Featuredপ্রযুক্তি আকাশ

দোষ ঢাকতে অসাধু গণসংযোগ কর্মসূচী নিয়েছিলো ফেসবুক

প্রযুক্তি আকাশ ডেস্ক: ফেসবুকের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের তথ্যচুরি এবং ঘৃণামূলক তথ্য সম্প্রচারের অভিযোগ যখন ওঠে তখন গোপনে এক ঘৃণ্য গণসংযোগ কর্মসূচী নিয়েছিল ফেসবুক।

এই কর্মসূচীর আওতায় নিজেদের ঘাড় থেকে দোষের বোঝা নামিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী সামাজিক গণমাধ্যম কোম্পানীগুলোর ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

এমনকি ফেসবুকের সমালোচকদের মানহানি করে তাদের দাবিকে হেয় করার চেষ্টা করে ফেসবুক, এভাবে নিজেদের কোম্পানীর দুর্বলতা এবং অধিক মুনাফার নীতি থেকে জনগণের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

নিউইয়র্ক টাইমসে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ফেসবুকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। তবে এই প্রতিবেদনের অধিকাংশ তথ্যকেই মিথ্যে অভিযোগ বলে নাকচ করে দিয়েছে ফেসবুক।

বিবিসি জানায়, আলোচিত টাইমস প্রতিবেদনে ফেসবুকের পাঁচটি অসাধু জনসংযোগ নীতি প্রকাশ করা হয়। যার মাঝে প্রথমেই রয়েছে ফেসবুক ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া ধনকুবের জর্জ সোরসের বিরুদ্ধে ইহুদীবিদ্বেষের অভিযোগ।

দ্বিতীয়ত, সোরসের সমর্থকেরা আসলে তার আর্থিক সমর্থনপুষ্ট এমন প্রচারণা। একইসঙ্গে ফেসবুক পরিত্যাগের আন্দোলনে সমর্থনকারীদেরও ইহুদীবিদ্বেষী বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয় কো¤পানিটির অসাধু গণসংযোগে।

এছাড়াও, ফেসবুকের তৃতীয় বৃহৎ অপরাধ হলো তারা অর্থের বিনিময়ে তাদের সমালোচকদের নামে মিথ্যে নিন্দা ও অভিযোগে ভরা প্রতিবেদন ও পোস্ট লিখিয়ে নিজ সাইটে প্রকাশ করেছে বা এর প্রচারে অন্যদের উৎসাহিত করেছে।

এছাড়াও, চতুর্থধাপে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের কাছে আহ্বান জানানো হয়, ফেসবুকের সমালোচকেরা কোন বিশেষ গোষ্ঠীর অর্থ নিয়ে কাজ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে।

পঞ্চমত, এইভাবে ধর্মীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং সমালোচকদের বিপক্ষে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যের জাল বিছিয়ে একটি অবিশ্বাসের আবহ তৈরি করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি।

তবে এসকল অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ফেসবুক বলেছে তারা কখনোই সমালোচকদের ইহুদীবিদ্বেষী বলে দাবি করেনি। এই ধরণের দাবি অতীব ন্যাকারজনক বলেই জানিয়েছে তারা।

এ সময় তারা নিজেদের গণসংযোগ কর্মসূচীর বিষয়ে জানায়, আমরা সব সময় দেখাতে চেয়েছি ফেসবুক শুধু তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবহারকারীদের কোন একক প্লাটফর্ম নয় বরং সমালোচকেরাও এর অন্যতম প্রাণবন্ত অংশ।

এই বিষয়ে পরবর্তীতে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ বলেন, তিনি এবং প্রধান কার্যক্রম পরিচালক শেরিল স্যান্ডবার্গ ফেসবুক নিয়োজিত গণসংযোগ কো¤পানি ডিফাইনারের এই সকল অসাধু নীতি স¤পর্কে কিছুই জানতেন না। ভবিষ্যতে ওই কোম্পানীর সঙ্গে ফেসবুক আর কাজ করবেনা বলেও জানান তিনি।

এদিকে প্রাক্তন ব্রিটিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লার্গ যিনি বর্তমানে ফেসবুকের বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণী শাখার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন- তার অধিনেই এই সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করা হবে বলে জানায় ফেসবুক।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close