্বোত্তম নামাজ হচ্ছে তাহাজ্জুতের নামাজ। রাসুল (সা.) সারা জীবন এই নামাজ পড়েছেন। অন্যান্য সময় এর সুযোগ হয়ে ওঠে না। অন্ততপক্ষে রমজানের রাতে এই সুযোগ কাজে লাগান। সেহরির জন্য তো উঠতেই হয়। চেষ্টা করুন কিছুটা আগে ওঠার। তাহাজ্জুদের নিয়তে কয়েক রাকাত নামাজ আদায় করে নিন। ইচ্ছা করলেই সম্ভব। দু’রাকাত হলেও পড়ুন।

. বেশি বেশি তিলাওয়াত করুন

রমজান মাসের সঙ্গে কুরআনের এক বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহ কুরআন অবতরণের জন্য এই মাসকে নির্বাচন করেছেন। প্রিয়নবী (সা.) হজরত জিবরিল আ.-এর সহিত কুরআনুল কারিমের দাওর করতেন। ইমাম আবু হানিফা রহ. রমজান মাসে প্রতিদিন দুবার কুরআন খতম করতেন। এভাবে শুধু এক মাসে ষাটটি খতম করতেন। কিন্তু এটা জরুরি নয়, প্রতিদিন একবার কুরআন খতম করা লাগবে। তবুও নিজের শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী যত বেশি সম্ভব কুরআন তিলাওয়াত করুন। কুরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ না থাকলে এখনই শুদ্ধ করার উদ্যোগ নিন।

. গুনাহ থেকে বিরত থাকুন

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন: ‘এ মাসের প্রতিরাতে একজন ঘোষণাকারী এই বলে আহ্বান করতে থাকে যে হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী, তুমি আরও অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের পথিক, তোমরা অন্যায় পথে চলা বন্ধ করো। (তুমি কি জানো?) এ মাসের প্রতিরাতে আল্লাহ তায়ালা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। (তিরমিজি- ৬৮৪)

এই মাস এমনভাবে কাটানো উচিত, কোনও গুনাহই যেন না হয়। নিজের হাত, পা, মুখ, চোখ, কান ও মস্তিষ্ক সবকিছুকেই গুনাহ থেকে রক্ষা করুন। সংকল্প করুন, রমজানে গুনাহর নিকটেও যাবো না। এ সংকল্প থাকলে রোজার হাকিকত ও তাৎপর্য লাভ হবে।

তাছাড়া আল্লাহ তায়ালা এই মাসে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সহজও করে দিয়েছেন। কেননা, এই মাসে শয়তানদের বন্দি করে রাখা হয়। তাদের প্ররোচিত করার যোগ্যতা বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়। তাই রমজান মাসে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাটাও তুলনামূলক সহজ।

. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমান

বর্তমানে সবাই কমবেশি সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে থাকলে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। শুধু সময় নষ্টই হয় না, বিভিন্ন ধরনের অপ্রয়োজনীয় এবং গুনাহের কাজ এর মাধ্যমে হয়ে থাকে। ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ফেসবুকিং চেটিং-এ লিপ্ত থাকা রোজাদারের জন্য কাম্য নয়। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সীমিত করা উচিত। অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার থেকে বেঁচে থাকা উচিত।

. সাদকা জাকাত আদায় করুন

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত (মুসলিম-৩২০৮)। এ মাসে যত বেশি দান করা হবে ততবেশি সাওয়াবের অংশীদার হওয়া যাবে। এবং রমজানে জাকাত আদায় করুন।

জাকাতের জন্য আল্লাহ বিশেষ কোনো মাস নির্ধারণ করেননি। তারপরও জাকাত রমজান মাসে আদায় করা উত্তম। এই মাসে এক ফরজের সওয়াব সত্তরগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। যেন এই মাসে এক টাকা খরচ করা অন্য মাসে সত্তর টাকা খরচ করার সওয়াব হবে। অতএব, যার জিম্মায় জাকাত ফরজ সে যেন এই মাসে অবশ্যই জাকাত আদায় করে।

. বেশি বেশি দোয়া করুন

রমজানুল মুবারকে দোয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিন। ইফতারের সময় দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ও দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। সেহরির সময় দোয়া কবুল করা হয়। যেন রমজানের চব্বিশ ঘণ্টা আল্লাহর পক্ষ থেকে কবুলিয়্যাতের দরজা উন্মুক্ত থাকে।

অতএব, ব্যক্তি সংশোধন, নিজ পরিবার-পরিজন এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য বেশি বেশি দোয়া করুন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close