Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

ইস্যূ ব্রেক্সিট: চার ব্রিটিশ মন্ত্রীর পদত্যাগ

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন চুক্তি চূড়ান্ত করতে নিজের দলের অধিকাংশ মন্ত্রীর সমর্থন পেয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। কিন্তু তার পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে পদত্যাগ করেছেন চার মন্ত্রী।

এদের মধ্যে রয়েছেন স্বয়ং ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক রাব। গত জুলাই মাসে ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস ব্রেক্সিট পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হতে না পেরে পদত্যাগ করেছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, পদত্যাগ করা অপর তিন মন্ত্রী হচ্ছেন: স্টেট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনসন মন্ত্রী এসথার ম্যাকভে, ব্রেক্সিট মন্ত্রণালয়ের আরেক মন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভেরম্যান এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শৈলেশ ভারা। পদত্যাগ করা ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক রাব

বুধবার (১৪ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে পাঁচ ঘণ্টা আলোচনার পর মে তার ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রীদের সমর্থন নিশ্চিত করতে সমর্থ হন। বৃহস্পতিবার এটি হাউজ অব কমন্সে উত্থাপিত হবে সংসদ সদস্যদের সমর্থনের জন্য। কারণ কার্যকর করতে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন পরিকল্পনাকে সংসদে পাস করানো লাগবে। ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জন্য দিন ঠিক রাখা হয়েছে আগামী ২৯ মার্চ। নভেম্বরের ২৫ তারিখে ইইউ নেতারা আবার বসবেন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের শর্তগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য।

ব্রেক্সিট মন্ত্রণালয়ে ডোমিনিক রাবকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল গত জুলাই মাসে। মের পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলবে মন্তব্য করে রাব বলেছেন, ‘আমার বলতে খারাপ লাগছে, গতকাল ব্রেক্সিট বিষয়ে মন্ত্রীপরিষদের সভা যেভাবে শেষ হয়েছে তাতে আমার পদত্যাগ করা উচিত। নির্বাচনি ইশতেহারে আমরা যে রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার সঙ্গে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন পরিকল্পনাকে আমি মেলাতে পারছি না। বিষয়টি আমার জন্য মানুষের আস্থা রক্ষা করতে পারা না পারার বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।’

পদত্যাগকারী অপর মন্ত্রী ম্যাকভে নিজে ব্রেক্সিটের দৃঢ় সমর্থক। কিন্তু তিনিও পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি মেকে লিখেছেন, ‘গতকাল আপনি মন্ত্রীপরিষদের সামনে যে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তা ব্রেক্সিট গণভোটের প্রত্যাশার সঙ্গে যায় না।’

পদত্যাগ করা আরেক মন্ত্রী ব্রেভারম্যান সুয়েলা ব্রেক্সিট মন্ত্রণালয়েরই একজন মন্ত্রী ছিলেন। পদত্যাগের পর তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘এখন আমি মন্ত্রী পরিষদের সভায় পাস হওয়া ব্রেক্সিট বিষয়ক সিদ্ধান্তকে আর মন থেকে সমর্থন করতে পারছি না।’ পাস হওয়া প্রস্তাবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে ইউরোপীয় কাস্টমস ইউনিয়নের আওতায় রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এটি যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড বিষয়ক মন্ত্রী শৈলেশ ভারা প্রধানমন্ত্রী মেকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘দুঃখের সঙ্গে আমাকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছে তা আমি সমর্থন করতে পারছি না। গণভোটে খুব সহজ একটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছিল: হয় ইইউতে থাকা হবে, আর না হয় বেরিয়ে যাওয়া হবে।

কিন্তু ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় তা হয়নি। যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তাতে ইইউয়ের শুল্কের বিষয়ে যুক্তরাজ্যকে আটকে থাকতে হবে এবং এ বিষয়ে আমাদের করার কিছুই থাকবে না।’ তিনি আরও মনে করেন, মের পরিকল্পনার বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাজ্য আবার কবে ‘সার্বভৌমত্ব’ ফেরত পাবে তা অনিশ্চিত।

ব্রেক্সিট নিতে দ্বিমতের সূত্রে পদত্যাগের ঘটনা আরও বেশ কয়েকটি ঘটেছে। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে পদত্যাগ করেন ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস।

তারপরপর ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন প্রস্তাবের শর্তের সঙ্গে একমত হতে না পেরে পদত্যাগ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। নভেম্বরের ৯ তারিখে পদত্যাগ করেন যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী জো জনসন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close