যুক্তরাজ্য জুড়ে

যুক্তরাজ্যে অভিবাসী সংকটে বাংলাদেশীদের সংখ্যা বেশি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: অভিবাসীদের নানা সমস্যা সমাধানের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের গঠিত টাস্কফোর্সের কাছে অভিযোগ দায়েরকারীদের একটি বড় অংশই বাংলাদেশি।

অভিযোগকারীদের অনেকেই আইনি বাধার কারণে যুক্তরাজ্যের নাগরিক হতে পারেনি। একারণে সেখানে বসবাস, কাজের অনুমতি, এমনকি চিকিৎসা সেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এসব মানুষ।

১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে হাজার হাজার শ্রমিককে যুক্তরাজ্যে আনা হয়। তাদের কিছু উত্তরাধিকারীদের এখনও দেশটির কঠোর অভিবাসন নীতির দোহাই দিয়ে কাজ থেকে বিরত রাখা হচ্ছে।

তবে কিছুক্ষেত্রে এসব ক্যারিবিয়ান অভিবাসীদের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হয় না। তাদের কাজ করা থেকে বিরত থাকতে ও তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। সম্প্রতি বিষয়টি আলোচনায় আসলে দেশের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনার মুখে পড়ে যুক্তরাজ্য সরকার।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিবাসীদের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানানোর জন্য নতুন একটি হেল্পলাইনও চালু করা হয়। আর এই হেল্পলাইনেই ক্যারিবিয়ানসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকরাও তাদের সমস্যার কথা জানান।

এই সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা তালিকায় দেখা যায় সারাদেশ থেকে মোট ১৬২ জন তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন। দেশভিত্তিক এই তালিকায় ৯৩ জনই ক্যারিবিয়ান, বিশেষ করে জ্যামাইকা থেকে আসা অভিবাসী।

ক্যারিবিয়ান ছাড়া অন্য দেশগুলোর মধ্যে ৫২ শতাংশ অভিবাসী এসেছেন নাইজেরিয়া থেকে। তারপরই আছে বাংলাদেশিদের নাম। তাদের সংখ্যা ১৫ শতাংশ। তালিকার অভিযোগকারীদের মধ্যে ছয়জন গ্রানাডা, চার জন পাকিস্তান, তিন জন  অস্ট্রেলিয়া ও দুই জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

এই হিসাবে দেখা যায়, ক্যারিবিয়ান ছাড়াও অভিবাসীদের একটি বিশাল অংশ ১৯৭৩ সালে পরিবর্তিত অভিবাসন আইনের কবলে পড়ে দেশজুড়ে উইনদ্রুশ জাতীয় সমস্যায় ভুগছেন।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসী কল্যাণ বিষয়ক যৌথ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী সাটবির সিং বলেন, ‘কমনওয়েলথ দেশগুলো থেকে ১৯৭৩ সালের আগে আসা যে কেউ উইনদ্রুশ প্রজন্মের মতো অনিশ্চয়তা ও সমস্যায় পড়তে পারেন’।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অধিকাংশ অভিযোগই ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূতদের কাছ থেকেই এসেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, উইনদ্রুশ প্রজন্মের মানুষের কষ্টের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।

১৯৭৩ সালে কমনওয়েলথভুক্ত যেকোনও দেশের নাগরিককে যুক্তরাজ্যে আসার জন্য নতুন ভিসার জন্য কঠোর আইন করা হয়। আইনটি হওয়ার আগেই যুক্তরাজ্যে যাওয়া অভিবাসীদের কাছে নতুন কাগজপত্র না থাকায়, তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ কাজ করার অনুমতি পায়নি। তাদের যুক্তরাজ্যে বসবাস করার অধিকার না দেওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবাও দেওয়া হয় না।

এছাড়া, তাদের প্রতিনিয়ত দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়ে থাকে। এমন ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই জ্যামাইকান বংশোদ্ভুত।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত নাগরিক সাজিদ জাভিদ গত সপ্তাহে হাউস অব কমন্সকে বলেছেন, একই ধরনের প্রভাব কমনওয়েলথভুক্ত অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ওপরও পড়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আমার বাবা-মা ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে এদেশে আসা অন্যরাও একই সমস্যায় পড়তে পারেন।’

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক যুক্তরাজ্যের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির তথ্যমতে, কমনওয়েলথ দেশগুলোতে জন্ম নেওয়া প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ ১৯৭০ সাল বা তার আগ থেকে যুক্তরাজ্যে বাস করে আসছেন। তারা এখনও ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে নথিভুক্ত হননি।

আনুমানিক হিসাবে তাদের মধ্যে ১৫ হাজার জ্যামাইকান, ১৩ হাজার ভারতীয় ও ২৯ হাজার অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন। এই ২৯ হাজারের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্সের কাছে অভিযোগকারীদের ১৫ শতাংশ মানে বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকও যুক্তরাজ্যে তাদের অভিবাসন মর্যাদা নিয়ে একই ধরনের অনিশ্চয়তায় আছেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close