Featuredদুনিয়া জুড়ে

ট্রাম্পের গ্রেট এজেন্ডা পুতিন: আমেরিকা নয়

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা নয়, পুতিনকে গ্রেট বানানো’র এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন বা আমেরিকাকে মহান করে তোলার প্রচারণার মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় এলেও শুরু থেকেই দেশের স্বার্থবিরোধী নানা কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র রাষ্ট্রগুলোসহ পুরো বিশ্ব থেকে এরই মধ্যে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন তিনি। উল্টোদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চিরশত্রু রাশিয়ার সঙ্গে গলা মেলাচ্ছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করেছেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে দূরত্ব বাড়িয়েছেন তিনি। এমনকি আরেক শত্রু রুশ মিত্র উ. কোরিয়ার ওপরেও হঠাৎ করেই নরম হয়ে গেছেন।

আর সেটাও এই ‘ঐতিহাসিক মিলনের’ ঠিক পরদিনই। চলতি সপ্তাহে ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক শীর্ষ বৈঠকে তা আবার প্রমাণ করলেন তিনি।

২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল- শুরু থেকেই এই অভিযোগ করে আসছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। তারা বলছেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে ফল পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করেছিল রুশ হ্যাকাররা। জনমত পাল্টে দিতে ভুয়া খবরও ছড়ানো হয়। অভিযোগের ব্যাপারে গত দেড় বছর ধরে তদন্ত করে ১৭টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সবগুলোই একমত হয়েছে, নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল।

বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে এসব অভিযোগ তুলবেন ট্রাম্পের পক্ষে সেটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তার কথায় এর ছিটেফোঁটাও ছিল না। বরং হস্তক্ষেপের ব্যাপারে পুতিনের কথায় সায় মিলিয়ে বলেছেন, মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি রাশিয়া। নিজ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার ওপর আস্থা রাখেননি ট্রাম্প, রেখেছেন পুতিনের ওপর।

কিন্তু দেশে ফিরে আসার পর বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি ছাড়াও নিজের দল রিপাবলিকানদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। নিজ দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্টকে হেয় করে পুতিনের পক্ষ নেয়ায় তার বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসেও ক্ষোভ দেখা দেয়।

রিপাবলিকানদের হাউস স্পিকার পল রায়ান, সিনেটর জন ম্যাককেইনের মতো ব্যক্তিদের সমালোচনার পর আগের অবস্থান থেকে ফিরে এসে এখন তিনি বলছেন, নির্বাচনের রাশিয়ার হাত ছিল। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ভুল করে।

পুতিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি যা বলেছেন তা ছিল ‘মিস-স্পেকেন’ অর্থাৎ ভুল করে বলা।সর্বশেষ বক্তব্যে বুধবার তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর তার পূর্ব বিশ্বাস ও সমর্থন রয়েছে। যদিও তিনি ভ­াদিমির পুতিনের নিন্দা জানাবেন কিনা, সেই প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি ট্রাম্প।

গত ১৮ বছর ধরে রাশিয়াকে একহাতে শাসন করছেন পুতিন। এই সময়ে ইউক্রেনের কাছ থেকে অবৈধভাবে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা, জর্জিয়াকে সামরিক আক্রমণ করা, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র পূর্ব ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর মতো ন্যক্কারজনক কাজ করেছেন।

এছাড়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার একনায়ক বাশার আল আসাদকে সামরিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন তিনি। কিন্তু গত সোমবারের বৈঠকে এসব কোনো বিষয় তোলেননি ট্রাম্প। বৈঠকের পর এক সাক্ষাৎকারে পুতিনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, পুতিন খুবই খুবই শক্তিশালী নেতা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close