Featuredস্বদেশ জুড়ে

কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ মৌলভীবাজারের বন্যায়

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের রাজনগরে সাম্প্রতিক বন্যায় কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ঈদুল ফিতরের আগেরদিন শুক্রবার রাতে মনু নদীর বাঁধ প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙনের কারণে উপজেলার মনসুরনগর কামারচাক টেংরা ইউনিয়নের এসব কাঁচা ঘর পুরোপুরি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নষ্ট হয়েছে ঘরে থাকা আসবাবপত্র।

সরেজমিনে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কোন রকমে দরিদ্র মানুষের বসতঘর তৈরীর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কৃষি, সবজি ক্ষেত সবই নষ্ট হয়েছে। চরমক্ষতি হয়েছে গবাদিপশু, হাসমুরগীর খামারের। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো শরনার্থী থাকায় আগামী জুলাই হতে শুরু হওয়া অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীঅভিভাবকদের মধ্যে আশঙ্কা সৃষ্ঠি হয়েছে। বন্যার দুষিত পানির কারনে বিভিন্ন বয়সি মানুষের মধ্যে চর্মরোগসহ নানান পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গোখাদ্য পানিয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে।

আশ্রাকাপন গ্রামের আওরতি রানী মালাকার (৩০) মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙনের তোড়ে ভেসে যাওয়া ঘর ঠিক করতে করতে প্রতিবেদকে জানানকিলা বাছতাম ভাই কউকা, ইলা পানি জীবনেও দেখছিনা। ঘর থাকি বারইতে বারইতে (বের হতে) সবতা বুরাইলাইছে (ডুবিয়ে ফেলেছে) কুনু উপায় না দেখিয়া লঙ্গুরপুলের যাত্রী ছাউনীত আশ্রয় নিছি।

মনসুরনগর ইউনিয়নের মালিকানো গ্রামের সুক্তি রানী মালাকার (৪০) বলেন, ঈদের দুইদিন আগে থেকেই পানি বাড়ছিল। ভাঙন না দেয়ায় আমাদের তেমন সমস্যা হচ্ছিল না। তবে ভয়ে ছিলাম। ঈদের আগেরদিন শুক্রবার রাতে আকস্মিক খবর পাই মনু নদীর বাঁধে ভাঙন দিয়েছে। দেখতে দেখতে পানি এসে যায় বাড়ির সামনে। কোন রকম ঘর থেকে বের হয়ে কদমহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় নিয়েছি। পানি কমেছে, কিন্তু ঘর ঠিক না করে বাড়ি যেতে পারছি না। আশ্রয় কেন্দ্র থেকে গিয়ে ঠিক করছি। মনু নদীর ভাঙনে মনসুরনগর ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের সবকটিই তলিয়ে যায়। আকস্মিক অস্বাভাবিক পানি হওয়ায় ইউনিয়নের প্রায় হাজারেরও বেশি বাড়িঘর পুরোপুরি বা আংশিক ভেঙ্গে গেছে। ঘর না থাকায় মানুষ এখনো বাঁধে ঝুপড়ি বানিয়ে বাস করছে।

মনসুরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত জানান, বাধেঁর কাছে গেলে বুক ধরানো যায় না। সমস্থ ইউনিয়নের প্রায় থেকে সাড়ে হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। চোখে পানি এসে যায়। মানুষ খুব কষ্টে আছে। এখনই সময় সার্বিক সাহায্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। ব্যাপারে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষসহ আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এদিকে কামারচাক ইউনিয়নেরও পুরো ৪২টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। খাসপ্রেমনগর গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর বন্যার পানিতে ধ্বসে গেছে। আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ফিরে মানুষ খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। ঘর ঠিক করার সামর্থ তাদের কাছে নেই। ওই গ্রামের শামছু মিয়া (৫০) বলেন, এতো তাড়াতাড়ি পানি বাড়বে কে জানতো। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি থেকে তেমন কিছু নিয়ে যেতে পারিনি। ঢেউয়ের কারণে ঘর ধ্বসে গেছে। তারাপশা আশ্রয়কেন্দ্রে মৌলভীরচক গ্রামের আফরুজ মিয়া, মরিচা গ্রামের কনিজা বিবি, পালপুর গ্রামের দিপক দত্ত জানান, তাদের ঘর সম্পুর্ণ ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু কীভাবে ঠিক করবো। ধার দেনা ছাড়া উপায় নাই। এবারের বন্যায় সাধারণ মানুষের কাঁচা ঘরগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অসহায় দিনমুজুর মানুষেরা পড়ছে মহাজনের ঋণের জালে। মাথা গুজার সংগ্রাম তাদেরকে ঠেলে দেবে অনিশ্চত ভবিষ্যতের দিকে

কামারচাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিম বলেন, বন্যার কারনে মানুষের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো পুরোপুরি হিসাব করা হয়নি। যা দেখেছি তাতে হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বসে গেছে বলেই ধারণা করছি।

এদিকে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম সম্পুর্ণ বন্যা কবলিত হয়ে চরম ক্ষতি সাধিত হয়েছ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান টিপু খান জানান, টেংরা ইউনিয়নের মনু তীরবর্তী ১০টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ সব হারিয়ে নিঃস্ব। দরিদ্র এসব মানুষ তাদের প্রায় সহস্রাধিক ক্ষতিগ্রস্থ ঘরবাড়ি নির্মানে জরুরি সাহায্যের প্রয়োজন। ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ব্যাপারে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসি আক্তার বলেন, আপাতত ২শ টি ঘর তৈরীর জন্য অর্থ বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। দ্রুত এগুলো উপযুক্তদের মধ্যে বন্টন করা হবে। বাকিদের বরাদ্ধ আসলে পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।

এছাড়াও এখন পর্যন্ত আমরা পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্ধ পেয়েছি এবং তা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণ করে যাচ্ছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িঘরের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পরবর্তী বরাদ্ধ পেলে দ্রুত পূনর্বাসনের কাজ শুরু করা হবে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close