Featuredসিলেট থেকে

সিসিক নির্বাচনী হালচাল: নির্বাচন নিয়ে আমেজে সিলেট (পর্ব-৫)

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর মঙ্গলবার প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।

তবে সিলেটে বিএনপি’র রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী পাল্টা প্রার্থী দেয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

কারণ বিগত নির্বাচনগুলোতে প্রার্থিতা নিয়ে এতটা শক্ত অবস্থান নেয়নি বিএনপির-নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামী। এবারের এই অবস্থানের কারণ কি?

এর ব্যাখ্যা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, নিবন্ধন-বাতিল-হওয়া দল জামায়াত সিলেটে পাল্টা প্রার্থী দেয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে। সিলেটে জামায়াতের এই অনড় অবস্থান জোটের রাজনীতিতে কি প্রভাব ফেলবে, সেই প্রশ্ন এখন উঠছে তাদের জোটেই।

নির্বাচন নিয়ে তিন ওয়ার্ড মিলে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ তোলে ধরা হলো সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত ১৩নং ওয়ার্ড, ১৪নং ওয়ার্ড ও ১৫নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী কার্যকলাপ।

১৩নং ওয়ার্ড: মুসলমান আর হিন্দুদের বিশাল ঐক্যের মিলন দেখা যায় সিলেট সিটি করপোরেশন আওতাধীন ১৩নং ওয়ার্ডে।

সিলেট শহরের বৃস্থতম এলাকা ঐতিহ্যের স্মারক ক্বীনব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়ি আর চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি আশপাশ নিয়ে এই নির্বাচনী এলাকারে অবস্থান। ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে গড়ে ওঠা এই ওয়ার্ডের সুনাম সিলেট শহর জুড়ে সবার জানা। এই ওয়ার্ডেরও সর্বত্র বইছে নির্বাচনী হাওয়া। পাড়া-মহল্লা, পথ-ঘাট সবখানেই নিবাচর্নী আলাপ-আলোচনা।

সিলেট নগরীর লামাবাজার, খুলিয়াটুলা, মনিপুরী রাজবাড়ি, মাছুদিঘিরপাড়, দক্ষিণ তালতলা, তেলিহাওর, কাজিরবাজার, যুগলটিলা, চাঁদনীঘাট, শেখ নাসির আলী রোডসহ তোপখানা, রামের দিঘিরপাড় এলাকা সীমানা নিয়ে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকা।

বর্তমান কাউন্সিলার শান্তনু দত্ত সন্তু অনেক জনপ্রিয় এই ওয়ার্ডে। এলাকার লোকজন তাকে হ্যাটট্রিক বিজয়ী কাউন্সিলর হিসেবে গত তিনবার নির্বাচিত করেন। এবারও আসন্ন চতুর্থ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও সন্তুর অবস্থান তুলনামূলক ভালো।

সন্তু ছাড়াও আরোও বেশ কয়েকজন প্রার্থী আছেন নির্বাচনী দৌঁড়ে। এরা হচ্ছেন সংস্কৃতিকর্মী ও তরুণ সমাজসেবক রজত কান্তি গুপ্ত, বিশ্বজিৎ দাস বিপ্লব, চন্দন রায়, আখতার হুসেন পাপ্পু, মো. জহিরুল ইসলাম ও বাবলু আহমদ।

আরো এক শক্ত প্রার্থী ওলিউর রহমান চৌধুরী সোহেল এবার নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ভোটযুদ্ধ আরোও জটিল হয়ে পড়তে পারে। তবে এই ওয়ার্ড থেকে সংস্কৃতিকর্মী রজত কান্তি গুপ্ত প্রার্থী হিসেবে থাকায় সন্তুর কাউন্সিলার পদ ধরে রাখা অনেক কষ্ট হতে পারে বলে এলাকাবাসীরা জানান।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তালিকানুযায়ী এই ওয়ার্ডের পুরুষ ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ১৪৬ জন, নারী ভোটার ৩ হাজার ৬৮০ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৮২৬ জন।

বর্তমানে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ৫শ’৬ জন। মহিলা ভোটার ৪ হাজার ৮৫ জন। মোট ভোটার ৯ হাজার ৫শ’ ৯১ জন।

১৪নং ওয়ার্ড: সিলেট শহরের অর্থনীতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যে এলাকার ওপর। এবং সেই সাথে প্রশাসনিক দিক দিয়েও সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোরই অবস্থান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অর্ন্তগত ১৪ নং ওয়ার্ড।

সুরমা নদীর তীর ঘেঁষা এ ওয়ার্ডে পাড়া-মহল্লা-অলি-গলি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব জায়গাতেই শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে চলছে হিসেব নিকেশ। কোন প্রার্থী কতটুকু যোগ্য এই এলাকার উন্নয়নে। এলাকাবাসীদের আলোচনা-সমালোচনায় এবার কাঠগড়ায় দাড়িয়েছেন এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রার্থীরা।

আর তাই বসে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোটারদের মন জয়ের জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। সবাই নিজেকে সম্পৃক্ত রাখছেন সমাজ উন্নয়নমূলক নানা কর্মকাণ্ডের সাথে।

সিলেটের গুরুত্বপূণ স্থাপনাগুলোরই অবস্থান ১৪ নং ওয়ার্ডেই। এছাড়াও সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি অগ্রগামী বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, রাজা জিসি হাইস্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও অবস্থান এই ওয়ার্ডে।

