Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

কালো টাকার বিনিময়ে ব্রিটিশ ভিসা প্রাপ্তির সুযোগ বন্ধ

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: উৎসের তথ্য ছাড়াই ২০ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগের মাধ্যমে যে ব্রিটিশ ভিসা পাওয়া যেত, তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গতকাল অর্থ্যাৎ ডিসেম্বরের সাত তারিখের পর থেকে বিনিয়োগকারী ভিসা পেতে হলে অর্থের উৎস সম্পর্কে ঘোষণা দিতে হবে।

এতদিন অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করা হতো না। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্থ পাচার করে যুক্তরাজ্যের ভিসা নিয়েছেন বিতর্কিত ব্যক্তিরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অজানা উৎস থেকে আয় করা অর্থ পাচার করে ব্রিটিশ ভিসা প্রাপ্তির সুযোগ বন্ধের পাশাপাশি উৎসের তথ্য নেই এমন সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও কাজ শুরু করেছে যুক্তরাজ্য।

প্রভাবশালী রুশ পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী ব্যক্তি, এমন কি নতুন উদ্যোক্তা হওয়া চীনা নাগরিকদের অনেকেই গত দুই দশকে যুক্তরাজ্যে টায়ার ওয়ান ইনভেস্টর ভিসা গ্রহণ করেছেন।

এসব ব্যক্তি লন্ডনে ঘিরে যেন নিজেদের জন্য আলাদা এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন; কিনে নিয়েছেন দামি দামি বাড়ি থেকে শুরু করে নামি ফুটবল ক্লাব পর্যন্ত। অজানা উৎসের অর্থ বিনিয়োগ করে ভিসা পাওয়া এসব অতি ধনীদের উপস্থিতির কারণে লন্ডন এতদিন ধরে বিশ্বের দুইটি প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রের একটি হিসেবে টিকে রয়েছে।

টায়ার ওয়ান ইনভেস্টর ভিসা পেতে ২০ লাখ পাউন্ড যুক্তরাজ্যের বন্ড, শেয়ার মার্কেট বা যুক্তরাজ্যে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে হতো। কিন্তু যুক্তরাজ্য সরকার এখন পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে চায়। তাদের ধারণা, বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ টায়ার ওয়ান ইনভেস্টর ভিসায় যুক্তরাজ্যে ঢুকছে। অইউরোপীয় দেশের বাসিন্দারা বিনিয়োগের সূত্রে তিন বছর মেয়াদি ভিসা পেতেন। এ সুবিধা ডিসেম্বরের সাত তারিখের পর থেকে বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

অভিবাসন মন্ত্রী ক্যারোলাইন নোকস বলেছেন, ‘আমি এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, যারা আইন মানবে না বা  আইনের সুযোগ নেবে, তাদেরকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আর সেজন্যই আমি নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছি। এতে শুধুমাত্র প্রকৃত বিনিয়োগকারীরাই যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।’ যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এরপর থেকে যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগকারী হিসেবে যারা ব্রিটিশ ভিসা পেতে চান তাদেরকে তাদের সম্পদ বিবরণী ব্রিটিশ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরীক্ষা করিয়ে আনা লাগবে। আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, তারা কোথায়, কীভাবে বিনিয়োগ করতে চান। সরাসরি ব্রিটিশ বন্ড কেনার সুযোগ আর পাবেন না তারা। গত বছর টায়ার ওয়ান ইনভেস্টর ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন প্রায় এক হাজার ব্যক্তি।

যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি’ গত সেপ্টেম্বরে বলেছিল, দেশটিতে দুর্নীতিবাজ অভিজাতদের অজানা উৎস থেকে আয় করা অর্থের প্রবেশ ঠেকাতে তারা তৎপরতা শুরু করেছে। ‘আনএক্সপ্লেইন্ড ওয়েলথ অর্ডার্সের’ (ইউডব্লিউও) মাধ্যমে তারা অভিজাতদের হাতে থাকা অজানা উৎসের অর্থ-সম্পদ বায়েপ্তও করেছে। গত অক্টোবরে দণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যাংকারের স্ত্রীর নামে থাকা দুই কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close