Featuredদুনিয়া জুড়ে

সৌদি-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবে অর্থনৈতিক কার্মকাণ্ড বাড়ছে। এর অংশ হিসেবে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

ফলে উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি তা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সদ্যসমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকোনমিক উইং থেকে পাঠানো বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

৩ জুলাই দূতাবাস থেকে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি)। এতে গত অর্থবছরের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং সফরের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এসব কার্যক্রমের ফল দেশীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ প্রসঙ্গে ইআরডির একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। সেখান থেকেই বেশি রেমিটেন্স আছে।

তাছাড়া সেখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যও রয়েছে। সেই সঙ্গে সৌদি আরব বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নও করছে। সবকিছু মিলে দেশটি এদেশের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া গত অর্থবছর সৌদি আরবের সঙ্গে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনে চুক্তি হয়েছে।

হাওর আছে এমন ১০টি উপজেলায় স্কুল তৈরির বিষয়ে একটি প্রতিনিধি দল আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে।

সূত্র জানায়, সৌদি দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের আওতাধীন সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকোনমিক উইং ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন কার্য সম্পন্ন করেছে।

এ সময় সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের (এসএফডি) সঙ্গে পুরনো ১০টি প্রকল্পের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা ও চিঠি আদানপ্রদান হয়েছে। এছাড়া চলমান ৬টি, পাইপলাইনে ১টি এবং নতুন ৪টি প্রকল্পের জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

২০১৭ সালের মে’তে এবং চলতি বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের সময় ইকোনমিক উইং, রাষ্ট্রদূত কর্তৃক প্রদত্ত কনসুলার উইং, ডিপ্লোমেটিং, লেবার, কমার্শিয়াল উইংয়ের কার্যাবলি যথাযথভাবে সম্পন্ন করে। এছাড়া অর্থমন্ত্রীসহ ইআরডির সচিব ও অতিরিক্ত সচিবসহ অন্য কর্মকর্তাদের সফর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছর, ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন গৃহীত কার্যাবলির ধারাবাহিকতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জুন পর্যন্ত ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

এজন্য ইকোনমিক উইংয়ের কাজের পরিধি স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) পরিচালনার পর্ষদে বাংলাদেশ পুরো এক বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালটি চারটি দেশের গ্রুপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।

ইআরডির সচিব কাজী শফিকুল আযম ৬টি বোর্ড সভায় অংশ গ্রহণ করেছেন। ইকোনমিক উইং সাফল্যজনকভাবে স্থানীয় সহায়তা প্রদান করে। ২০১৭ সালের মার্চে দ্বিতীয়বার জয়েন্ট কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা একটি বিশেষ অর্থনৈতিক কূটনীতির সাফল্যের উদাহরণ।

তাছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রেমিটেন্সসহ বেসরকারি অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- বাংলাদেশে সৌদি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল প্রেরণ, বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ প্রতিনিধি প্রেরণ করে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে।

বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কমে যাওয়ায় এবং পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ভিশন-২০৩০ এবং এনটিপি-২০২০ (ন্যাশনাল ট্রান্সপোটেশন প্লান) ঘোষিত হওয়ায় এর আওতায় সৌদি আরবের গৃহীত কার্যাবলি, এসব কার্যক্রমের ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক এবং তৎপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close