এই ওয়ার্ডেই সিলেট নগরভবন, সিলেট জেলা জজ আদালত,  সিলেট হেড পোস্ট অফিস, সিলেট জেলা পরিষদ, সার্কিট হাউস, রেজিস্ট্রি অফিসের অবস্থান, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ সকল প্রশাসনিক স্থাপনার অবস্থান।

তাছাড়াও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত হয়েছে- জেলা জজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কারপাসটুলা, বন্দরবাজার, মহাজনপট্টি, কামালগড়, চালিবন্দরের পশ্চিমাংশ, ছড়ারপাড়, ধোপাদিঘির দক্ষিণপাড়, বহ্মময়ীবাজার, লালদিঘিরপাড়, আমজাদ আলী রোড, কালিঘাট, কাষ্টঘর, জামতলা, জল্লারপার, মির্জাজাঙ্গাল দক্ষিণাংশ ও তালতলা উত্তরাংশ ‍ নিয়ে।

শীর্ষবিন্দু প্রতিনিধির সাথে এলাকাবাসীদের এ নিয়ে বিস্তারিত আলাপকালে জানা যায়, ছড়ারপার এলাকার অত্যন্ত সম্ভান্ত পরিবারের ছেলে বর্তমান কাউন্সিলার কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম। শরীরিক অসুস্থতা নিয়ে দেশে-বিদেশে তার অনেক সময় কেটে গেলেও নিজ নির্বাচনী এলাকার রয়েছে তার আলাদা একটা জনপ্রিয়তা। অবশ্য তার পারিবারিক একটা পরিচয় রয়েছে। গরীব-দু:খীদের দেখভালে তার বাবা যেভাবে দুহাত বিলিয়ে ‍দিতেন তিনিও তার বাবার পথ অনুসরণ করে চলেছেন।

তবে এবার মুনিমের ভাগ্যে অনেকটা ভাগ বসাতে পারেন নতুন প্রার্থী হাবিবুর রহমান মজলাই, রঞ্জিত চৌধুরী কমু ও মো. সাঈদী আহমদ। নতুন প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় পিছিয়ে নেই এই তিন প্রার্থী। এবারের নির্বাচনে এই কয়েকটি নতুন মুখ চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন মুনিমকে।

নির্বাচনেও মুনিম সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। আগের নির্বাচনে মুনিমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ছিলেন আবরার আহমদ দুলাল। তবে এবার তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে কাউন্সিলর থাকার পরও তিনি আগেরবারই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তালিকানুযায়ী এই ওয়ার্ডের পুরুষ ভোটার ছিলেন ৪ হাজার ৯২৮ জন, নারী ভোটার ছিলেন ৩ হাজার ৬শ’ ৮ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৫শ’ ৩৬ জন।

বর্তমান হালনাগাদকৃত তালিকানুযায়ী, বর্তমান পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ১শ’ ৬৩ জন। মহিলা ভোটার ৩ হাজার ৭শ’ ৫৫ জন। মোট ভোটার ৮ হাজার ৯১৮ জন।

১৫নং ওয়ার্ড: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১৫ নং ওয়ার্ডে চলছে নির্বাচনী আমেজ যা পুরো নগরজুড়েই একই চিত্র।

আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই এলাকার ভোটারদের মনজয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে কাউন্সিলর প্রার্থীদের। অন্যান্য বারের মতো এবারও এই ওয়ার্ডে প্রার্থী কম।

এবারের নির্বাচনে মুখোমুখি হবেন গত টানা দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান শওকত ও বর্তমান কাউন্সিলর ছয়ফুল আমিন বাকের। এই দুইজন ছাড়াও আরোও কয়েকজন নতুন প্রার্থী আছেন এই ওয়ার্ডে।

এই ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর এই দু’জন ছাড়া অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন- আব্দুল গফফার, শেখ মফিজুর রহমান ও ইফতেখার আহমদ সুহেল। গত সিটি নির্বাচনে সাবেক কাউন্সিলর শওকতকে পরাজিত করে এ ওয়ার্ডে চমক সৃষ্টি করেন বর্তমান কাউন্সিলর বাকের। তবে এবার শওকতের পাল্লা ভারী বলে জানা যায়।

এই ওয়ার্ডের অবস্থান সিলেট নগরীর- সোবহানীঘাট, মিরাবাজার দক্ষিণ, নাইওরপুল, যতরপুর, জয়নগর ও নয়াপাড়া, পুরানলেন, বারুতখানা, জেলরোড, বেতবারটুলা, পঞ্চখানা, নন্দাইপট্টি, পর্বতখানা, লালবাজার, ধোপাদিঘির পূর্বপাড়, চন্দানীটুলা, চালিবন্দরপূর্ব এলাকা জুড়ে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকানুযায়ী এই ওয়ার্ডে নারী ভোটার ছিলেন ৩ হাজার ৯২৪ জন। আর পুরুষ ভোটার ছিলেন ৫ হাজার ১৪৩ জন। মোট ভোটার সংর্খ্যা ছিল ৯০৬৭।

তবে এবার তা হালনাগাদ করে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক মোট পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ৫৪৪ জন, মহিলা ভোটার ৪ হাজার ৩৬৫ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৯০৯ জন।

নোট: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে শীর্ষবিন্দু নিউজে ‘সিসিক নির্বাচনী হালচাল‘ প্রকাশিত হবে ধারাবহিকভাবে। এতে যে কোন কেউ কোন তথ্য বা খবর দিয়ে শীর্ষবিন্দুকে সহায়তা করতে আহবান জানানো যাচ্ছে। ইমেইল: news@shirshobindu.com

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close