Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

জোরপূর্বক মেয়েকে বিয়ে যুক্তরাজ্যে মা-বাবার ৮ বছরের কারাদণ্ড

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে নিয়ে কিশোরী কন্যাকে জোরপূর্বক তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন মা-বাবা। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মা-বাবাকে মোট আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত।

আইনগত কারণে নাম প্রকাশ না করা মা-বাবাকে গত মে মাসে যুক্তরাজ্যের জোরপূর্বক বিয়ে প্রতিরোধ আইনের আওতায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

সোমবার তাদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। ওই বাবাকে সাড়ে চার বছরের ও মাকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জোরপূর্বক বিয়ে দিতে সহিংসতার ব্যবহার, হুমকি ও বলপ্রয়োগের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এই দণ্ড ঘোষণা করা হয়।

চলতি বছরের শুরুতে বিচারক জানতে পারেন, ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে ঈদের ছুটি কাটানো ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলে ছয় সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশে নিয়ে যান ওই তার মা-বাবা।

এর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে ওই বিয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ওই কিশোরীকে সহিংস আচরণের হুমকি দেন। তার বাবা তাকে বলেন যে, তিনি তার গলা কেটে ফেলবেন।

উত্তর ইংলান্ডের লিডসে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা ওই কিশোরীর বয়স বর্তমানে ২০ বছর। সোমবার আদালতে পড়ে শোনানো বিবৃতিতে তিনি সেই সময়ে তার পরিবার ও সম্প্রদায়ের হাত থেকে বাঁচতে কিভাবে পালিয়েছিলেন তার বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমাকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। তবে ওই দানবেরা কারাগারে যাচ্ছে জেনে, হৃদয়ে অপার স্বাধীনতা অনুভব করছি। আমি চাই অন্য মেয়েরাও জানুক জোর করে বিয়ে দেওয়া অন্যায়। আমি আমার সহোদর এবং অন্য যারা এমন পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তাদের জন্য একটি বার্তা দিতে পেরেছি। বড়দের জানাতে চাই এটা অবৈধ আর আপনারা পরিবারের প্রতি এমন আচরণ করতে পারেন না।’

তিনি আরও বলেন, মস্তক সমুন্নত রেখে আমি জানতে পেরেছি আমার অধিকার কী। আমাকে মা-বাবার সম্মান ও সুনাম রক্ষার শিকার হয়ে বাঁচতে হবে না। আমি লজ্জায় বাঁচবো না। আমি এখন স্বাধীন।

নিজের ছোট বোনের সাহায্যে ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনের যোগাযোগ করতে সক্ষম হন এই কিশোরী। তারাই বিয়ের কয়েকদিন আগে তাকে উদ্ধার করেন।

মা-বাবার পরিকল্পনা থেকে বাঁচতে লিডসে তার ছেলে বন্ধুকে পাঠানো ব্যাকুল মেসেজগুলোও আদালতে দেখানো হয়।

যুক্তরাজ্যে ২০১৪ সালে ‘জোরপূর্বক বিয়ে প্রতিরোধ আইন’ কার্যকর হয়। ওই আইনে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কাউকে সাজা দেওয়ার ঘটনা ঘটলো। অপর ঘটনায় পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক ব্রিটিশ নারীকে চলতি বছরের শুরুতে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই নারী তার মেয়ের দ্বিগুণ বেশি বয়সী একজনের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

যুক্তরাজ্যে জোরপূর্বক বিয়ে প্রতিরোধ ইউনিটের (এফএমইউ) তথ্যমতে, চারটি দেশে এই ধরনের বিয়ের প্রবণতা বেশি। গতবছর এ ধরনের ঘটনা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের ক্ষেত্রে ঘটেছে ৪৩৯টি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ১২৯টি, সোমালিয়ান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের যথাক্রমে ৯১টি ও ৮২টি।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close